১৮ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফগানিস্তানকে ২৬৩ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

আফগানিস্তানকে ২৬৩ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সাউদাম্পটনে স্পিন দিয়েই বাংলাদেশকে কাবু করতে চেয়েছিল আফগানিস্তান। তাদের স্পিনার মুজিব উর রহমান তাদের চাওয়া পূরণ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশও তাদের ঘূর্ণি ভালোভাবে সামাল দিয়েছে মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের হাফসেঞ্চুরিতে।

এই বিশ্বকাপে রোজ বোল স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ রানই সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের স্পিন ত্রয়ী মুজিব, মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খানকে মোকাবিলা করে ৭ উইকেটে ২৬২ রান করেছে বাংলাদেশ।

সাউদাম্পটনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরুতে খেলতে নেমে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারে মুজিব উর রহমানের বলে শর্ট কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস।

তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন লিটন। শুরুটা দেখে শুনে খেলছিলেন দুজন। আচমকা মুজিবের ঘূর্ণিতে আর থিতু হতে পারেননি লিটন। হাসমতউল্লাহ শহীদী ক্যাচটি কঠিন করে নেওয়ায় তা মাটিতে লেগেছিল কিনা সংশয়ে ছিলেন আম্পায়াররা। পরে রিভিউ নিয়ে আউট দেওয়া হয় লিটনকে। তিনি মাঠ ছাড়েন ১৬ রান করে। তামিমের সঙ্গে তার জুটি ছিল মাত্র ২৩ রানের।

এই বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিবতবে তামিম ও সাকিব আল হাসানের জুটিতে এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। লিটনের বিদায়ের পর তারা প্রতিরোধ গড়েন। দারুণ সম্ভাবনায় ব্যাটিং করছিলেন দুজন। কিন্তু তামিমকে বোল্ড করে ৫৯ রানে মোহাম্মদ নবী বিচ্ছিন্ন করেন এই জুটি। ৫৩ বলে চারটি চারে ৩৬ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।

পরের ওভারে রশিদ খানের প্রথম বল সাকিবের প্যাডে লাগলে আম্পায়ার আউট দেন। তবে রিভিউ নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। রিভিউয়ে বল স্টাম্প মিস করায় আউটের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। ২৬ রানে বেঁচে যাওয়া সাকিব খেলেছেন দারুণ এক ইনিংস।

প্রথম চার ম্যাচে দুটি করে হাফসেঞ্চুরি ও সেঞ্চুরির পর আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১ রান করেন সাকিব। ষষ্ঠ ম্যাচে আবারও পঞ্চাশ রানের ইনিংসে ফেরেন তিনি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৬ বলে ফিফটি করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মাত্র এক বাউন্ডারিতে ফিফটি করা সাকিব থামেন আর তিন বল খেলে। মুজিবের কাছে এলবিডাব্লিউ হন তিনি। মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়েন সাকিব। ৬৯ বলে এক চারে ৫১ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। ২৭ ম্যাচে তার রান ১০১৬। এই বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ৪৭৬ রান করে আবার শীর্ষ ব্যাটসম্যানের আসনে বসেছেন ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তামিমসাকিবের বিদায়ের পর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করেও রানে ফিরতে পারেননি সৌম্য সরকার। ১০ বল খেলে মাত্র ৩ রান করে মুজিবের কাছে এলবিডাব্লিউ হন তিনি। আগের ওভারে সাকিবকে ফেরানোর পর সৌম্যকেও বিদায় করলেন আফগান স্পিনার।

আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্তে রিভিউ নিয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু আম্পায়ার্স কলে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

এই দুঃসময়ে বাউন্ডারি খরায় ভুগছিল বাংলাদেশ। ২৪তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় বাউন্ডারির দেখা পান মুশফিক। এরপর ৭৩ বল ধরে বাংলাদেশের ইনিংসে ছিল না কোনও চার বা ছয়। ৩৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সেই খরা কাটান মুশফিক। ইনিংসের প্রথম ছয় মেরে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরিও। ৫৬ বলে ফিফটি করার পথে দুটি চার ও একটি ছয় মারেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের মাঝপথে পায়ে ব্যথা পাওয়া মাহমুদউল্লাহ দারুণ সমর্থন দেন মুশফিককে। আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবের কাছে ভাঙে তাদের ৫৬ রানের জুটি। ৩৮ বলে ২৭ রান করে মিড উইকেটে মোহাম্মদ নবীর সহজ ক্যাচ হন মাহমুদউল্লাহ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা মুশফিক তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন অল্পের জন্য। ৮৭ বলে চারটি চার ও একটি ছয়ে ৮৩ রান করে দৌলত জাদরানের শিকার হন। এক্সট্রা কভারে তার ক্যাচ নেন নবী। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মুশফিক। ইনিংসের শেষ বলে নাইবের কাছে বোল্ড হন মোসাদ্দেক, ২৪ বলে চারটি চারে ৩৫ রান করেন তিনি।