১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুর্শিদাবাদ মালদহ ও বাংলাদেশে হামলা করাই ছিল টার্গেট

  • চার জঙ্গীর জবানবন্দী

শংকর কুমার দে ॥ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আটক তিন বাংলাদেশীসহ চার আত্মঘাতী নব্য জেএমবি জঙ্গীকে ভারতের মাটিতে রেখে কাজে লাগাচ্ছে মূলত ক্যাডার নিয়োগ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও আশ্রয়ের জন্য। কিন্তু জঙ্গীগোষ্ঠীর অপারেশনের টার্গেট বাংলাদেশ। ভারতের তিন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা বাংলাদেশে জঙ্গী সংগঠন জাল বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতের ওই তিন রাজ্য ও বাংলাদেশে তিন শতাধিক জঙ্গী সক্রিয়। এদের ছয় জঙ্গী বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছিল। হঠাৎ ৪ জঙ্গী ধরা পড়েছে। দু’জন গা-ঢাকা দিয়েছে কলকাতায়। ভারতে ও বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষছিল এরা। মঙ্গলবার আটক চার জঙ্গীকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশী হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের (এসটিএফ) জিজ্ঞাসাবাদে সব তথ্য দিয়েছে আটক চার জঙ্গী। ওরা ইসলামিক স্টেটস (আইএস) মতাদর্শের অনুসারী বলে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ফোর্সের (এসটিএফ) দাবি।

এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কলকাতায় আটক বাংলাদেশী তিন নব্য জেএমবির জঙ্গী হচ্ছে জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদ, শাহিন আলম ওরফে আলামিন ও রবিউল। রবিউল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের নয়াগ্রামের বাসিন্দা। বাংলাদেশী জঙ্গীর মধ্যে জিয়াউরের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, মামনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে। তাদের জেরা করেই খোঁজ মেলে জিহাদী শাহিন আলম ওরফে রবিউলের। শাহিনের বাড়ি রাজশাহীতে। স্লিপার সেল পদ্ধতিতে যেভাবে খুন করা হয় তারা সে ভাবেই সংগঠিত হচ্ছিল। সোমবার দুই জঙ্গীকে শিয়ালদহ স্টেশন এলাকা থেকে, বাকি দু’জনকে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে মোবাইল ফোন, জিহাদ সংক্রান্ত ডিজিটাল নথিসহ বিভিন্ন সামগ্রী।

মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয় আটক চার জঙ্গীকে। বিচারক তাদের পুলিশী হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ফোর্স। কিছুদিন আগে আইএস জঙ্গী গোষ্ঠী তাদের মুখপত্রে দাবি করেছিল, খুব শীঘ্রই তারা ফিরছে। এরপরই গ্রেফতার হলো চার আইএস মতাদর্শের জঙ্গী। তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গে শরিয়তি আইন কায়েম। দুই রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করাই তাদের লক্ষ্য। এজন্য বড়সড় নাশকতা ঘটানোর ছক কষা হচ্ছিল। গোয়েন্দারা জানতে পারে, নব্য জেএমবি সদস্যদের নিয়েই সংগঠন তৈরি করছে তারা। কওসরসহ পুরনো জেএমবির মাথারা ধরা পড়ে যাওয়ায় নতুন ‘আমির’ নির্বাচন করা হয়েছে। তার নির্দেশমতোই পশ্চিমবঙ্গে নব্য জেএমবির সদস্যরা আইএসের হয়ে কাজ করছে।