২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেশা করতে বাধা দেওয়ায় জনসম্মুখে শিক্ষককে মারধর

নেশা করতে বাধা দেওয়ায় জনসম্মুখে শিক্ষককে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ আজ মঙ্গলবার সকালে পৃথক দু’টি স্থানে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের শিক্ষক আইয়ূব আলীকে (২৮) জনসম্মুখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নেশা করতে বাধা দেয়ায় ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির হোসেন ও তার স্বজন শিক্ক আইয়ুব আলীকে মারাের করেছেন। ছাব্বির উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের বিপাচান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন।

শিক্ষক আইয়ূব আলী অভিযোগ করে বলেন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছাব্বির হোসেন কখনও শ্রেণি কক্ষে বসে আবার কখনও বিদ্যালয় মাঠের মধ্যে ড্যান্ডি নেশা করে। তার সহপাঠি শ্রী শিবনাথের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার তাকে বিদ্যালয়ে ডেকে শাসন করার সময় সে তর্কে জড়িয়ে পড়লে একটা থাপ্পর মারা হয়। এ কারণে সাব্বির হোসেন, তার ভাই রাব্বি, চাচা আলাউদ্দিন এবং রাব্বির বন্ধু কামরুল ইসলাম তাকে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় উলিপুর বিপাচান ব্রিজ এলাকায় পথ আটকে কিল-ঘুষি মারেন। শুধু তাই নয়, তাকে মারধর করায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তারা (ছাব্বির গং) আবারও বেলা সাড়ে ১১ দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শ’ শ’ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সম্মুখেই তাকে স্টিলের স্কেল দিয়ে এলোপাথারী আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

শিক্ষার্থী শিবনাথ, আছিফ হোসেন, রাজু ইসলাম, ইব্রাহীম হোসেন, রাবেয়া খাতুন, মরিয়ম খাতুন প্রমূখ বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন বিদ্যালয় মাঠের মধ্যে প্রবেশ করে ছাব্বির ও তার স্বজনরা তাদের গনিত বিভাগের বিএসসি শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তারা পালিয়ে যায়।

তাড়াশ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, আহত শিক্ষককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবি উজ্জামান নান্নু বলেন, তিনি লাইব্রেরীতে বসে ছিলেন। বাইরে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ খবর দেন।

তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে শিক্ষার্থীরা পরিক্ষায় অংশ নেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন বলেন, একজন শিক্ষকে মারধর করা অনভিপ্রেত। নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।