২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু থেকে সাবধান

তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার বৃষ্টি স্নাত সুশীতল পরশ মানুষকে স্বস্তি দিলেও শঙ্কিত করতেও এর কোন জুড়ি নেই। বৃষ্টির অবিরাম ধারায় মানুষের জীবন মন যখন শান্ত, স্নিগ্ধ অনুভবে সিক্ত হয়, তখন অন্যরকম সমস্যাও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে সময় নেয় না। ঋতু পরিবর্তন মানেই হরেক রকম রোগবালাইয়ের উৎপাত-উপদ্রব। বিশেষ করে বর্ষার স্বচ্ছ, পরিষ্কার পানিতে মশার বংশ বিস্তার এই মৌসুমকে নানা সঙ্কটের আবর্তে ফেলে দেয়। এডিস মশার বংশবিস্তার বর্ষাকালের এক বিপজ্জনক অবস্থা; যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির দিকে ঠেলে দেয় মানুষকে।

বর্ষা ঋতু তার আগমনী বার্তা জানান দেয়ার আগ থেকেই এডিস মশা তার কামড়বাহিত রোগটি নিয়ে জনগণের দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেককে আক্রান্ত করে হাসপাতালে পাঠিয়েও দিচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার খবর এসেছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে। গত কয়েক দিনে শতাধিক রোগী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে সেরোটাইপ-৩-এর প্রভাব পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ৭০৭ রোগী- নারী-পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুহার কমে গেলেও কারও কারও মৃত্যুর খবরও আসছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ডেঙ্গু জ্বর নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি স্নাত সিক্ত আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ। ভারি বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির চারপাশ, নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে জনসচেতনতাকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর গণমানুষকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিয়েছে। রোগটি যতই ভয়ঙ্কর এবং আক্রমণাত্মক হোক না কেন, ব্যক্তিক সতর্কতায় তাকে এড়ানো খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। বর্ষাকালে কোন পাত্রেই জমানো পানি রাখা যাবে না। তার ওপর বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমলে তাও পরিষ্কার করে ফেলা স্বাস্থ্যসম্মত এবং মশার জন্য দুঃসংবাদ। জমানো পরিষ্কার পানি ছাড়া এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে রোগের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। মশার বংশ বাড়তে না দেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনেরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। মশারি ছাড়া ঘুমানো যাবে না। তারপরেও যখন কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে অতি দ্রুত রোগশনাক্তকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী। অত্যধিক তাপমাত্রা ও শরীর ব্যথা ডেঙ্গু জ্বরের অন্যতম প্রধান উপসর্গ। প্রচ- মাথাব্যথা, হাড় ও পেশিতে যন্ত্রণা, বমি ভাব, শরীরে বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, স্কিন র‌্যাশ, চোখের ভেতরে রক্ত জমা এসবই মূলত ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে। সঙ্কটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে জরুরী চিকিৎসাসেবা এবং তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যাওয়া বিশেষ দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যাবশক; যাতে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এছাড়া রোগের উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ