২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কঠিন সঙ্কটে মমতা

  • এনামুল হক

লোকসভা নির্বাচনের তিন সপ্তাহ পর পশ্চিমবঙ্গকে দেখতে যুদ্ধাঞ্চলের মতোই লাগছে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছে। হাজার হাজার লোক আহত ও গৃহহারা হয়েছে। আগের সহিংস ঘটনাবলীর সঙ্গে এবারের পার্থক্য হলো এবারের সহিংসতার যারা শিকার হয়েছে তাদের মধ্যে তৃণমূল কর্মীরাও আছে। বিজেপি বিরামহীনভাবে পাল্টা আঘাত হেনে চলেছে। বিজেপির মোকাবেলা করা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর জন্য উত্তরোত্তর কঠিন হয়ে উঠছে। পুলিশ ও আমলাদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ছে। সহিংসতার জন্য অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এখন আর অনিহার পরিচয় দিচ্ছে না। বেশ কিছু মন্ত্রী মমতার কাছে অভিযোগ করেছেন যে সিনিয়র পুলিশ অফিসার ও আইএএস কর্মকর্তারা তাদের আদেশ পাঙ্গণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

মমতাও গত ১০ জুন প্রশাসনের এক পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রকাশ্যেই সমস্যাটা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন অনেক অফিসার একটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। আমাদের এর মোকাবেলা করতে হবে। বিজেপির সিনিয়র নেতা মুকুল রায় বলেন, এ ধরনের মন্তব্য করার আগে মমতার পদত্যাগ করা উচিত ছিল। তার ওই মন্তব্যের অর্থ তিনি সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার আর কোন অধিকার তার নেই। মমতার উদ্বেগটা বোধগম্য কারণ আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তৃণমূলের লাইনে ভিড়তে উত্তরোত্তর গররাজি হচ্ছে।

গত ৯ জুন বশিরহাট জেলার সন্দেশখালী ব্লকে সহিংসতার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। ওইদিন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। বিজেপি জানায় তাদের দুই কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত এবং তিনজন নিখোঁজ হয়। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মেরে ফেলা হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। অন্যদিকে তৃণমূল বলে যে, তাদের এক কর্মী নিহত ও ২ জন নিখোঁজ হয়েছে।

পুলিশ তৃণমূলের কাইয়ুম মোল্লার হত্যার দায়ে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। অন্যদিকে বিজেপির ২ জন কর্মীকে হত্যার জন্য তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আরেক এফআইআর দায়ের করা হয়। গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় সহিংসতার তা-ব চলাকালে পুলিশ যে আচরণ করেছিল তা থেকে এই আচরণ সম্পূর্ণ আলাদা। সে সময় বিজেপি অভিযোগ করেছিল যে তাদের ৮০ জন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার এই তথ্য পরিসংখ্যানকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দেয়।

মুকুল রায় বলেন, বিজেপি মমতাকে ‘খুনী’ হিসেবে চিত্রিত করবে যেমন তিনি করেছিলেন তার পূর্বসূরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। মমতা বলেছিলেন বুদ্ধদেব বাবুর হাত রক্তরঞ্জিত। আজ মমতার শাড়ি রক্ত রঞ্জিত। ওদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার কর্মকর্তাদের পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে বলেছেন। তার মন্ত্রণালয় থেকে দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগে বহুবার রাজ্য সরকার দিল্লীর কাছ থেকে আসা এ জাতীয় পরামর্শমূলক চিঠিকে আমল দেয়নি কিন্তু এবার দিতে বাধ্য হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতি ঠিকমতো মোকাবেলা না করার জন্য মমতাকেই দায়ী করছেন। তিনি নিজেই বিজেপি কর্মীদের ‘জয় শ্রী রাম’ সেøাগানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে তিনি গাড়ি থেকে নেমে এসে এই সেøাগান দেয়া কর্মীদের কঠিন পরিণতি ভোগের হুমকি দিয়েছিলেন। অনেককে জেলেও পাঠিয়েছিলেন। এমন ভূমিকার কোন প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র কংগ্রেস সদস্য ও রাজ্যসভার এমপি প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘মমতাই বাংলায় বিজেপিকে বাড়তে দিয়েছিলেন এ কথা তিনি কিভাবে অস্বীকার করতে পারেন।

তৃণমূল-বিজেপি লড়াই যখন চলছে এ অবস্থায় রাজ্যপাল কেএন ত্রিপাঠী ১০ জুন দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন। মোদি নাকি তাকে সকল দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে পরিস্থিতি সামলে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফিরে এসে ত্রিপাঠী তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম প্রতিনিধিদের বৈঠক ডেকেছেন। এর আগে তিনি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করার কথা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

ওদিকে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার ভারপ্রাপ্ত অরবিন্দ মেনন বলেন তার দল ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে যখন মানুষ নির্বাচনে মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। কিন্তু মমতা যেরূপ আচরণ করছেন তাতে ২০২১ সালের আগেই তার পতন ঘটবে বলে তিনি মন্ত্রব্য করেন।

সূত্র : দি উইক

নির্বাচিত সংবাদ