১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাসপোর্ট ছাড়া আরেক পাইলটের বিমান চালানোর ঘটনা ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাসপোর্ট ছাড়া আরও এক পাইলটের বিমান চালানোর ঘটনা শেষ পর্যন্ত ফাঁস হয়ে গেল। এই ঘটনায় ওই পাইলটকে দুই হাজার রিয়াল জরিমানা করা হয়। গত এপ্রিলে এ ঘটনা ঘটলেও এতদিন তা ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়। বিমান ব্যবস্থাপনার চরম উদাসীনতা, অদক্ষতা ও অবহেলার দরুন বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ নীরব। উল্টো এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কৌশল বের করার জন্য দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। অবশ্য বিমান এ ঘটনার কথা স্বীকার না করলেও জেদ্দা থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় তা ফাঁস হয়ে যায়। ওই বার্তায় দেখা যায়- গত ৯ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে। বিমান বিশেষ কৌশলে তা গোপন রাখে যাতে ওই পাইলটকে শাস্তির খড়গ থেকে রেহাই দেয়া যায়। এ ধরনের ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়ার মতো নয় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বলেছেন, ঘটনা সত্যি হলে অবশ্যই গুরুতর অপরাধ। অভিযোগ হাতে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেদ্দা থেকে স্টেশন ম্যানেজার রফিক উল হাসানের বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দফতরে পাঠানো

বার্তায় দেখা যায়, ৯ এপ্রিল ঢাকা থেকে বিজি ০৩৫ ফ্লাইটযোগে ক্যাপ্টেন রেজোয়ান ইসলাম জেদ্দা যান। জেদ্দা বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তিনি হাজির হওয়ার পর তার কাছে পাসপোর্ট চাওয়া হলে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। এ সময় ক্ষুব্দ হয়ে কর্তব্যরত অফিসার তাকে কাউন্টার থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে পরবর্তী ফ্লাইটে সরাসরি ঢাকায় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এ জন্য তাকে দুই হাজার রিয়াল জরিমানাও করা হয়। তখন তিনি অনুনয় বিনয় করেন এবং জেদ্দায় বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার এসজিএস-এর মধ্যস্থতায় এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পান। এরপর তাকে সারারাত বসিয়ে রাখা হয় বিমানবন্দরের ওয়েটিং লাউঞ্জে। দিবারাত্রি তাকে সেখানে গোসল ও বিশ্রাম ছাড়াই চরম মানবেতর অবস্থায় কাটাতে হয়। পরে ঢাকা থেকে অপর ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট নেয়ার পর তিনি ঢাকায় ফেরার সুযোগ পান।

এদিকে এ ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে জেদ্দা স্টেশন ম্যানেজার রফিক উল হাসান ঢাকায় বিমানের সংশ্লিষ্ট দফতরে বিশেষ বার্তায় বিষয়টি অবহিত করেন। বিষয়টি তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউকে না জানিয়ে চেপে রাখার কৌশল অবলম্বন করেন। কিছুদিন পর ওই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ক্যাপ্টেন ফারাহাত জামিল। তখন তার নোটিসে এ বিষয়টি আবার আনার পর তিনিও সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে তার কক্ষে ডেকে এ ঘটনা কিছুতেই যাতে মিডিয়ায় ও বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হকের কাছে ফাঁস না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক করে দেন। এ অবস্থায় গত মাসে কাতারে পাসপোর্ট ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ধরা পড়ায় দেশ-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনা তদন্তের সময় ক্যাপ্টেন ফারাহাত জামিল আরেক দফায় বিমানের কাস্টমার সার্ভিস, গ্রাউন্ড সার্ভিস, সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ও অপারেশনের কর্তাব্যক্তিদের আবারও সতর্ক করেন যাতে বিষয়টি কিছুতেই ফাঁস না হয়।