১৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯    
ADS

কর্নাটকের পর এবার গোয়ায় সঙ্কটে পড়ল কংগ্রেস

  • ১০ বিধায়কের গেরুয়া শিবিরে যোগদান, বিজেপির এত লোভ কিসের ॥ মমতা

সঙ্কট যেন পিছু ছাড়ছে না ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি আর সভাপতি থেকে রাহুল গান্ধীর পদত্যাগের পর থেকে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস সভাপতি ও অন্য নেতাদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক যেন পড়েছে, চলছে দলবদলও। কর্নাটকে কংগ্রেস জোট সরকারের একাধিক বিধায়কের পদত্যাগ সংক্রান্ত জটিলতা সামলাতে হিমশিম কংগ্রেস নেতৃত্ব। এরপর বুধবার গোয়ায় ১০ কংগ্রেস সমর্থক বিধায়ক যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। খবর এনডিটিভি ও জিনিউজ অনলাইনের।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের ধাক্কায় কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যেই পাশের রাজ্য গোয়ায় ফের ধাক্কা খেল কংগ্রেস শিবির। গোয়ার ১৫ কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ১০ জন বিজেপিতে যোগ দেন। গোয়াতে রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। বিধান সভার ৪০ আসনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছেন ১৭ বিধায়ক আর কংগ্রেসের ছিল ১৫ জন। দলত্যাগী কংগ্রেস বিধায়ক কাভালেকর বলেন, কোন উন্নয়ন না হলে মানুষ পরের বার কেন সঙ্গে থাকবে? কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে না। সরকার গড়ার অনেক সুযোগ ছিল, কিন্তু বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব কখনই তা হতে দেবে না। তাই আমাদের এই সিদ্ধান্ত। গত মাসে তেলেঙ্গানাতেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল কংগ্রেসের। যেখানে ১৮ জনের মধ্যে ১২ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের দলে যোগ দেন। আর কর্নাটক নিয়ে টানাপোড়েন তো চলছেই। এদিকে কংগ্রেসের এই চরম মুহূর্ত নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জী। এই ঘটনার জন্য তিনি বিজেপির দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। মমতা বলেছেন, বিজেপি কর্নাটকে ঘোড়া কেনাবেচার আনন্দে মেতে উঠেছে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সংবিধান বিপদগ্রস্ত। এ সময় বিজেপির অহংকারী মনোভাবের তীব্র নিন্দা করেন মমতা। বিধান সভায় দেয়া এক বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে জানতে পেরেছি, কংগ্রেস নেতাদের হোটেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। এমনকি সেই হোটেলের কাছাকাছি কোন সংবাদ সংস্থাকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। বিজেপি বিধায়ক কেনাবেচা করছে। একদিকে যেমন কংগ্রেসের বিধায়কদের হোটেলে বন্দী করে রাখা হয়েছে, কোন মিডিয়াকে তাদের কাছে যেতে দেয়া হচ্ছে না, তেমনি কিছু এজেন্সি আবার ভারতের বর্তমান সরকারকে সাহায্য করে চলেছে। মমতা বলেন, এইভাবে ঘোড়া কেনাবেচা চলতে থাকলে ভারতে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না। এসব না করে বিজেপিকে দেশের কাজে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন মমতা।

মমতা বলেন, আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না বিজেপির এত লোভ কিসের। সারা ভারতকে নিজেদের মুঠোয় আনার জন্য তাদের ব্যস্ততা। এসব বিজেপির নোংরা রাজনীতি বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপির এসব কর্মকান্ড রুখতে ভারতের সংবাদমাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলকে এক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।