১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একই যন্ত্রে বহুমুখী কাজ

গৃহস্থ বাড়িতে ধান মাড়াই কাজে কামলা কিষানের কায়িক শ্রম নেই। ধান মাড়াইয়ে গরুর খাটুনিও নেই। সবই যন্ত্রে। কোন যন্ত্র আলাদা। হাতির মতো কোন যন্ত্রের মধ্যে একসঙ্গে অনেক কিছু। ধান ওঠার মৌসুমে কামলাদের ছোটাছুটির দিন শেষ হয়ে এলো। মৌসুমে যে কৃষকের একদন্ড ফুরসত থাকত না সেই কৃষকের মৌসুম আসে- আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে সুরে।

নিকট অতীতে ফসলের মাঠে কৃষক সারিবদ্ধ বসে ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি সুর ধরে কাস্তে হাতে ধান গাছ কাটত। একটা ছন্দ ছিল। এখন যন্ত্রের শব্দ। যন্ত্রশৈলী এখন কৃষির শক্তি। হালের বলদের চাষ উঠে গিয়ে পাওয়ার টিলার (কলের লাঙ্গল) এসেছে অনেক আগেই। এই কলের লাঙলেও হচ্ছে না। এসেছে ট্রাক্টর। অনেক আগেই এসেছে সেচযন্ত্র (শ্যালো ইঞ্জিন)। এগিয়ে যাওয়ার পালায় একে একে উদ্ভাবিত হচ্ছে হরেক রকম যন্ত্র শৈলী। কখনও একই যন্ত্রে বহুমূখী কাজের বাক্স।

এখন যন্ত্র ধান মাড়াই করে দেয়। বগুড়ার শাজাহানপুরের গ্রামের কৃষক মন্তেজার বললেন, শ্যালো ইঞ্জিনের শক্তিতে দুটি ড্রামের মধ্যে নির্দিষ্ট মাপে ধানের এক বা একাধিক আঁটি প্রবেশ করাতে হয়। ঘূর্ণনের গতিতে আঁটি টেনে নেয় যন্ত্র। এরপর দ্রুত মাড়াই হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ধান পড়ে জড়ো হয়। ধান সংগ্রহে করে উঠানে শুকানো হয়। বগুড়ার মাঝিরার কৃষক জয়নাল বললেন, মাড়াই যন্ত্রে সবচেয়ে কম সময়ে ধান মাড়াই হয়। তার দশ হর্স পাওয়ারের মাড়াই কলে আধা ঘণ্টায় এক বিঘা জমির ধান মাড়াই করেছেন। মাড়াই কলের দাম বেশি নয়। ঘূর্ণন ক্ষমতা ভেদে ১৮ থেকে ৪২ হাজার টাকার মধ্যে, যা মধ্যম সারির কৃষকের সাধ্যের মধ্যে। বগুড়ার বেশিরভাগ গৃহস্থ বাড়িতে আছে এই মাড়াই কল। অনেক ক্ষুদ্র কৃষক মাড়াই কলে ধান মাড়াই করে নিচ্ছে। বগুড়ার সোনালী ট্রেডিংয়ের মালিক বললেন কিছুদিন আগেও পায়ে চালিত (ট্রেডেল) যন্ত্রে ধান মাড়াই হতো। বর্তমানে মান উন্নীত হয়ে শ্যালো যন্ত্রের শক্তিতে অটো মাড়াই হচ্ছে।

বর্তমানের মাড়াই কলের আগে সেদিনের চিত্র যেমন ছিল :- কৃষক ধানের আঁটি কাঁধে নিয়ে অথবা গরুর গাড়িতে ধানের আঁটি তুলে নিয়ে যেত ঘরে। পরে মাড়াই করা হতো গরুর পায়ে খঁচিয়ে। প্রথমে আঁটি গোল করে রাখা হতো। এরপর তিন অথবা চারটি গরু পাশাপাশি রেখে কাঁধে জোয়াল দিয়ে ধানের আঁটির ওপর ঘোরানো হয়।

গরু যাতে ধান খেতে না পারে সে জন্য মুখে বাঁশের ছোট ডালার মতো এক ধরনের মাস্ক পরানো হয়। যাতে বাতাস প্রবেশের মতো ফাঁক থাকে। গ্রামের কথায় বলা হয় গোমাই। অনেকটা সময় গরু চারদিকে ঘোরে। আঁটি থেকে ধান নিচে পড়ে। তারপর পরিত্যক্ত খড় পালা করে রাখা হয়।

-সমুদ্র হক, বগুড়া থেকে