১৯ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বস্তাপ্রতি সিমেন্ট উৎপাদন খরচ বাড়বে ৪২ টাকা

বস্তাপ্রতি সিমেন্ট উৎপাদন খরচ বাড়বে ৪২ টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে বিকল্প নেই সিমেন্টের। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো সুখবর নেই এ শিল্পের জন্য। সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর ও ৩ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর ধার্য করা হলে সিমেন্টের উৎপাদন খরচ (বস্তাপ্রতি) বেড়ে যাবে ৪২ টাকা। এতে সিমেন্টের বিক্রয়মূল্য বাড়লে বিঘিত হবে দেশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রগতি। আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে ভ্যাট আইন।

এ আইনে সিমেন্ট খাতে যে করারোপ করা হয়েছে তাতে একদিকে যেমন আবাসনখাতে প্রভাব পড়বে, একই সঙ্গে সরকারের অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বাড়বে ব্যয়। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে চাপে থাকা মধ্যবিত্তের বোঝা হিসেবে আরেকটি পণ্যের নাম যুক্ত হবে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি ও উদ্যোক্তাদের হিসাবে, নির্মাণ খাতের উপকরণের মধ্যে গত বছর ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সিমেন্ট খাতে। ২০১৭ সালে দেশের সিমেন্ট ব্যবহৃত হয় দুই কোটি ৭০ লাখ টন। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় তিন কোটি ১৩ লাখ টন। দেশে ৩১টি কোম্পানির ৪০টি প্লান্টে সিমেন্ট উৎপাাদন হচ্ছে। কারখানাগুলোর উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিডাব্লিউ রিসার্চের ‘বাংলাদেশ সিমেন্ট মার্কেট রিপোর্ট ২০১৭’-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশে সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে সিমেন্টের ব্যবহার হচ্ছে ৩৫ শতাংশ। ব্যক্তি উদ্যোগে অবকাঠামো নির্মাণে তা ব্যবহৃত হচ্ছে ৪০ শতাংশ।

আবাসন খাতে তার ব্যবহার ২৫ শতাংশ। সিমেন্ট শিল্প মালিকদের হিসাবে, দেশের মোট সিমেন্ট উৎপাদন ক্ষমতা বছরে তিন কোটি টন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ আবাসন খাতের সব প্রকল্পে দেশের উৎপাদিত সিমেন্ট সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার অধীনে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। কিন্তু প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর ও ৩ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর ধার্য করা হয়েছে। এতে অবকাঠামো উন্নয়নের উড়ন্ত গতি ব্যাহত হবে। সরকারের বড় বড় প্রকল্পের ব্যয় অনেক বাড়বে।