১০ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাতৃভাষা সংরক্ষণে পদক

মাতৃভাষা চর্চা, সংরক্ষণ এবং বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিশেষ পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক নীতিমালা ২০১৯’-এর খসড়া প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মাতৃভাষা চর্চায় এমন নীতিমালা অনুমোদন বাংলা ভাষাকে আরও সম্প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করবে- এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করাই যায়। বাংলা ভাষার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। আবার এমন উন্নত মানের ভাষার ওপর আক্রমণও ইতিহাসের সাক্ষী। ’৪৭ -এর দেশ বিভাগে বাংলা ভাষাকে নিয়ে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৎকালীন সময়কে উত্তপ্ত করে দেয় তারই অনিবার্য পরিণতিতে ভাষা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। ভাষার জন্য কোন জাতিকে লড়াইয়ে নামতে হয়েছে, এমন নজির বিরল। সেই অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে বাঙালীরা যে মাত্রায় ভাষা সুরক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করেছিল, সেটাও ছিল আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে স্বতন্ত্র একটি দেশের গোড়াপত্তনের প্রাথমিক ভিত্তি। তাই ’৫২-এর ভাষা শহীদরা আজও বাঙালী জাতির মহান দিকনির্দেশক। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র অভিযান তার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে গেলে ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনার মাধ্যমে মাতৃভাষা যেমন তার আকাক্সিক্ষত জায়গায় পৌঁছে যায় একইভাবে বাঙালী জাতিও নিজস্ব একটি স্বাধীন আবাস ভূমি তৈরিতে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। বাংলা ভাষার অবিস্মরণীয় বিজয় নিশান সময়ের দুর্বার মিছিলে প্রতিনিয়তই পরিশীলিত এবং বিশ্বমানের সমমর্যাদায় এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বাংলা ভাষার উৎকর্ষ ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পর্বের সূচনা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। আবার তাঁর আমলেই মাতৃভাষা সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পদক প্রদান বাংলা ভাষার মানোন্নয়নের নতুন আরও এক মাত্রা যোগ হলো। প্রতি দুই বছর অন্তর জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দুটি করে এই পদক দেয়া হবে, যার আর্থিক মূল্যমান বাংলাদেশের টাকায় ৪ লাখ। আর আমেরিকান অর্থ মূল্যে ৫ হাজার ডলার। এই পদককে শুধুমাত্র বাংলা ভাষা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মাতৃভাষা চর্চা, বিকাশ, প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রেও এই পদক যোগ্যতার মাপকাঠিতে বিবেচ্য হবে। তবে বিশেষ করে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা চর্চা এবং প্রসারকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়া সময়ের যৌক্তিক দাবি। যে লক্ষ্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তার কিছু এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। দাফতরিক ভাষা বাংলা এটা যেমন সত্য, একইভাবে রাষ্ট্রিক পর্যায়ের সর্বক্ষেত্রে মাতৃভাষাকে সেভাবে তার যথার্থ আসনে বসানো যায়নি- এটাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে। মাতৃভাষার যথার্থ চর্চা, অনুশীলন, প্রতিদিনের কর্মপ্রবাহের সঙ্গে এর সংযুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বক্ষেত্রে বাংলা ভাষা প্রচলনে আরও গতি সঞ্চার করা অত্যন্ত জরুরী। মাতৃভাষা সংরক্ষণে পদক প্রদানের আইনগত ভিত্তির সুবর্ণ সময়ে এসব প্রয়োজনীয় বিষয়ও আমলে নিতে হবে। তবেই পদক প্রদানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মান সুরক্ষিত হবে।

এই মাত্রা পাওয়া