২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টুকরো খবর

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ॥ ২ জুলাই ২০১৯, চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ২ জুলাই সকালে ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়েছেন। দালিয়ানে ৩ দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’স এ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস ২০১৯ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী, সুধী সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পীসহ প্রায় ১ হাজার ৮শ’রও বেশি প্রতিনিধি যোগদান করেছেন। এটি ডব্লিউইএফ সামার দাভোস নামেও পরিচিত। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘লিডারশীপ ৪.০- সাকসিডিং ইন এ নিউ এরা অব গ্লোবালাইজেশন।’ লিয়াওডং রাজ্যের দালিয়ান উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং উত্তর চীনের হংকং হিসেবেও সুপরিচিত। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং দালিয়ান আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে সকালে এই এ্যানুয়াল মিটিং উদ্বোধন করেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব এবং লিআনিং প্রদেশের গবর্নর ত্যাং ইউজুন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এই সম্মেলন থেকে বিশ্ব পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক অসমতা এবং প্রযুক্তিগত সঙ্কটের বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) একটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-ভিত্তিক সংগঠন এবং ১৯৭১ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর জন্ম। এটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সুইস ফেডারেল সরকারের আইনে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি পায়। ডব্লিউইএফের লক্ষ্যে বলা হয়েছে যে এটি বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহকে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সমাজের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং শিল্প খাতকে এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছে।

পার্সিমন ফলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

এস এম মুকুল ॥ পার্সিমন উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ একটি ফল। ফলটি দেখতে অবিকল পাকা গাবের মতো। কোনটা আবার পাকা টমেটোর মতো হয়ে থাকে। এটি সুস্বাদু, সুমিষ্ট, সুদৃশ্য এবং লোভনীয় একটি ফল। ফ্রিজে রেখে খেলে এর মিষ্টতা বেড়ে যায়। অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট এ ফলটি পাকলে সবুজাভ হলুদ রং ধারণ করে। প্রজাতিভেদে হলুদ, কমলা, লাল, বাদামি এমনকি কালচে রঙের পার্সিমনও দেখা যায়। জাপানে এ গাছের পাতার রস জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো পান করা হয়, যার নাম শধশর হড় যধ পযঁ. এর ফল থেকে ভিনেগারও প্রস্তুত করা হয়। পার্সিমন গাছের শক্ত কাঠ দ্বারা জাপান, কোরিয়া ও চীনে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র প্রস্তুত করা হয়। আশার খবর হলো পার্সিমন বিদেশী ফল হলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে এ ফলের পরীক্ষামূলক উৎপাদন সফল হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে বড় বড় নার্সারিগুলোতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তারা এখন এর চারা বিক্রি করছেন। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে এ ফলের চাষ হয়। আমদের দেশেও এ ফল উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন এখন উৎপন্ন হচ্ছে নাটোরে। অবশ্য জাপানীদের কাছে এ ফল ‘কাকি’ নামে পরিচিত। এক সময় বাংলাদেশের প্রখ্যাত ফল গবেষক এসএম কামরুজ্জামান জাপান, ইতালি, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে পার্সিমনের ১২ জাতের বীজ সংগ্রহ করে তা নাটোরের মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টারে রোপণ করেন। এরপর তার দীর্ঘ পরিশ্রমে পার্সিমন উৎপাদনে সফলতা আসে ২০১০ সালে। বর্তমানে মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টারে থাইল্যান্ডের বীজ থেকে উৎপন্ন প্রায় কুড়ি ফুট উচ্চতার গাছগুলোর প্রতিটিতে এখন দেড় থেকে দুই হাজার করে ফল ধরেছে। ফলের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত নাটোরে সীমিত আকারে পার্সিমনের ফলন পাওয়া গেলেও অচিরেই এ ফল এদেশের মানুষের কাছে নন্দিত হবে, ছড়িয়ে পড়বে সারাদেশে। জাপান, ইতালি, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা ১৫টি পার্সিমন গাছে ফল ধরানোর চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত করেন দেশের প্রখ্যাত ফল গবেষক এস এম কামরুজ্জামান। পার্সিমন গাছে ফুল আসে মার্চে আর ফল সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে ফল প্রাপ্তির সময়কে দীর্ঘায়িত করে নবেম্বরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় কাজ করছেন এই উদ্যান তত্ত্ববিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব এস এম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, নবেম্বরে এদেশে উৎপাদিত কোন ফল নেই। ফলশূন্য নবেম্বরে এই ফল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে অবশ্যই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। পার্সিমন। ইংরেজীতে চবৎংরসসড়হ আর এর বৈজ্ঞানিক নাম উরড়ংঢ়ুৎড়ং কধশর. এটি প্রধানত এশিয়া মহাদেশের ফল। জানা যায়, পার্সিমনের উৎপত্তি চায়নাতে হলেও জাপান, কোরীয় উপদ্বীপ ছাড়িয়ে চলে গেছে ইউরোপ ও আমেরিকাতে। ভিটামিন এ বি এবং সিতে ভরপুর এই ফল। রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপারসহ একাধিক খনিজ লবণ। মানুষের শরীরের জন্য উপকারী পার্সিমনের অসংখ্য গুণাগুণ থাকলেও এতে থাকা পেকটিন রক্তচাপ এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে অনন্য।

জানা যায় সারা পৃথিবীতে ৭৫০ প্রজাতির পার্সিমন উৎপাদিত হয়। অধিকাংশই বীজশূন্য। তবে কিছু প্রজাতি রয়েছে যেগুলো বীজযুক্ত। কিছু প্রজাতির শাঁস আঁশবিহীন আবার কিছু প্রজাতি আঁশযুক্ত। পার্সিমনের উন্নত জাতগুলো হলো- Diospyros kaki (জাপানীজ), Diospyros virginiana (আমেরিকান), Diospyros digyna (কালো রং- মেক্সিকান), Diospyros peregrina ( ইন্ডিয়ান) ইত্যাদি।

পার্সিমন একটি চির সবুজ গাছ। প্রজাতিভেদে এ গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। আর ফলের ডায়ামিটার হয় ‘০ দশমিক ৫৯ থেকে ৩ দশমিক ৫৪’ পর্যন্ত। পুরুষ ফুল এবং স্ত্রী ফুল আলাদা গাছে হয়। আবার কিছু গাছ আছে যাতে একই সঙ্গে পুরুষ ও স্ত্রীফুল ফোটে।

প্রজাতিভেদে শর্করার পরিমাণ থাকে ১৯-৩৩ শতাংশ, হজমযোগ্য আঁশ থাকে ৪ শতাংশ এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ বিদ্যমান থাকায় এটি অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও অর্শ রোগ প্রতিরোধে পার্সিমন ফল খাওয়া হয়। রান্না করা ফল ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগে ব্যবহার করা হয়। মাদকাসক্ত রোগীর চিকিৎসায় এফল ব্যবহার করা হয়। হুপিং কাশি রোগের প্রতিরোধে এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবেও এ ফল ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত বিষাক্ততার বিরুদ্ধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। সাধারণত পাকা ফলের পাতলা খোসা ছুরি দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে ভিতরের শাঁস স্লাইস করে সরাসরি খাওয়া যায়। কোন কোন দেশে রান্না করে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত করে খায়। এছাড়া পাকা কিংবা আধা পাকা ফল শুকিয়ে টিনজাত করে রাখা হয়।

সমগ্র পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩৬ লাখ টন পার্সিমন উৎপাদিত হয় তন্মধ্যে চীন একাই করে প্রায় ২০ লাখ টন। এরপর দ.কোরিয়ায় ৩ লাখ টন, জাপানে ২ লাখ ৬০ হাজার টন, ব্রাজিলে ১ লাখ ২০ হাজার টন পার্সিমন উৎপাদিত হয়। এছাড়া টঝঅ, ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল, মিয়ানমার, ভারত, নেপাল, ইসরাইল, আজারবাইজান, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশে পার্সিমন উৎপাদিত হয়।

নির্বাচিত সংবাদ