২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন তুলে নিতে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) তুলে নিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে আধা সরকারী পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিদ্যুত সংযোগে প্রান্তিক গ্রাহকের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে প্রতিমন্ত্রী রবিবার দেয়া চিঠিতে এ অনুরোধ জানান।

আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে নতুন বিদ্যুত সংযোগ এবং পুরাতন গ্রাহকদের বিল জমার সময় টিআইএন জমা দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু দেশের তিন কোটি ৩৪ লাখ গ্রাহকের বড় অংশেরই টিআইন নম্বর নেই। এরমধ্যে এক কোটি ২০ লাখ গ্রাহক আবার অতি দরিদ্র শ্রেণীর ফলে এইসব গ্রাহকদের জন্য টিআইএন নম্বর দেয়া কঠিন।

প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি। ইতোমধ্যে ৯৩ ভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুত সুবিধার আওতায় এসেছে। বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লাখ। এরমধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আরইবির গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখ। আরইবির গ্রাহকের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ প্রান্তিক গ্রাহক। যারা প্রতিমাসে ৫০ ইউনিট বিদ্যুত ব্যবহার করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থবিলে প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুত সংযোগ থাকলেই কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিতে হবে। কিন্তু প্রান্তিক (লাইফ লাইন) গ্রাহকরা খুবই দরিদ্র। অনেকেই দিনমজুর। তাদের পক্ষে টিআইএন করা কষ্টদায়ক এবং অমানবিক। তাছাড়া টিআইএন থাকলে প্রতি বছর আয়কর বিবরণ জমা দিতে হয়। যা ওই দরিদ্র শ্রেণীর লোকদের জন্য হয়রানিমূলক, কর্ম-কালের অপচয় এবং সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গত কারণে বিদ্যুত সংযোগে টিআইএন প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানান নসরুল হামিদ।

প্রসঙ্গত বাজেটের ওপর আলোচনায় জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তৃতায়ও নসরুল হামিদ বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে টিআইএন না রাখার অনুরোধ জানান। তবে এ বিষয়ে এখনও অর্থ মন্ত্রণালয় নিজেদের বক্তব্য জানায়নি। তবে যারা বিদ্যুত ব্যবহার করেন তাদের সকলের পক্ষে এই শর্ত মানা সম্ভব নয়। আবার রাজধানীসহ বড় শহরে যাদের টিন রয়েছে অথচ ভাড়া বাড়িতে থাকেন তাদের নিজের নামে বিদ্যুত সংযোগ নেই।

বিতরণ কোম্পানি সূত্র জানায়, অর্থবিলে টিআইএন এর বাধ্যবাধকতা থাকার বিষয়টি জানার পরে বিদ্যুত বিভাগকে বিষয়টি জানায়। বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন বিষয়টি যৌক্তিক করা কঠিন। আর এতে বিদ্যুতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে বলেই মনে করছেন তারা।

যদিও মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে আরও বেশি করে করের আওতায় আনতে টিনের বাধ্যবাধকতাকে সু উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুত সংযোগের ক্ষেত্রে মানুষ ভেদে আইনের ভিন্নতা কার্যকর করা কঠিন।

প্রসঙ্গত এখন আবাসিকে বিদ্যুতের সংযোগর জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর দুই কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জমির দলিল বা লিজের ফটোকপি, ১০ তলার বেশি হলে অগ্নিনির্বাপণ সনদ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার মধ্যে হলে ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ফটোকপি ও দুই কিলোওয়াটের বেশি গ্রাহকের বিদ্যুত লোড হলে সৌর প্যানেল স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কারও ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকলে অনাপত্তি পত্র দিয়েও বিদ্যুত সংযোগ নেয়া যায়।