১৯ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ জিতলেই পরবর্তী পর্বে আবাহনী

  • এএফসি কাপ, প্রতিপক্ষ ভারতের মিনেরভা পাঞ্জাব

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আবাহনী বাংলাদেশের একমাত্র ক্লাব যারা সবচেয়ে বেশি ৫ বার ‘এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ’ এবং সবচেয়ে বেশি ২ বার ‘এএফসি কাপ’ খেলেছে। কিন্তু এই দুটি আসরেই তাদের ব্যর্থতা ছিল বিস্ময়কর। কেননা এই দুটি আসরেই তারা কখনই প্রথম রাউন্ডের গ-ি পেরিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উন্নীত হতে পারেনি। তবে এএফসি কাপে আগের দু’বারের ব্যর্থতা কাটিয়ে এবার দ্বিতীয়পর্বে খেলার প্রত্যাশা তাদের।

আর সেই লক্ষ্যে এবার তারা এগিয়ে গেছে অনেকটাই। ইতোমধ্যেই তারা ‘ই’ গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। আর একটি মাত্র ম্যাচ বাকি আছে তারা। সেই ম্যাচটিই তারা খেলতে মাঠে নামবে আজ। প্রতিপক্ষ ভারতের মিনেরভা পাঞ্জাব। খেলাটি হবে ভারতের গুয়াহাটির ইন্ধিরা গান্ধী এ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। গত ১৭ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দু’দলের প্রথম মোকাবেলায় কেউই জেতেনি। দু’বার পিছিয়ে পড়েও আবাহনী ড্র করেছিল ২-২ গোলে।

আজ দ্বিতীয় মোকাবেলা হওয়ার আগে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে আবাহনী। এই ম্যাচে আজ তারা জিতলেই হবে কেল্লাফতেÑ উত্তীর্ণ হবে পরবর্তী পর্বে (ইন্টার জোন প্লে-অফ পর্বে)। গ্রুপে ৫ ম্যাচে ৩ জয়, ১ ড্র ও ১ হারে সর্বোচ্চ ১০ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে আছে তারা। পক্ষান্তরে এই ম্যাচে আবাহনীকে হারালেও কোন লাভ হবে না পাঞ্জাবের। কেননা ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘটেছে তাদের। মজার ব্যাপারÑ ৫ ম্যাচের প্রতিটিতেই ড্র করেছে তারা। কোন জয় নেই, হারও নেই! পয়েন্ট ৫। অবস্থান তৃতীয়। সমান ম্যাচে ২ ড্র ও ৩ হারে ২ পয়েন্ট নেপালের মানাং মার্শিয়াংদি ক্লাবের। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে তারাও বিদায় নিয়েছে পাঞ্জাবের সঙ্গী হয়ে।

তবে আজকের খেলায় আবাহনী হারলে বা ড্র করলেই তাদের জন্য বিপদ হতে পারে। কেননা একইদিন এই গ্রুপের অপর ম্যাচে স্বাগতিক মানাং মার্শিয়াংদি মুখোমুখি হবে ভারতের চেন্নাইন ফুটবল ক্লাবের। আবাহনী হারলে আর চেন্নাইন জিতলে তখন চেন্নাইনের পয়েন্ট হয়ে যাবে আবাহনীর চেয়ে ১ বেশি (এখন ৫ ম্যাচে চেন্নাইনের পয়েন্ট ৮)। সেক্ষেত্রে আবাহনীকে টপকে তারাই চলে যাবে পরবর্তী রাউন্ডে, আর কপাল পুড়বে আবাহনীর। আবার আবাহনী যদি ড্র করে আর চেন্নাইন অনেক বেশি গোলের ব্যবধানে জেতে তখন দু’দলেরই সমান ১১ পয়েন্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তখন গ্রুপসেরা দল নির্ধারণে গোল পার্থক্যের তুলনা আসবে। এখানেও যদি সমতা থাকে তখন বেছে নেয়া হবে এ্যাওয়ে ম্যাচে কোন দল বেশি গোল করেছে। তখন সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে চেন্নাইন, কারণ তারা ঢাকায় আবাহনীর মাঠে ২ গোল করেছিল (ম্যাচটা হেরেছিল অবশ্য ৩-২ গোলে, আর আবাহনী চেন্নাইনের মাঠে কোন গোলই করতে পারেনি, হেরেছিল ০-১ গোলে)।

কাজেই ড্র বা হার নয়, কোন সমীকরণের ফাঁদে পড়া নয়, আজ জিতেই আবাহনী নিশ্চিত করতে চায় পরবর্তী রাউন্ডে নাম লেখানোটা।

আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস বলেছেন, ‘আমরা পরবর্তী রাউন্ডে যাবার দরজায় দাঁড়িয়ে আছি। গ্রুপের এই শেষ ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিতলেই প্রথমবারের মতো আমরা পরবর্তী রাউন্ডে চলে যাব। আমাদের ভাল প্রস্তুতি হয়েছে। তিন পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব।’

এবারের প্রতিযোগিতায় গ্রুপপর্বে এশিয়ার ৩৬ লীগ শিরোপাধারী দলকে ৯টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে আছে ৪টি করে দল। এই দলগুলোকে আবার ৫টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো : পশ্চিম, মধ্যম, দক্ষিণ, পূর্ব ও আসিয়ান অঞ্চল। পশ্চিম ও আসিয়ান অঞ্চলের মধ্যে ৬টি গ্রুপসহ মধ্যম, দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলে ১টি করে ৩টি নিয়ে মোট ৯টি গ্রুপ। দক্ষিণ অঞ্চলের ‘ই’ গ্রুপে পড়েছে আবাহনী। এক সময় এশিয়ার ক্লাবগুলো নিয়ে তিনটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করতো এএফসি। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, এএফসি কাপ ও এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপÑ এই তিনটির মধ্যে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর সুযোগ হতো প্রেসিডেন্টস কাপে। ২০০৮ সাল থেকে এএফসির ক্লাব টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছে এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপ। নিচের সারির ক্লাবগুলো প্রথমে এএফসি কাপের গ্রুপপর্ব খেলে যোগ্যতা অর্জন করতে হয় নকআউট পর্বের।

এখন দেখার বিষয় অতিথি হিসেবে স্বাগতিক পাঞ্জাবকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডের (নকআউট পর্ব) স্বপ্নটা সত্য করতে পারে কি না আবাহনী।