১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগুনে পোড়া কলেজছাত্রী ফুলন অবশেষে মারা গেলেন ঢামেকে

 আগুনে পোড়া কলেজছাত্রী ফুলন অবশেষে মারা গেলেন ঢামেকে

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী ॥ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনার ১৩ দিন পর বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ফুলন রানী বর্মণ (২২)।

নরসিংদীর বীরপুরে জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে পিসতুতো ভাই ও তার দুই সহযোগীর দেয়া আগুনে দগ্ধ হয় ফুলন রানী বর্মণ। শরীরের ২০ ভাগ পোড়া নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ২৬ জুন বুধবার সকাল ৬টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুন রাতে জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিবেশী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে ফুলন বর্মণের গায়ে আগুন দেয় ফুফাত ভাই ভবতোষ বর্মণ ও তার দুই সহযোগী রাজু সূত্রধর ও আনন্দ বর্মণ। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। পরে গ্রেফতারকৃত রাজু সূত্রধর শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার পিংকীর আদালতে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়।

জবানবন্দীতে রাজু সূত্রধর জানায়, প্রতিবেশী সুখ লাল ও হিরা লালের পরিবারকে জমি সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবেই ফুলন বর্মণের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। ভবতোষের নেতৃত্বে সহযোগী রাজু সূত্রধর ও আনন্দ বর্মণ এতে অংশ নেয়।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ভবতোষ বর্মণ ও অপর সহযোগী আনন্দ বর্মণকেও গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

গ্রেফতারের পর শনিবার ভবতোষ বর্মণ ও গত মঙ্গলবার আনন্দ বর্মণ নরসিংদীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। জবানবন্দীতে জমি সংক্রান্ত মামলায় প্রতিবেশী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ফুলনের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার কথা স্বীকার করে তারা। বর্তমানে অভিযুক্ত তিনজনই আদালতের নির্দেশে কারাগারে আছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, ১৩ জুন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের বীরপুরের যোগেন্দ্র বর্মণের মেয়ে ফুলন রানী বর্মণ একটি দোকান থেকে কেক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা ২/৩ ব্যক্তি তার হাত মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ঘটনার একদিন পর ফুলন বর্মণের বাবা যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।