১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদায় নিয়ে দলকে আশীর্বাদ ধাওয়ানের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কাউন্টি হ্যাম্পশায়ার মাঠের ওপরে তখন বেশ কালো মেঘ। একটু পরে বৃষ্টিও নামল। ভারতীয় দলের এক তারকা ক্রিকেটারের মাথার ওপর ততক্ষণে বজ্রপাত ঘটে গেছে। তিনি শিখর ধাওয়ান। আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণিত করে ছিটকেই গেলেন বিশ্বকাপ থেকে। বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুলের হাড়ের চোট এতটাই গুরুতর যে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে হলো শিখরকে। টিম ম্যানেজমেন্ট অপেক্ষা করেছিল বেশ কয়েকদিন। কিন্তু ধাওয়ানের হাতের প্লাস্টার খুলতেই লাগবে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ। ফলে শিখরকে ফেরত পাঠানো ছাড়া উপায় ছিল না। তার পরিবর্তে দলে এলেন ঋষভ পন্থ। এভাবে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হওয়ায় ভীষণ হতাশ শিখর। একটি ভিডিওতে তিনি আবেগপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তার চোট নিয়ে। দলকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। ধাওয়ান বলেছেন, ‘এই কথাটা বলতে গিয়ে আবেগে ভেসে যাচ্ছি। আমি আর বিশ্বকাপে নেই। চোটটা সঠিক সময়ে সারল না। তবে বিশ্বকাপ চলবে। সতীর্থদের সমর্থন ও ভালবাসা পেয়েছি। গোটা দেশ ও সমর্থকদের ভালবাসা পেয়েছি। আমি যার জন্য কৃতজ্ঞ। এরপরই ধাওয়ান যোগ করেছেন, ‘বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলাম। এবার আমাকে ফিরে যেতে হবে। দ্রুত সুস্থ হয়ে পরবর্তী মিশনের অপেক্ষা করতে হবে।’ সবশেষে বলে গেলেন, ‘ছেলেরা দারুণ খেলছে। আশা করছি বিশ্বকাপটাও জিতবে। আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। সমর্থন করুন। প্রত্যেকের জন্য রইল প্রচুর ভালবাসা।’

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে প্যাট কামিন্সের বলে চোট পেয়েছিলেন ধাওয়ান। চোট নিয়ে ব্যাট করে গেলেও ফিল্ডিং করেননি। পরের নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। পাকিস্তান ম্যাচে ধাওয়ানের জায়গায় ওপেন করেন রাহুল। টিম ইন্ডিয়া প্রথমে ভেবেছিল লীগের অন্তত শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে পারবেন ধাওয়ান। কিন্তু সে সম্ভাবনা নেই। তাই শিখরকে ফেরত পাঠানো হলো। ইংল্যান্ডে কোন ক্রিকেট কেন্দ্রেই মূল স্টেডিয়ামে নেট প্র্যাক্টিস করতে দেয়া হয় না। বাইরেও একাধিক মাঠ থাকে। ব্যাটিং-বোলিং প্র্যাক্টিস করার জন্য সেখানে যেতে হয়। কান-মাথা ঢাকা হুড তোলা জ্যাকেট পরে এসে তিনি দাঁড়ালেন নেট থেকে কিছুটা দূরে। বাঁ হাতের তালুর জায়গাটা জুড়ে সাদা রঙের সেই ব্যান্ডেজ। দু’একজন সতীথের সঙ্গে কথা বললেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নেটে ব্যাট করতে গেলেন রোহিত শর্মা। কিছুক্ষণ সেদিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেন তিনি। এই ক’দিন আগেও যে তারা একসঙ্গে ব্যাট করতে যেতেন। তার পরই প্র্যাক্টিসের জায়গা ছেড়ে ড্রেসিংরুমের দিকে হনহন করে হাঁটতে শুরু করে দিলেন তিনি।

এটাই বিদায়ী ছবি হয়ে থাকল। বিশ্বকাপের মঞ্চ ছেড়ে শিখর ধাওয়ানের পাকাপাকিভাবে বেরিয়ে যাওয়ার শেষ দৃশ্য। একটু পরে দলের ম্যানেজার সুনীল সুব্রমহ্মণ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দিলেন, শিখরের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। তাকে আর পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে প্র্যাক্টিস শুরু করা ঋষভ পন্থ যোগ দিচ্ছেন বদলি হিসেবে। ম্যানেজার বললেন, ‘শিখরের বাঁ-হাতের প্রথম মেটাকার্পলের গোড়ায় চিড় ধরেছে। আমরা একাধিক ডাক্তারের মত নিয়েছি। দেখা যাচ্ছে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত এভাবেই ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় থাকতে হবে। তাই ওরপক্ষে বিশ্বকাপে আর খেলা সম্ভব হবে না।’

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বাঁ-হাতের বুড়ো আঙ্গুলের কাছেই চিড়টা ধরেছে। সেই কারণে সম্পূর্ণ সেরে না উঠলে বাঁহাতি ওপেনারের পক্ষে ব্যাট ধরাই কার্যত অসম্ভব।

ডাক্তাররাও বলে দিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষভাগে গিয়ে হয়তো ব্যান্ডেজ খোলা যাবে। ওদিকে বিশ্বকাপের ফাইনালই হয়ে যাবে ১৪ জুলাই। তার আগে দু’টো সেমিফাইনাল ৯ এবং ১১ জুলাই। আশা করা হচ্ছিল যদি নকআউট পর্ব থেকেও অন্তত শিখরকে ফের পাওয়া যায়। ম্যানচেস্টারে পাকিস্তান ম্যাচ খেলার সময় থেকেই সংশয় বাড়তে থাকে। সাউদাম্পটনে এসে সর্বশেষ ডাক্তারি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে যায়, শিখর পারবেন না। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পর খুব আবেগপূর্ণ একটি টুইট করেছেন শিখর। সেখানে তিনি দল এবং ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাকে সমর্থন করার জন্য। ভারতীয় শিবিরে সকলে শ্রদ্ধাবনত তার লড়াই দেখে। কেউ কেউ এদিনও বলছিলেন, ‘ওর যে এত বড় চোট লেগেছে, কাউকে বুঝতেই দেয়নি। দুঃসাহসিক আর অমর হয়ে থাকবে শিখরের লড়াই।’