১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ই-পাসপোর্ট

সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত ও সমৃদ্ধ তথা ডিজিটালাইজড বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার আন্তরিক ও অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই প্রক্রিয়ারই অন্যতম একটি অপরিহার্য অংশ ই-পাসপোর্ট। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুলাইয়ের প্রথম বড়জোর দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট। ইলেকট্রনিক বা ই-পাসপোর্ট বহনকারী নাগরিকদের জন্য ইতোমধ্যেই ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শাখায় বসানো হয়েছে ই-পাসপোর্ট গেট। এতে আগমন ও বহির্গমন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এর পাশাপাশি জাল ও ভুয়া পাসপোর্টের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। যাত্রী হয়রানি কমবে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ১২০তম। অবশ্য প্রচলিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্টও চালু থাকবে, যা মেয়াদ শেষে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

২০০৮ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোতে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। আমাদের দেশে এমআরপির যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। যাহোক, দেরিতে হলেও ই-পাসপোর্ট চালু হওয়া ইতিবাচক বৈকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তাঁর জার্মানি সফরের সময় ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে সে দেশের সরকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমআর পাসপোর্ট বাতিল হবে না। তবে কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। বর্তমানে বই আকারে যে পাসপোর্ট আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে বর্তমান পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে থাকবে পালিমারের তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (পিকেডি)। আন্তর্জাতিক এই তথ্যভান্ডারে পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)। ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্যভা-ারে ঢুকে তথ্য যাচাই করতে পারে। ই-পাসপোর্টের বাহক কোন দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে পিকেডিতে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করে আবেদন গ্রহণ করে বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার কিংবা বাতিল করে সিল দিয়ে দেয়। স্থল ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও একই পদ্ধতিতে পিকেডিতে ঢুকে ই-পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে থাকে। এটি এক অত্যাধুনিক প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি।

পাসপোর্ট অধিদফতর তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে ৩০ লাখ পাসপোর্ট জার্মানি থেকে প্রিন্ট করিয়ে সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫শ’ ৬৯ কোটি টাকা। এরপর আরও ২ কোটি ৮০ লাখ পাসপোর্ট বাংলাদেশে প্রিন্ট করা হবে। সেজন্য কারখানা স্থাপন করা হবে উত্তরায়। ই-পাসপোর্ট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থার আরও এক ধাপ উন্নতি সাধিত হলো। এতে নাগরিকরাও যে অধিক উপকৃত হবেন, তা বলাই বাহুল্য।