১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘উগ্রবাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন’

  • সংস্কৃতি কর্মীদের নিয়ে সেল গঠনের তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরবর্তী প্রজন্মের চেতনায় বাঙালী সংস্কৃতি যুক্ত করতে হবে। উগ্রবাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সংস্কৃতিবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব হলে উগ্রবাদ কোনদিনই বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ সেন্টারে ওয়াটারফল রেস্টুরেন্টে ‘উগ্রবাদ প্রতিরোধে সংস্কৃতিকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মোঃ মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বিশিষ্ট অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এমপি। অন্যের মধ্যে অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিমসহ চলচ্চিত্র ও নাটকের পরিচালক, অভিনয় শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী এবং ডিএমপির উর্ধতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, যারা সরাসরি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান আছে। সন্ত্রাসবাদ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে। সন্ত্রাসবাদ একটি মতাদর্শিক বিষয়। সন্ত্রাসবাদ আদর্শকে কেন্দ্র করে মানুষের মননে বাসা বাঁধে। ফলে এটি শুধু জেল জরিমানা করে বা সরাসরি কাউন্টার করে দমন বা নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ যে বীজটি মাথায় রোপিত হয়েছে, সেটি সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সরাসরি নির্মূল করা সম্ভব না। এজন্য দরকার কাউন্সিলিং ও সচেতনতা। মসজিদের ঈমামগণ পবিত্র জুমার নামাজের খুতবায় সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে বললে এবং ইসলামের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক না থাকার প্রকৃত সত্যটি সর্ম্পকে ব্যাখ্যা করলেই যুবসমাজসহ সকলে শুনবেন ও মানবেন। যারা বিপথে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনা এবং আর যাতে না যেতে পারে সেদিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। উগ্রবাদে না ঝুঁকতে এন্টিবডি তৈরি করা জরুরী। সংস্কৃতিমনা, দেশপ্রেম, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও দেশের মানুষকে ভালবাসার মাধ্যমে সকলের মধ্যে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করতে হবে।

আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, বর্তমান কোন বাবা-মা তার সন্তানকে নাচ, গান ও অন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভর্তি করেন না। যেখানে নম্বর ও জিপিএ-৫ নেই সেখানে বাবা-মা সন্তানকে ভর্তি করে না। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের যেকোন আন্দোলনে শিল্পী সমাজ অংশ নিয়েছে। আমরা যেখানে যে পেশায় আছি সেখান থেকে কাজ ছোট হলেও বড় করে করা যায়। উগ্রবাদীরা যেভাবে অন্ধ হয়ে মরণ নেশায় নেমেছে, তাদেরকে কিভাবে চোখে আলো দেখাবেন? শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা অনেকাংশে বাড়াতে হবে। আমাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেভাবে কাজ করতে হবে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা প্রয়োজন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামগঞ্জে গিয়ে মানুষকে সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কুফল সম্পর্কে বুঝাই। বাংলাদেশ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন টিকিয়ে রাখতে হলে নিজ থেকে আমাদের কাজ করতে হবে।

শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, উগ্রবাদ প্রতিরোধে সংস্কৃতিকর্মীদের অনেক কিছু করার আছে। সহিংস উগ্রবাদ সম্পর্কে সকলকে সচেতন করতে প্রত্যেকটি টেলিভিশনে প্রতিমাসে সন্ত্রাসবিরোধী নাটক প্রচারে বাধ্য করা, তারকা শিল্পীদের নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে জনগণের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে সহিংস উগ্রবাদ সম্পর্কে ধারণা দেয়া ও বছরে ২/৩টি সহিংস উগ্রবাদবিরোধী মঞ্চ নাটক মঞ্চায়িত করতে বাধ্যতামূলক করা। চলচ্চিত্রে সহিংস উগ্রবাদ বা জঙ্গীবাদ নিয়ে সিনেমা প্রচার হলেও নাটকে এর উপস্থিতি নেই। স্যোশাল কমিটমেন্টের আওতায় আমরা শিল্পীদের বিভিন্ন জায়গায় প্রেরণ করব। আমরা চাই উগ্রবাদ নয়, সম্প্রীতি। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।