২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলে যানবাহন বেড়েছে চারগুন বাড়েনি টার্মিনালের জায়গা

টাঙ্গাইলে যানবাহন বেড়েছে চারগুন বাড়েনি টার্মিনালের জায়গা

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ টাঙ্গাইলে চার দশকে বাস-মিনিবাসের সংখ্যা বেড়েছে চারগুনের বেশি। কিন্তু সম্প্রসারিত হয়নি বাস টার্মিনাল। টার্মিনাল এলাকায় সব সময় লেগে থাকে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ। এ কারণে যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের।

জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৯৮০ সালে শহরের টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পৌর শহরের দেওলা এলাকায় তিন একর জায়গার ওপর বাস টার্মিনাল গড়ে তোলা হয়। সে থেকেই এটি নতুন বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই টার্মিনাল চালুর সময় টাঙ্গাইলে বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ছিল মাত্র আড়াইশ’।

এই কমসংখ্যক গাড়ি তখন অনায়াসে টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারত। গত চারদশকে টাঙ্গাইলে গাড়ির সংখ্যা চারগুনের বেশি বেড়েছে। এখন এ জেলায় ৯ শতাধিক বাস-মিনিবাস রয়েছে। পরিবহনের রুটও বেড়েছে অনেক। এখন টার্মিনালে এতো বিপুল সংখ্যক গাড়ির সংকুলান হয় না। বাধ্য হয়ে টার্মিনালের আশেপাশের রাস্তার ওপর গাড়ি রাখতে হয়। আবার বিভিন্ন রুটের বাস মূল টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়ার জায়গা না হওয়ায় টার্মিনালের পূর্ব পাশে রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে ছেড়ে যায়। সেখানেই ওই রুটগুলোর কাউন্টার। ফলে টার্মিনাল এলাকায় সবসময় লেগেই থাকে যানজট। এ রাস্তা দিয়ে টার্মিনাল অতিক্রম করে শহরের উত্তর অংশে যেতে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

নতুন টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মূল টার্মিনালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় জেনারেল হাসপাতাল পার হওয়ার পর থেকেই রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে বাস-মিনিবাস। মূল টার্মিনাল এলাকা থেকে ঢাকাগামী দু’টি এবং জামালপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, ভূঞাপুরসহ কয়েকটি সার্ভিসের বাস ছেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু টার্মিনালে জায়গা না হওয়ায় মূল টার্মিনালের বাইরে রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে ময়মনসিংহ, ঢাকাগামী এসিবাস, নিরালা সার্ভিস, চট্রগ্রাম-কক্সবাজারগামীসহ অন্তত পাঁচটি রুটের বাস-মিনিবাস ছেড়ে যাচ্ছে। দু-এক মিনিট পরপরই কোনো না কোনো বাস রাস্তায় নামছে। এজন্য সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। টাঙ্গাইল শহর থেকে বাইপাস মোড়গামী অটোরিক্সা চালক আজাহার আলী বলেন, নতুন টার্মিনাল এলাকা পার হতে প্রতিদিনই যানজটে আটকা পড়তে হয়। দুই মিনিটের পথ পার হতে ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেগে যায়। শহরের দেওলা এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূল শহর থেকে এই টার্মিনাল অতিক্রম করেই দেওলাসহ শহরের উত্তর অংশের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত করতে হয়।

এছাড়া সরকারি কিছু গুরুত্বপূর্ন অফিসে যেতেও এই টার্মিনাল অতিক্রম করে যেতেও এই নতুন টার্মিনাল অতিক্রম করে যেতে হয়। প্রতিদিন এখানে যানজটে পড়ে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হয়। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী আল রুহী বলেন, জেলায় এখন পরিবহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাই টার্মিনালটি শহরের আরেকটু বাইরে দিকে বড় পরিসরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ, মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি বলেন, বাসের তুলনায় নতুন টার্মিনালটি আকারে ছোট হয়ে গেছে, তাই যানজট সৃষ্টি হয়। নতুন টার্মিনালটি স্থানান্তরের জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পুরণের আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু আজও দাবি পূরণ হয়নি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ জানান, শহর বাইপাস এলাকায় বাস টার্মিনালের জন্য জমি দেখা হয়েছে। এ জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে আধুনিক বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ