২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সর্বনাশা ‘আইস’

  • ডা: অরূপ রতন চৌধুরী

বর্তমানে মাদকাসক্তদের পরিসংখ্যানের কোন তথ্য না থাকলেও বেসরকারীভাবে দেশে ৭৫ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে এবং মাদকসেবীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক, তাদের ৪৩ শতাংশ বেকার। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আর এই আসক্তির ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে ছাত্র এবং শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে। আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যেও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে।

ইয়াবার বিকল্প হিসেবে বাজারে খাট বা এনপিএসের পর আবির্ভাব ঘটল আইস বা ক্রিস্টাল মেথ নামক নতুন এই মাদকের। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ‘আইস’ লবণের মতো দানাদা জাতীয় মাদক। দেখতে কখনও চিনির মতো, কখনও মিছরির মতো। আইস উচ্চমাত্রায়, মাদক যা সেবনের পর মানবদেহে দ্রুত উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বাজারে ঢুকেছে নতুন ভয়ঙ্কর মাদক আইস বা ক্রিস্টাল মেথ। ইয়াবার চেয়েও ৫০ গুণ বেশি ক্ষতি হয় আইসে। এর দামও বেশি, মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি। আসক্তদের যৌন ক্ষমতা, কিডনি, লিভারসহ অঙ্গ-প্রতঙ্গ নিমেষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারা বিকৃত যৌনচারে লিপ্ত হয়ে ওঠে। স্বভাব হয়ে যায় হিং¯্র। হত্যাসহ যে কোন অপরাধ করতে তারা দ্বিধা করে না এই মাদক সেবনের পর মস্তিষ্ক বিকৃতিতে মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া অনিদ্রা, অতিরিক্ত উত্তেজনা, স্মৃতিভ্রম ও হৃদরোগকে বাড়িয়ে তোলে। ক্রিস্টাল মেথ বা আইস নামের নতুন ধরনের মাদকসহ এক নাইজেরীয় নাগরিক আটক হয়েছে। নতুন মাদক আইস বাংলাদেশর মাদক বাজার ধরার জন্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্রিস্টাল মেথ বা আইস প্রকাশ্যে হাতে বহন করলেও বোঝার উপায় নেই এটি কোন মাদক। গডফাদাররা তাদের পাচারের কৌশল পরিবর্তন করেছেন। রোহিঙ্গাদের দিয়েই তাদের ব্যবসা এখন চলছে। মাদকবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক ‘মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পর কৌশল বদলে ফেলেছে চোরাকারবারিরা।

মাদক অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। আইস মাদক সয়লাব হলে ইয়াবার চেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে দেশের তরুণ সমাজ। স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ছে না আইস। এই মাদক শরীরে প্রবেশ করলে আর ছাড়া যায় না। দেশের উন্নয়ন যেভাবে চলছে, তাতে মাদক দেশের উন্নয়নে অন্যতম বাধা বলে মনে হচ্ছে। তাই এই বাধা দূর করতে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলার কথা ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে মাদকসহ গ্রেফতারকৃতরা এবং মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে জামিনে ছাড়া না পায়, এজন্য নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে।

আমাদের করণীয়

১. কেউ আসক্ত হলে গোপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. মাদকাসক্তকে ঘৃণা না করে ভালবাসা দিন।

৩. কেউ আসক্ত হলে স্বজন, বন্ধু, ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপ করুন।

৪. আসক্তির লক্ষণ দেখা দিলেই নিরাময় কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। আসক্তকে ভালবেসে তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা দিন।

ঢাকা থেকে