২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুর বাঁকা পা ভাল হবে

গত এক দশক যাবত দেশে মুগুর পা বা ক্লাবফুট শিশুদের চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে, যেটির খুব বেশি প্রচার নেই। এনজিও ‘দ্য গ্লেনকো ফাউন্ডেশন’ ২০০৯ সাল থেকে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে মুগুর পা নিয়ে জন্মানো শিশুদের পন্সেটি পদ্ধতির মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টরা প্রতি সপ্তাহে একবার প্লাস্টারিংয়ের মাধ্যমে ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের মুগুর পা সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসেন। এরপর শিশুকে একটি বিশেষ জুতা বা ব্রেস পরতে দেয়া হয়। মুগুর পায়ের সবচেয়ে ভাল, নিশ্চিত, সর্বস্বীকৃত, স্বল্পব্যয়ের ও পুরোপুরি স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে পন্সেটি মেথড। গত শতাব্দীর ৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক ফিজিশিয়ান ডাক্তার ইগ্নাসিও পন্সেটি এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে ডাক্তার জন হের্জেনবার্গ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এবং যুক্তরাজ্যের পন্সেটি সার্জন ডাক্তার স্টিভ ম্যানিয়ন আফ্রিকায় এই পদ্ধতি বিপুলভাবে প্রচলন করেন। ৯৫% ক্ষেত্রেই পন্সেটি পদ্ধতিতে মুগুর পা-এর চিকিৎসা করা যায় এবং এতে পূর্বাবস্থায় পা ফিরে আসার কোন ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু এ পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা হলো, এটি শুধু ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

সোমবার জনকণ্ঠে দেশের ‘ক্লাবফুট’ শিশুদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশাবাদী হওয়ার মতো আরও সুসংবাদ মিলেছে। ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পের কল্যাণে এক বছরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে বাঁকা পায়ের এক থেকে তিন বছর বয়সী ৮৯৫ শিশুর পা সম্পূর্ণ সারিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০৩ জনের এক পায়ে ত্রুটি ছিল। বাকিদের ত্রুটি ছিল দুই পায়ে। এরা এখন স্বাভাবিক পায়ের অধিকারীÑ এমন খবর মন ভাল করে দেয় বৈকি।

প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৫০০০ শিশু পায়ের এই সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এটি একটি জন্মগত সমস্যা, যেখানে নবজাত শিশু জন্মের সময় এক অথবা উভয় পায়ের পাতা ভেতরের দিকে বাঁকা অবস্থায় নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষই একে চিকিৎসার অযোগ্য ভাগ্যের পরিহাস বলে মনে করে। ফলে অনেক শিশুরই চিকিৎসা আর হয়ে ওঠে না। চিকিৎসার অভাবে এ সমস্যা শিশুটির সারা জীবনের জন্য করুণ পরিণতি বয়ে আনে। উন্নত বিশ্বের কোন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে মুগুর পা নিয়ে হাঁটতে দেখা যায় না। কারণ তারা শৈশবেই শিশুদের চিকিৎসা করিয়ে ফেলে।

আমাদের সমাজে মুগুর পা নিয়ে জন্মানো শিশু কিংবা বয়োপ্রাপ্ত যে কেউই পরিহাস ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হয়। শৈশব থেকেই সমাজে তাদের পৃথকীকরণ শুরু হয় বন্ধুদের সঙ্গে ছোটাছুটি, খেলাধুলা বন্ধের মাধ্যমে। পায়ের ব্যথার কারণে তারা বেশিক্ষণ হাঁটতেও পারে না। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যালয়গুলো দূরে হওয়ায় তাদের আর সেখানে যাওয়া হয় না এবং এভাবে তারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। এই শিশুরাই যখন বড় হয়, তখন শিক্ষার অভাবের তারা চাকরি কিংবা জীবিকা অর্জনের কোন সম্মানজনক উপায় খুঁজে পায় না। মেয়েশিশুর জন্য এটি আরও নেতিবাচক হয়ে থাকে। এই চিকিৎসাবার্তাটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া দরকার। তাহলে ত্রুটিযুক্ত পায়ের শিশুর মা-বাবার মনে স্বস্তি ফিরে আসবে, তারা সন্তানের ত্রুটি সারানোর কার্যকর পথ খুঁজে পাবেন।

নির্বাচিত সংবাদ