১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির রেসে পাকিস্তান

 নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির রেসে পাকিস্তান
  • ম্যাচসেরা সেঞ্চুরিয়ান বাবর আজম, চলতি বিশ্বকাপে কিউইদের প্রথম হার

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ ক্রিকেটের চিরায়ত গৌরবয় অনিশ্চয়তা আর পাকিস্তান যেন একে অন্যের পরিপূরক! নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে একটি মাত্র জয়ের বিপরীতে তিন হারে যে দলটার বিশ্বকাপের লিগ-পর্ব থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই তারাই সেমির রেসে ফিরল দুর্দান্ত প্রতাপে। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সরফরাজ আহমেদের দল বুধবার হারিয়েছে দুর্ধর্ষ নিউজিল্যান্ডকে। ৬ উইকেটের বড় জয়ের পথে চলতি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কিউইদের ‘প্রথম’ হারের তেতো স্বাদ উপহার দিয়েছে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিরা। বার্মিংহামে এদিন কেবল টসটাই জেতেনি সরফরাজ বাহিনী, বাকি সবকিছু হয়েছে মনের মতো। প্রথমে তরুণ শাহিন শাহ আফ্রিদির (৩/২৮) পেস-তান্ডবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩৭ রানের বেশি করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। এরপর বাবর আজম (১০১*) ও হারিস সোহেলের (৬৮) চমৎকার ব্যাটিংয়ে ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে শেষ ওভারের প্রথম বলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে এসেছে সরফরাজের দল। সমান পয়েন্টেও রান রেটে একধাপ এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আছে পাঁচ নম্বরেই।

শুরু থেকে দারুণ ব্যাটিং উপহার দেয়া উইলিয়ামসন-রস টেইলররাও যখন বার্মিংহামে রান তুলতে হাঁসফাঁস করছিল তখন এই পিচে দুর্ধর্ষ কিউই বোলিংয়ের মুখে পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানরা কেমন করেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। দলীয় ৪৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ইমাম-উল হক (২৯ বলে ১৯) ও ফখর জামান (১০ বলে ৯) সাজঘরে ফিরলে অজানা শঙ্কা পেয়ে বসে দলটির সমর্থকদের। কিন্তু এরপরই মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে শুরু বাবর আজমের দুরন্ত উইলোবাজি। টার্গেট বড় নয় তাই সময় নিয়েছেন আবার সুযোগ বুঝে বাউন্ডারিও হাঁকিয়েছেন। ২৪ বছর বয়সীর ব্যাটিংয়ে ছিল দারুণ ধৈর্য্য আর পরিপক্বতার ছাপ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে জেতানোর পাশাপাশি পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ১২৪ বলে বিশ্বকাপে স্বপ্নের ট্রিপল ফিগারে পৌঁছতে ১১টি চার মেরেছেন, নেই কোন ছক্কা, এতেই বোঝা যায় তার এই ইনিংস কতটা সময়োপোযোগী আর ক্ল্যাসিক্যাল। শেষ পর্যন্ত ১২৭ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বাবর। আর ৭৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কয় ৬৮ রান করা হারিস শেষ মুহূর্তে রানআউট হলে উইনিং শটে চার মেরে খেল খতম করে দেন অধিনায়ক সরফরাজ (৩ বলে ৫*)। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১টি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট, লোকি ফার্গুসন ও কেন উইলিয়ামসন।

এর আগে পাকিস্তানের বোলিং তোপে দলীয় ৪৬ রানে চতুর্থ, ৮৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে বসেছিল নিউজিল্যান্ড। ছয় নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ৯৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন নিশাম। ষষ্ঠ উইকেটে তিনি আরেক অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্রান্ডহোমের সঙ্গে গড়েন ১৩২ রানের অসাধারণ এক জুটি। গ্র্যান্ডহোম করেন ৬৪ রান। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান। বার্মিংহামে সকালের বৃষ্টিতে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় ম্যাচ শুরু হয়েছিল এক ঘণ্টা দেরিতে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মোহাম্মদ হাফিজকে প্রথম বলেই চার মেরে শুরু করেছিলেন মার্টিন গাপটিল। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ আমিরের প্রথম বলেই ফেরেন টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ কিউই ওপেনার। ৫ রান করা গাপটিল অফ স্টাম্পের ফুল লেংথ বলে টেনে আনেন স্টাম্পে।

আমিরের দেখানো পথ ধরে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন আফ্রিদি। তরুণ বাঁ-হাতি পেসার নিজের চার ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফেরান তিন ব্যাটসম্যানকে। অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন কলিন মুনরো (১২)। উইকেটকিপার সরফরাজ আহমেদের দারুণ ক্যাচে ফেরেন অভিজ্ঞ রস টেইলর (৩)। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন টম লাথামও (১)। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে নিউজিল্যান্ড। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক উইলিয়ামসন। পঞ্চম উইকেটে তিনি নিশামের সঙ্গে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। দু’জন গড়ে ফেলেছিলেন ৩৭ রানের জুটি। এরপরই দারুণ এক ডেলিভারিতে উইলিয়ামসনকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙ্গেন লেগ স্পিনার শাদাব খান। ৬৯ বলে ৪ চারে উইলিয়ামসন করেন ৪১ রান। এরপরই ইনিংসে নিজেদের সেরা সময়টা কাটায় নিউজিল্যান্ড। পাল্টা আক্রমণে উল্টো পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চাপ ফিরিয়ে দেন নিশাম ও গ্রান্ডহোম।

দু’জনই তুলে নেন ফিফটি। নিশাম ৭৭ বলে, গ্রান্ডহোম ৬৩ বলে। দু’জনের জুটির শতরান পূর্ণ হয় ১১১ বলে। দলের স্কোর দুই শ’ পার করে ফেরেন গ্র্যান্ডহোম। ৭১ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৬৪ রান করে রান আউটে কাটা পড়েন ডানহাতি এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। শেষ বলে ওয়াহাব রিয়াজকে ছক্কায় উড়িয়ে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন নিশাম। ১১২ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সেরা বোলার আফ্রিদি। আমির ৬৭ রানে ও শাদাব ৪৩ রানে নেন একটি করে উইকেট।

স্কোর-নিউজিল্যান্ড : ২৩৭/৬ (৫০ ওভার; গাপটিল ৫, মুনরো ১২, উইলিয়ামসন ৪১, টেইলর ৩, লাথাম ১, নিশাম ৯৭*, ডি গ্র্যান্ডহোম ৬৪, স্যান্টনার ৫*; হাফিজ ০/২২, আমির ১/৬৭, আফ্রিদি ৩/২৮, ইমাদ ০/১৭, শাদাব ১/৪৩, ওয়াহাব ০/৫৫)

পাকিস্তান : ২৪১/৪ (৪৯.১ ওভার; ইমাম ১৯, ফখর ৯, বাবর ১০১*, হাফিজ ৩২, হারিস ৬৮, সরফরাজ ৫*; বোল্ট ১/৪৮, ফর্গুসন ১/৫০, উইলিয়ামসন ১/৩৯)

ফল ॥ পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরা ॥ বাবর আজম (পাকিস্তান)