২৪ জুন ২০১৯

ডিআইজি মিজান স্ত্রী ও ভাগ্নের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের দায়ে ঘুষ গ্রহণ ও ঘুষ প্রদানের দায়ে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান , তার স্ত্রী ও ভাগ্নের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে তারা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে জন্য ইমিগ্রেশনে পুলিশের কাছে চিঠিও দিয়েছে কমিশন। মামলার আসামিরা হলেন মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান।

অপরদিকে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিজানকে ১ জুলাই দুদক কার্যালয়ে তলব করেছে সংস্থাটি। প্রায় তিন কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার কমিশনের নির্ধারিত বৈঠকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেয়া হয়। সোমবার কমিশনের রেজুলেশন পাস হয়।

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (সজেকা) তার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। মামলা নম্বর-০১। এর মাধ্যমে দুদকের সংশোধিত বিধিমালায় পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেই প্রথম মামলাটি দায়ের করা হলো। এর আগে দুর্নীতি সংক্রান্ত যে কোন মামলা থানায় গিয়ে করতে হতো। রবিবার সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ হয়। এর ফলে কমিশন যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

এর আগে গত রবিবার দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ডিআইজি মিজানের সম্পদের অনুসন্ধান হওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান। ২০১৮ সালের ৩ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রথমে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। পরে এই দায়িত্ব পান এনামুল বাছির। মিজানুর রহমানের সম্পদ খতিয়ে দেখতে নিয়োগ পাওয়া আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে গত ১০ জুন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান দুদকের আরেক পরিচালক মনজুর মোর্শেদ। গত ১২ জুন তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মুখে থাকা ডিআইজি মিজানুর রহমান দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তোলেন। যদিও পরিচালক এনামুল বাছির বারবার দাবি করেন রেকর্ডকৃত বক্তব্যগুলো কণ্ঠ নকল করে বানানো।

দুদকের প্রতিবেদনে মিজানের চার কোটির বেশি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। মিজানের নামে পাওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর বেইলি রোডের রিজ ভবনের চতুর্থ তলায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, একই ভবনের নিচে কার পার্কিংয়ের স্পেসসহ ৫৫ দশমিক ৫১ অযুতাংশ জমি, কাকরাইলে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট। এ ছাড়া তিন কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬০ টাকা মূল্যের জমি ও দোকানের সন্ধান পেয়েছে দুদক। প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের ঢাকার ধানমন্ডি শাখায় মিজানের একাউন্টে ১০ লাখ টাকাসহ বেশকিছু সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে।