১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিটি তারকা মৌমিতার বিশ্বকাপ ভাবনা

 টিটি তারকা মৌমিতার বিশ্বকাপ ভাবনা

রুমেল খান ॥ দ্রুতলয়ের খেলাগুলোর একটি হচ্ছে ‘পিং পং’। নামটা অচেনা মনে হচ্ছে? টেবিল টেনিস বা ‘টিটি’ বললে এবার নিশ্চয়ই চিনবেন। বাংলাদেশে একজন মহিলা টিটি খেলোয়াড় আছেন, যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে, অস্থিমজ্জায় মিশে আছে খেলাটি। মাত্র ১০ বছর বয়সে খেলা শুরু করে কোন বিরতি না দিয়েই ক্লান্তিহীনভাবে গত ২৭ বছর ধরে টানা খেলেই যাচ্ছেন! এবং সফলও হচ্ছেন। এই টিটি তারকার নাম মৌমিতা আলম রুমি।

এখন চলছে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। সবাই ক্রিকেট জ্বরে ভুগছে। রুমিও তাই। জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপনে ১৯৮৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে আসা রুমি জানালেন, ‘অনেক ইচ্ছে থাকলেও আঘাত পাবার ভয়ে কখনও ক্রিকেট খেলিনি! তবে খেলাটা দেখতে খুব ভাল লাগে।’ কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, এখন পর্যন্ত চলমান বিশ্বকাপের একটি খেলাও দেখে উঠতে পারেননি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করা রুমি! কারণটা হচ্ছে টিটি অনুশীলন করে ক্লান্ত হওয়ায় আগেভাগেই ঘুমিয়ে পড়া এবং পারিবারিক নানামুখী ব্যস্ততা। ‘তবে খেলা না দেখলেও প্রতিটি খেলার আপডেট কিন্তু অবশ্যই রাখি।’ দাবি রুমির।

জীবনে টিটি ছাড়া কোন খেলাই খেলেননি। আসলেই কী তাই? একটু জোরাজুরি করতেই অবশ্য রুমি জানালেন, ‘শৈশবে দাড়িয়াবান্ধা, লুডু, রান্নাবাটি, পুতুল খেলা ও ঘুড়ি উড়িয়েছি শখের বসে। আর টিটি খেলেছি সিদ্ধান্ত নিয়ে।’

বাংলাদেশ দল প্রসঙ্গে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এককে চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া (সর্বশেষ শিরোপা জিতেছেন এ বছরই) রুমির ভাষ্য, ‘মন ভরেই আশা করছি বাংলাদেশ দল এবার দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করে সেমিফাইনালে যাবে। এর আগে তারা দুটি ম্যাচে হারার পর ফেসবুকে অনেকেই মাশরাফিদের নিয়ে ট্রল করেছে। এটা অনুচিত। যারা ট্রল করে, তারা খেলে না। বরং যারা খেলে, তারাই জানে একটা ম্যাচ জিততে কতটা কষ্ট করতে হয় ও চাপ সামলাতে হয়।’

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে রুমি দ্বৈতে এত বেশিবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন যে, কোন হিসেবই দিতে পারলেন না। শুধু একবারের হিসেব দিলেন, সোনম সুলতানা সোমাকে সঙ্গে নিয়ে ২০১৯ সালেই জিতেছিলেন দ্বৈতেরও শিরোপা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওই ট্রলের পর লাল-সবুজরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দাপটের সঙ্গে হারিয়ে ঠিকই প্রমাণ করে দেয়, তারা জিততে পারে। সেই সামর্থ্য-যোগ্যতা তাদের আছে। আশাকরি সেটা দিয়েই শেষ চারে যাবে তারা।’

ভারত দলকে পছন্দ না করলেও শক্তির বিচারে তারা তারা যে সেমির অন্যতম সম্ভাব্য দল, সেটা স্বীকার করেন জাতীয় আসরে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসারের হয়ে খেলা রুমি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং বাংলাদেশ ... এই দলগুলো থেকেই চারটি দল সেমিতে যাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেন ১৯৯৩ সাল থেকে টিটি খেলা শুরু করা রুমি। এখন যেভাবে খেলছেন সেভাবেই বাকি ম্যাচগুলোতে পারফর্ম করতে পারলেই যে বিশ্বকাপে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন সাকিব আল হাসান। এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই নড়াইলের মহিষখোলার মেয়ে রুমির।

এবার কোন খেলা দেখতে না পারলেও গত ২০১৫ আসরের প্রায় সবগুলো খেলাই দেখেছিলেন টিটির আঁতুরঘর নড়াইলের রুমি। সমর্থন করেছিলেন কোন্ দলকে? ‘বাংলাদেশ ছাড়া আবার কাকে? এর আগে যখন বাংলাদেশ খেলতো না তখন বাধ্য হয়ে অন্য দেশকে সমর্থন করতাম।’ বড় ভাই সাবেক জাতীয় টিটি চ্যাম্পিয়ন এডিসনের হাত ধরে টিটিতে নাম লেখানো রুমির ভাষ্য।

আন্তর্জাতিক টিটিতে ১টি রৌপ্য ও ২টি তাম্রপদক জেতা রুমির অতীতের প্রিয় ক্রিকেটার দু’জন। দু’জনেই পাকিস্তানের। ওয়াসিম আকরাম এবং শহীদ আফ্রিদি।

৪৬ দিনে এবারের বিশ্বকাপের ৪৮ ম্যাচের সিডিউলকে ‘ঠিকই আছে’ বলে মনে করেন রুমি, ‘এর ফলে দলগুলো ঠিকমতো বিশ্রাম নিয়ে খেলতে পারবে।’

রুমির টিটি খেলার শুরুতে প্রয়াত বাবা এ্যাডভোকেট সাইফুল আলম খানের আপত্তি ছিল। পরে ১৯৯৫ সালে জাতীয় শিশু একাডেমি প্রতিযোগিতায় এবং ১৯৯৭ সালে জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে এককে শিরোপা জেতার পর বাবার মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। এবারের বিশ্বকাপের আসরের অনেক খেলাই বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় টিটি দলের অধিনায়ক রুমির অভিমত, ‘আইসিসির উচিত ছিল বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় নিয়ে সেভাবেই সিডিউল ঠিক করা। এই বৃষ্টির কারণেই আমরা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জিততে পারিনি।’