১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামালপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এএসআই ক্লোজড

 জামালপুরে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এএসআই ক্লোজড

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর ॥ জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে উপজেলার কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো: ফেরদৌসকে জামালপুর পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। ৬ জুন সকালে ওই ছাত্রী এ ঘটনার শিকার হওয়ার ১৯ দিন পর মঙ্গলবার সকালে ওই ছাত্রীর মা জামালপুরের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে এ ঘটনার বিচার প্রার্থনা করেছেন।

জানা গেছে, ওই ছাত্রীর মা উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপির একজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা। তিনি এ ঘটনায় বকশীগঞ্জ থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। ঘটনার ১৯ দিন পর মঙ্গলবার সকালে অবশেষে তিনি এ ঘটনার বিচার চেয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো: দেলোয়ার হোসেনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করলে পুলিশ সুপার ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আবু সুফিয়ানকে প্রধান করা হয়েছে।

এদিকে ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ পাওয়ার আগেই পুলিশ সুপার জানতে পেরে সোমবার এএসআই ফেরদৌসকে জামালপুর পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী কেবি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীর মা ইউপি সদস্যা হওয়ায় তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন স্থানীয় কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ফেরদৌস। এই সুযোগে ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিলেন ফেরদৌস।

গত ৬ জুন বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে এএসআই ফেরদৌস ওই বাড়িতে যান। ওই দিন ইউপি সদস্যা বাড়িতে ছিলেন না। সেদিন একা পেয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফেরদৌস ওই ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তাদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই ছাত্রী চিৎকার দিলে এএসআই ফেরদৌস দ্রুত দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ সময় প্রতিবেশীরা তাকে চিনতে পারলেও পুলিশের লোক বলে তাকে কেউ আটক করতে সাহস পায়নি। ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, ঘটনাটি আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ, বকশীগঞ্জ থানার ওসি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোনো লাভ হয় নাই। আমি আমার মেয়ের এ ঘটনায় খুবই লজ্জাজনক অবস্থায় রয়েছি।

এ ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে লজ্জায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বাদ দেওয়ায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি ওই এএসআইয়ের উপযুক্ত বিচার চাই।’ এ প্রসঙ্গে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘এএসআই ফেরদৌসকে জামালপুর পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটির মায়ের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে এএসআই ফেরদৌসের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।