২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের 'ওয়ান ম্যান শো' সাকিব

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের 'ওয়ান ম্যান শো' সাকিব

অনলাইন ডেস্ক ॥ বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে প্রথম বারের মতো এ ধরণের টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিলো বাংলাদেশ। সেই ট্যুরের আগে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের খেলার যে লক্ষ্যের কথা বলেছিলো বাংলাদেশ দল তা অর্জনে ত্রিদেশীয় ঐ শিরোপা আরও আশা যুগিয়েছিল।

বিশ্বকাপে দারুণ খেলে আলোচনায় এসেছেন সাকিব আল হাসান ও বিশটি উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকায় আছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। তারপরেও মাত্র তিন ম্যাচের জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট কোচ হিসেবে সুপরিচিত নাজমুল আবেদীন ফাহিম মনে করেন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।

তিনি বলছেন, "আরেকটু ভালো করতে পারতাম। ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তিতে ছিলাম । কিন্তু বোলিং যথেষ্ট দুর্বল ছিলো। গত কয়েক বছরেও এমন দুর্বল মনে হয়নি বাংলাদেশের বোলিং। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু ক্যাচ মিস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ওপেনিং স্লটে বোলিং নিয়ে"।

মি. ফাহিম বলেন বিশ্বকাপের আগে সাকিব আল হাসানের মতো যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে তারা ভালো করেছে। যদিও বিশ্বকাপের আগে খেলার প্রস্তুতির বাইরে বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

তারপরও ছশোর বেশি রান ও এগারটি উইকেট নিয়ে সাকিব যেমন তেমনি ২০ উইকেট পাওয়া মুস্তাফিজও কিছুটা নজর কেড়েছেন। এর বাইরে মুশফিকুর রহিম ছাড়া অন্য খেলোয়াড়রা কতটা অবদান রাখতে পেরেছেন তা নিয়েও বিরাট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান বলছেন, লম্বা ট্যুরের ধকল নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

"সাকিবের সাথে মুশফিক ভালো করেছে। মাহমুদুল্লাহ, লিটন একটি করে ম্যাচে ভালো করেছে। কিন্তু লম্বা জুটি আর তেমন একটা দেখা যায়নি। হয়তো লম্বা ট্যুরের কারণে মনস্তাত্ত্বিক একটা বিষয় কাজ করেছে। তামিম ইকবালের মতো খেলোয়াড় মোটেও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি"।

বাংলাদেশের 'ওয়ান ম্যান শো' সাকিব

সিনিয়র খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার পাশাপাশি জুনিয়র খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে জ্বলে ওঠার চেষ্টার অভাব নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। আটটি ম্যাচ খেলে দুশোর বেশি রান করতে পেরেছেন সাকিবসহ দলের মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান।

আবার পারফর্ম না করে দলে জায়গা ধরে রাখায় কথা হচ্ছে স্বয়ং অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্ত্তুজাকে নিয়েও। সাকিব ও মুস্তাফিজ মিলে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনবার। এর বাইরে দশটির বেশি উইকেট পেয়েছেন শুধু সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক কোচ পারভিন নাছিমা নাহার পুতুল বলছেন ব্যক্তিগত অর্জন, ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা আর বাজে ফিল্ডিং বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে দেয়নি।

"ওয়ার্ল্ড কাপ মানে বিরাট মানসিকতার বিষয়। ফিল্ডিংয়ে এমন দুর্বলতা সম্পর্কে আগেই দৃষ্টি দেয়া উচিত ছিলো। সিনিয়রদের প্রতি গুরুত্ব বেশি হয়ে গিয়েছিলো। মুস্তাফিজ শেষ দিকে ভালো খেললেও তাতে ম্যাচ উইন করা যায়নি। ওপেনিং জুটি রান করলে মিডল অর্ডার সহজেই ম্যাচ বের করে নিয়ে আসতে পারতো"।

প্রথম ম্যাচে তিনশর বেশি রান করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারানোর পর নিউজিল্যান্ডের সাথে লড়াই করেও হেরে যাওয়া সমর্থকদের শুরুতে দারুণভাবে আশাবাদী করে তুলেছিলো। তারপর টুর্নামেন্ট যত গড়িয়েছে, আশাহত হতে হয়েছে তাদের।

একমাত্র সাকিব আল হাসানের অবিস্মরণীয় পারফরমেন্সকে পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ওয়ান ম্যান শো হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক ক্রিকেটার রকিবুল হাসান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

নির্বাচিত সংবাদ