১৫ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ববি’র ভিসির রুটিন দায়িত্বে ট্রেজারার

ববি’র ভিসির রুটিন দায়িত্বে ট্রেজারার

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ প্রায় এক মাস অভিভাবক শূন্যতায় থমকে যাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার জন্য ভিসি নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানকে ভিসির রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্তির সতত্য নিশ্চিত করে অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ওয়ার্ক পরিচালনার জন্য আমাকে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের দাবি-দাওয়া আছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।

ববি’র শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্য শূন্যতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অচল ও স্থবিরতা বিরাজ করছিলো। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আবারো প্রাণ ফিরে পেল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের সংগঠক বাহাউদ্দীন গোলাপ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রক্রিয়ায় যে অচলায়তন সৃষ্টি হয়েছিল সেটা কেটে যাবে।

সাবেক ভিসি বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা লোকমান হোসেনসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, ভিসির দায়িত্ব প্রদানের চিঠির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এতোদিন ক্যাম্পাসের যে স্থবিরতা ছিল সেটা এখন কেটে যাবে এবং সকল কার্যক্রম সচল থাকবে। তারা আরও জানান, শুধুমাত্র রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব স্যার। এক্ষেত্রে দ্রুত নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোয় প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠে সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এসএম ইমামুল হকের বিরুদ্ধে। উপাচার্যের ওই মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ২৬ মার্চ বিকেল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেন।

গত ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ৪৬ দিনের ছুটির অনুমোদন প্রদান করেন। ছুটি শেষে ২৭ মে ঢাকার লিয়াজো অফিসে শেষ কর্মদিবসের দায়িত্ব পালন করেন ভিসি ড. এসএম ইমামুল হক। এরপর প্রায় একমাস অভিভাবক শূন্যতায় থাকার পর ২৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগের উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে ববি’র ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান কে নতুন ভিসি নিয়োগের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

নির্বাচিত সংবাদ