২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশের সাইবার সেন্টার ইউনিট শীঘ্রই চালু হচ্ছে

  • অপরাধ দমনে সিআইডির অধীনে কাজ করবে

শংকর কুমার দে ॥ শীঘ্রই চালু হচ্ছে পুলিশের ‘সাইবার সেন্টার ইউনিট’। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের এটা একটা নতুন ইউনিট। সিআইডির অধীনে কাজ করবে পুলিশের সাইবার সেন্টার। উদ্বেগজনকহারে বেড়ে গেছে সাইবার অপরাধ। স্বচ্ছ ধারণার অভাব, লোকলজ্জা, ভয়ভীতি, বাড়তি ঝামেলার কারণে সাইবার অপরাধের শিকার শতকরা ৭০ ভাগই আইনের সহায়তা নেন না। বিশেষ করে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তৎপর জঙ্গীরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির অধীনে পুলিশের সাইবার সেন্টার ইউনিটকে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সিআইডির সাংগঠনিক কাঠামোতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো গঠন করা হচ্ছে। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোতে বিভিন্ন পদবির ৫৮৫ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই নবগঠিত ইউনিটের জন্য দেয়া হচ্ছে ১০০টি যানবাহন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের যাচাই বাছাইয়ের পর ইতোমধ্যে অনুমোদন পাওয়া গেছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ ৩৪২টি পদ ও ৪৯টি যানবাহন টিওএ্যান্ডইভুক্ত করতে সম্মতি দেয়। এসব পদের মধ্যে রয়েছে- ডিআইজি ১, অতিরিক্ত ডিআইজি ২, পুলিশ সুপার ৩, এডিশনাল এসপি ৬, এএসপি ১৯, ইন্সপেক্টর ৬৫, এসআই (নিরস্ত্র) ১৩০, এএসআই ৩৯ ও কনস্টেবলের ৭০টিসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। এসব পদে এরই মধ্যে সম্মতি পাওয়া গেছে। এরা সিআইডি পুলিশের অধীনে সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করবে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ বাড়ছে। এর শিকার ৫৩ ভাগই নারী। এছাড়া ১৯-৩৫ বছর বয়সের লোকজনই সবচেয়ে বেশি সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন। স্বচ্ছ ধারণার অভাব, লোকলজ্জা আর ভয়-ভীতির কারণে সাইবার অপরাধের শিকার ৭০ ভাগ ব্যক্তিই আইনের সহায়তা নেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইউনিট।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার হেল্প ডেস্ক ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং পুলিশের পাঁচটি ইউনিটে সাইবার অপরাধ নিয়ে প্রতিদিন শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। আর এ সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ত্রুটি থাকায় মোট মামলার অধিকাংশই খারিজ হয়ে যাচ্ছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে ৭০ ভাগই ঝুঁকিতে আছেন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ ভাগ কোন না কোনভাবে সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আর মাত্র ১০ ভাগ ব্যবহারকারী সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন। দেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। আর সাইবার অপরাধের ৭৫ ভাগ অভিযোগই ফেসবুক কেন্দ্রিক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হওয়া ৪৯ শতাংশই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছেই সাইবার অপরাধ নিয়ে বছরে অভিযোগ জমা পড়ে ২০ হাজারও বেশি। এর মধ্যে মহানগর পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ এ্যাপসের মাধ্যমেই অভিযোগ জমা পড়ে ৬ হাজারেও বেশি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার হেল্প ডেস্কেও বছরে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে অভিযোগকারীদের প্রায় সবাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা না করেই প্রতিকার চান।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির ক্ষতি, অনিষ্ট সাধন যেমন ই-মেইল পাঠানো, ভাইরাস ছড়ানো, সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ বা সিস্টেমের ক্ষতি করা ইত্যাদি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এমন কোন কাজ করেন, যার ফলে কোন কম্পিউটার রিসোর্সের কোন তথ্য বিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা এর উপযোগিতা হ্রাস পায় অথবা কোন কম্পিউটার, সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা কোন ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, তবে এটি হবে হ্যাকিং অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদ- বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে কোন মিথ্যা বা অশ্লীল কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়, তাহলে এগুলো হবে অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদ- এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদ- এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।