২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হত্যাকারীর নাম জিয়াউর রহমান

  • সংসদে বাজেট আলোচনা

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারী দলের মন্ত্রী-এমপিরা বলেছেন, দেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হত্যাকারীর নাম হচ্ছে জিয়াউর রহমান। তার আমলে ৮১টি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটেছে, শত শত মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছেন। আর জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া শুধু লুণ্ঠন, অর্থপাচার, দুঃশাসন নয়, নির্বিচারে হত্যাকান্ড চালিয়েছেন। বিরোধী দলে থাকতেও নির্বিচারে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। এসব কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রথমে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, শাজাহান খান, রমেশ চন্দ্র সেন, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামিম, বেগম হাবিবুন নাহার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম, সরকারী দলের বি এম কবিরুল হক, বেগম আয়েশা ফেরদাউস, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, বদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন, মুহিবুর রহমান মানিক, বেগম শিরীন আহমেদ, আছলাম হোসেন সওদাগর, কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, জাফর আলম, আনোয়ার হোসেন খান, কাজী কানিজ সুলতানা, আয়েন উদ্দিন, মোজাফফর হোসেন, মোঃ আক্তারুজ্জামান, এস এম শাহজাদা, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম তালুকদার, পনির উদ্দিন আহমেদ, নাজমা আক্তার ও বিএনপির আমিনুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান প্রয়াত জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘ভয়ঙ্কর’ হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যদি প্রশ্ন করা হয় দেশে ভয়ঙ্কর হত্যাকারী কে? তাহলে উত্তর হবে জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান ভয়ঙ্কর হত্যাকারীর নাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই এ হত্যাকা- শুরু করেন জিয়া। বিভিন্ন ক্যুর নামে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করিয়েছেন, ৮১টি রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে জিয়ার আমলে। জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেন। তাঁর আমলে বিদ্যুত ও সার চাওয়ার অপরাধে ১৭ শ্রমিক ও ১৮ জন কৃষককে গুলি করা হত্যা করা হয়। শুধু ক্ষমতায় থাকতে নয়, বিরোধী দলে থাকতেও আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এর কী জবাব দেবেন বিএনপির বন্ধুরা।

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, দেশের মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনার হাতে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার হাতেই একমাত্র বাংলাদেশ নিরাপদ, অন্য কারোর হাতে নয়- তা নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে। খালেদা জিয়া-তারেক নির্বিচারে দেশের মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এবং বিরোধী দলে থাকতেও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছে। এসব হত্যাকারী-দুর্নীতিবাজদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষে রায় দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। নতুন প্রজন্মের প্রায় ২ লাখ নতুন ভোটার আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, তাই তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বাজেট দিতে এখন আমাদের বিদেশী সাহায্যের প্রয়োজন হয় না, বরং অল্পদিনে আমরা অন্য দেশকে সাহায্য করতে পারব- বর্তমানে দেশ সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, দেশ এগিয়ে গেলেও বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। বাজেটটি মোটেও স্মার্ট হয়নি, বরং অনেকস্থানে গোঁজামিল রয়েছে। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। এখন ২২ হাজার পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। বৈষম্য সৃষ্টিতে এবং ধনিক শ্রেণী সৃষ্টিতে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন প্রথম। তাই বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতিতে ফিরে আসতে হবে, নইলে বৈষম্য কমবে না। বাংলাদেশে ৬৫০ জন বিদেশী কাজ করলেও ট্যাক্স দেন মাত্র ১৬ জন। এদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করতে হবে। খেলাপী ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আর বাজেট বাস্তবায়ন না করার দায় শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আমলাদেরও নিতে হবে।

বিএনপির আমিনুল ইসলাম সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক, কিন্তু হলো প্রতিহিংসামূলক। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো প্রতিহিংসামূলক নির্বাচন আর না হয়। মাইক দিয়ে ডেকেও ভোট কেন্দ্রে ভোটার পাওয়া যায় না। নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তাই আমরা দ্রুতই নতুন নির্বাচন চাই।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটকে ঐতিহাসিক ও গণমুখী বাজেট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। যে দল দেশের স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়, সেই দল ক্ষমতায় থাকলে দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যায়, দেশ ও জাতি লাভবান হয়, তা আজ প্রমাণ হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে সরকার ঋণ গ্রহণে বেসরকারী বিনিয়োগকারীরা অর্থ পায় না, এ অভিযোগ মোটেও ঠিক নয়। দেশে রেমিটেন্স ও দেশীয় মুদ্রার কোন সঙ্কট নেই। ঘাটতি বাজেট না থাকলে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয় না। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, রাজস্ব খাতে ৫ ভাগ অর্জিত হয় পাট খাত থেকে। পাটশিল্পকে বহুমুখীকরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানের মতো দেশের অর্থনীতি যদি এগিয়ে যায় তবে ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হব। তিনি জঙ্গীবাদের মতো মাদকের ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, গত ১০ বছরে ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন সারাবিশ্বের কাছে একটি দর্শনে পরিণত হয়েছে। গ্রাম থেকেও শহরে ডিজিটালাইজেশন করা সম্ভব তা প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সৎ ও কর্মঠ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। অচিরেই পার্লামেন্টের লাইব্রেরিও ডিজিটাল হয়ে যাবে। জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম তালুকদার সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এবং বগুড়া বিমানবন্দর চালু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন যে বাংলাদেশে হয়েছে তা দেশ-বিদেশের মানুষ স্বীকার করে। তবে এ দেশে মূল উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে পল্লীবন্ধু এরশাদের নামে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বিএনপির কম হলেও তাঁরা নির্বাচিত হলেন কীভাবে? মাঝপথে পালিয়ে গেলেন কেন? সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথম মদের লাইসেন্স দেয়। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে দেশে লুটপাট, দুঃশাসন চালায়, পুত্রকে দিয়ে হাওয়া ভবন বানিয়ে দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাঠায়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালায়।

নির্বাচিত সংবাদ