২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়া-৬ (সদর) শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্র্র্র্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৭ শ’ ৪২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম টি জামান নিকেতা পেয়েছেন ৩২ হাজার ২৩৪।

সোমবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ১৪১ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। একাদশ নির্বাচনে বগুড়ার এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ না করায় আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪ শ’৫৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩২ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেন।

এদিকে শঙ্কা ছিল ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যায় কিনা। কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উৎফুল্লতা প্রমাণ করল ভোটের অধিকারের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের দিন সোমবার বগুড়া নগরীতে ছিল প্রচ- গরম। তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাপিয়ে যায়। আর্দ্রতা রুক্ষ। ভ্যাপসা গরম। বাইরে বের হলেই রোদের তাপে ঘাম ঝরে পুরো শরীরে। এর মধ্যেই নারী পুরুষ পৌঁছে যায় ভোট কেন্দ্রে।

বগুড়া নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সঙ্গেই সেন্ট্রাল হাই স্কুল ভোট কেন্দ্র। মাঠের ধারে কিছু গাছ গাছালি। সেখানে প্রার্থীগণের কর্মী ও সমর্থকদের জটলা। সব বয়সের মানুষ একসঙ্গে। এর মধ্যেই কাপড়ের শেড ও তিনধারে কাপড়ে ঘিরে ঘরের মতো করা হয়েছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটারদের নম্বর লিখে স্লিপ দিচ্ছেন। এই নম্বরেরও দরকার নেই। ভোট কক্ষে গিয়ে পোলিং অফিসারের কাছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) এক ইউনিটে টিপছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) দিলেই মনিটরে নাম ঠিকুজি ভেসে উঠবে। ভোটার নম্বর দেখে পোলিং অফিসার ও প্রার্থীর এজেন্টরা তালিকায় নামের স্থলে টিক চিহ্ন দিচ্ছেন।

এই কেন্দ্রে ১০ বুথে ১০ ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। প্রিজাইডিং অফিসার শফিউল আলমের কক্ষে দেখা যায় বাড়তি কয়েকটি ইভিএম। বললেন, কোনটির ত্রুটি দেখা দেয়ার সঙ্গেই রিপ্লেস করা হবে। এতে ভোট গণনার কোন অসুবিধা হবে না। ইভিএমগুলো এমনভাবে চার্জ দেয়া আছে বিদ্যুত চলে গেলেও ৭২ ঘণ্টা সচল থাকবে। ভোট দিতে এসেছিলেন সুত্রাপুরের গৃহবধূ কামরুন নাহার। বললেন খুব সহজ পদ্ধতি। ভোটার সুফিয়া বেগম ও ফারজানা শর্মি বললেন ইভিএমের ভোট দিয়ে এবং দেখে সন্তুষ্ট। বয়স্ক ব্যক্তি আব্দুল বাসেত স্থানীয় কথায় বললেন ‘কলি কালে কত কি যে দ্যখমো। ছোট্ট এ্যনা কিবা তার ওপর বুড়া আঙুল থুনু হামার সুরুত ভাস্যে উঠল। হামি লাফ্যে উঠছুনু। ভোট দিয়ে কি যে ফূর্তি লাগতিছে (কলি কালে কত কি যে দেখবো। ছোট্ট টুকরো তার ওপর বৃদ্ধা আঙুল ছাপ দিতেই ছবি ভেসে উঠল। লাফিয়ে উঠেছিলাম। ভোট দিয়ে খুশি লাগছে।

অশীতিপর বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম জ্যোৎস্না ছেলের কোলে চড়ে ইভিএমে ভোট দিলেন ॥ মরিয়ম বেগম জ্যোৎস্নার বয়স ৮০ অতিক্রম করেছে। অশীতিপর এই বৃদ্ধা বার্ধক্যজনিত রোগ-ব্যধিতে ভুগছেন। পা ভেঙ্গে যাওয়ায় চলতে পারেন না। তার বাড়ি বগুড়া সদরের শাখারিয়া জঙ্গলপাড়া। স্বামী আফতাব হোসেন গত হয়েছেন অনেক আগে। তার ২ ছেলে ৩ মেয়ে। প্রতিবার ভোট প্রদান করেছেন ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে। কিন্তু এবারের ভোট ইভিএমে। যন্ত্রে ভোট হবে এমনটি জেনে তার আগ্রহ বেড়ে যায়। বড় ছেলে জুয়েল মিয়াকে বলেন তিনি ভোট দিতে যাবেন। বায়না ধরেন যেভাবেই হোক ভোট কেন্দ্রে তাকে নিয়ে যেতে। অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন- সেই কবে থেকে ভোট দিচ্ছেন। প্রথম দিকে ভোট দিয়েছেন টিনের বাক্সে। মার্কা (প্রতীক) দেয়া থাকত। শক্ত কাগজ ফেলতে হতো। ১৯৭০ সালে প্রথম ভোট দিলেন সিল দিয়ে। তারপর থেকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোট দিচ্ছেন। এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ইভিএমে ভোট দিলেন। বগুড়া সদরের পল্লীমঙ্গল কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন তিনি। কেন্দ্রে পৌঁছেন ভ্যানগাড়িতে চড়ে। তারপর বড় ছেলে জুয়েল মিয়ার (৩৪) কোলে চেপে ভোট কক্ষে যান। প্রিজাইডিং অফিসার ভোট প্রদানের নিয়ম অনুযায়ী মেশিনে তার টিপ ছাপ নিয়ে ছেলের কোলেই পাঠিয়ে দেন ভোটপ্রদান কক্ষে। সেখানে তিনি পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট প্রদান করেন। বললেন, জীবন সায়েহ্নে দেখলেন দেশ কতটা এগিয়েছে। আনন্দের হাসি দিয়ে বললেন, ইভিএম যন্ত্রে ভোট দিতে পেরে তিনি খুব খুশি। বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়।