১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা

  • বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়;###;সৃজনশীল অনুশীলন;###;অষ্টম অধ্যায় প্রস্তুতি

২। সাজিদের গ্রামটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। সকালে খেলার মাঠে গিয়ে দেখল নদী পানিতে পূর্ণ। কিন্তু বিকেল বেলায় গ্রামের লোকজনের ছোটাছুটি, গবাদিপশু ও মালামাল অন্যত্র নিয়ে যাওয়া, ফসল সংরক্ষণের ব্যাপক প্রস্তুতি দেখে সে বুঝল তাদেরও এখন গ্রাম ছেড়ে যেতে হবে। তার পরিবারের সদস্যরা সাজিদের দাদি ও ৩ বছরের ছোট বোনকে নিয়ে বেশি চিন্তা করছিল।

ক) গ্রীন হাউস গ্যাস কী? খ) ভূমিধস কেন হয়? গ) সাজিদের এলাকায় কোন দুর্যোগ দেখা দিয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ) উক্ত দুর্যোগ সাজিদের পরিবারের উপর যে প্রভাব ফেলেছে তা নিরূপণ কর।

ক) উত্তর : গ্রীন হাউস গ্যাস হলো- বায়ুম-লের কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসিসহ গৌণ গ্যাসগুলোকেই একত্রে গ্রীন হাউস গ্যাস বলা হয়।

খ) উত্তর : ভূমিধস এক ধরনের দুর্যোগ। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধস ঘটে থাকে। বন উজার করে এবং পাহাড়ের মাটি কেটে ফেলার কারণে ভূমিধসের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। আমাদের দেশে নেত্রকোনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার প্রভৃতি জেলায় প্রায়শ ভূমিধস হয়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটে ও বাড়িঘর নষ্ট হয়।

গ) উত্তর : সাজিদের এলাকায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের উপর দিয়ে অসংখ্য নদী-নালা আঁকাবাঁকা হয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখানে নদী ভাঙ্গন একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। উদ্দীপকে ধলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে উক্ত দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটেছে। সাজিদের গ্রামের লোকজন গবাদিপশু ও মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা ফসল সংরক্ষণের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। গ্রামটি যেহেতেু ধলেশ্বরী নদীর তীরে এবং নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ তাই নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কায় গ্রামবাসীর এই প্রস্তুতির কারণ। প্রকৃতপক্ষে জীবন ও সম্পদ রক্ষার প্রস্তুতি নদীভাঙ্গন মোকাবেলার অংশ। নদী ভাঙ্গনের আশঙ্কা দেখা দিলে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। সাজিদের পরিবারও গ্রাম ছেড়ে অনত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তাই বলা যায়, সাজিদের গ্রামটি নদী ভাঙ্গনের সম্মুখীন হয়েছে।

ঘ) উত্তর : উক্ত দুর্যোগ সাজিদের পরিবারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যে কোন দুর্যোগে জীবন ও জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যপ্ত হয়। নদীভাঙ্গনও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এলাকার লোকজন সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। নদী ভাঙ্গনের ফলে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে এই দুর্যোগটির কারণে মানুষ গৃহহীন ও আশ্রয়হারা হয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়। নদী ভাঙ্গনের ফলে অন্যান্য পরিবারের মতো সাজিদের পরিবারকেও গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। কারণ তাদের জমিজমা, ঘরবাড়ি সব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এর ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একধরনের চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হবে। এখন তাদের নতুন আশ্রয়ের খোঁজ করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে বেশি ভাবতে হয়। অর্থাৎ সব হারিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশ্রয়হীন জীবনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাজিদের পরিবার চিন্তিত। উল্লেখ্য, নদী ভাঙ্গনের ফলে সাজিদের পরিবার অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করেছে। পরিশেষে বলা যায়, সাজিদের পরিবার নদীভাঙ্গনে করুন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

৩। আরও অনেকে সঙ্গে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এতে মোশারফ মিয়া কোন মতে বেঁচে গেলেও অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে এবং এই নিয়ে অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় অনেক সংগঠন ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে আছে।

ক) পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোনটি? খ) বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়? গ) উদ্দীপকে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ) ‘উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুরুজ মিয়ার অসচেতনতাই দায়ী’-মূল্যায়ন কর।

ক) উত্তর : পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বন উজারকরণ। খ) উত্তর : বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে বোঝায়। গ্রিন হাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করে। সূর্যের তাপ এই আচ্ছাদনটি শোষণ করে এবং তা পৃথিবী পৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবী পৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠা-া হয়। কিন্তু বায়ুম-লে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ মহাশূন্যে না মিলিয়ে গিয়ে বায়ুম-লকে উত্তপ্ত করে। এইভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।

গ) উত্তর : উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগটি হচ্ছে ভূমিধস। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলে। যেসব পাহাড় বেলে পাথর বা শেল কাদা দিয়ে গঠিত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই সেসব পাহাড়েই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কাটার কারণেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজন মাটিচাপা পড়ে এবং প্রাণ হারায়। ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে বহুলোক প্রাণ হারায় এবং এলাকাটি যাতায়ত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ কাজ ব্যাহত হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত অনেকের সঙ্গে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে বসবাস করেন। বর্ষায় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভেঙ্গে পড়ে। এতে মোশারফ মিয়া কোন মতে বেঁচে গেলেও অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে।

ঘ) উত্তর : ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির জন্য মোশারফ মিয়াদের অসেচনতাই দায়ী। পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলা হয়। যেসব পাহাড় বেলে পাথর বা শেল কাদা দিয়ে গঠিত ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই সেসব পাহাড়েই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধস ঘটে থাকে। তবে ব্যাপক হারে বৃক্ষ নিধন ও পাহাড় কাটার কারণেও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। এর ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজন মাটিচাপা পড়ে এবং প্রাণ হারায়। ব্যক্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের গাছ কাটা ও মাটি কাটার কারণে আমাদের পাহাড়গুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমাদের অসচেতনতাই দায়ী। ভারি বৃষ্টিপাতের সময় নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেয়া, পাহাড়ের গাছ কাটা ও মাটি কাটা বন্ধ করতে পারলেই ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কমে যাবে। সচেতনতার অভাবে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লোকজনের মধ্যে ভূমিধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উদ্দীপকে মোশারফ মিয়া পাহাড়ের নিচে ঘর বাঁধে এবং বর্ষার সময়ও সে এখানে বসবাস করে। তার অজ্ঞতা ও অসচেতনতা কারণে ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।