২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বে দ্বিতীয়

আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় শীর্ষক সংবাদটি তরুণ সম্প্রদায়ের জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ওয়েবসাইটের এক নিবন্ধে উঠে এসেছে এই তথ্য! ভারতের পরেই অবস্থান বাংলাদেশের। ইন্টারনেট তথা অনলাইন শ্রমিক সরবরাহে বিশ্বের শীর্ষস্থান ভারতের। বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সার কর্মীর ২৪ শতাংশই সে দেশের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ১৬ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিল্যান্সার ১২ শতাংশ। ভারতের ফ্রিল্যান্সাররা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট নিয়ে বেশি কাজ করলেও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা এগিয়ে রয়েছে বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের সেবায়। বৈশ্বিক ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবাদে খুব দ্রুতই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ডিজিটাল আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয়ে উঠছে দেশটি। ফ্রিল্যান্সিং কাজের মধ্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ওয়েব ডিজাইন, কর প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ, অনুসন্ধান ইঞ্জিন এবং ওপটিমাইজেশনসহ নানাবিধ কাজ রয়েছে। মূলত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক এসব কাজ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা আগে ছিল না। আরও সুবিধা হলো এই, এসব কাজ সম্পাদন করা যায় ঘরে বসেই স্বাধীনভাবে, দেশের যে কোন স্থান এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও। তবে সেসব স্থানে ইন্টারনেট সংযোগসহ ব্রডব্যান্ড সেবা থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। সেইসঙ্গে বিদ্যুত সংযোগ। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এসব ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। সে অবস্থায় দেশের ৬৫ শতাংশ তরুণ, যাদের বয়স ২৫ বছরের নিচে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সি পেশায় সংযুক্তকরণের যথেষ্ট সুযোগ ও অবকাশ রয়েছে।

বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তিবান্ধব। এবারের জাতীয় বাজেটেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। আউটসোর্সিংয়ে বিশেষ প্রণোদনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। জনশক্তির তুলনায় দেশে শ্রমবাজার অপর্যাপ্ত থাকায় বেকারত্ব দূর করতে এবং আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার এ খাতে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। ২০০৯ সালে এ সেক্টরে ১৫% ভ্যাট ছিল। সরকার সেটা প্রথম দফায় কমিয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করে। এবারের বাজেটে ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারসহ পুরো বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) খাতকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনায় ভ্যাট মওকুফ করাসহ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারী উদ্যোগে প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিংয়েরই পোশাকি নাম আউটসোর্সিং। এখন স্বাধীনচেতা, কর্মঠ এবং উচ্চাভিলাষী তরুণদের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ কারও মুখাপেক্ষি না হয়ে ঘরে বসে অর্থোপার্জনের এ কাজটি বর্তমান বিশ্বে সম্মানজনক অবস্থানে চলে এসেছে। আর এ কাজের জন্য কেবল ইন্টারনেট সংযোগ বিশিষ্ট একটি ল্যাপটপ থাকলেই হলো। কয়েক বছর হলো বাংলাদেশের তরুণরা সফলভাবে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার তরুণ মুক্ত পেশাজীবী (ফ্রিল্যান্সার) হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আউটসোর্সিংয়ে। নারীসহ অনিয়মিতভাবে যুক্ত আছেন আরও অনেকে। আগামী দিনে এই তরুণরাই দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন।

নির্বাচিত সংবাদ