১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু থেকে সাবধান!

বুধবার জনকণ্ঠসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনাম হয়েছে ডেঙ্গুরোগের প্রকোপ ও বিস্তার। অবশ্য গত কয়েক বছর ধরেই এটা প্রায় নিয়মিত হচ্ছে বিশেষ করে বর্ষা ঋতুর শুরু ও শেষে। ডেঙ্গুর আরও একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি নগরকেন্দ্রিক রোগব্যাধি। গ্রামাঞ্চলে মশার উপদ্রব থাকলেও সচরাচর ডেঙ্গু তেমন প্রকট আকারে দেখা দেয় না। অন্যান্য প্রজাতির মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসহ অন্যান্য রোগব্যাধি ছড়ালেও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ও বিস্তার ঘটে থাকে প্রধানত এডিস মশার মাধ্যমে। এই মশার একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এরা মানুষকে প্রধানত কামরায় দিনের বেলায়, সকাল ও সন্ধ্যায়। প্রজনন মৌসুমে ডিম পাড়ে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানিতে, যা জমে থাকে ফুলগাছের টবে, পরিত্যক্ত টায়ার টিউব, ডাবের খোসা, ফ্রিজের পানি ইত্যাদিতে। আর এ কারণেই শহর-নগরের অধিবাসীরা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এক হিসাবে জানা যায়, রাজধানীর দুই সিটির অন্তত চার লাখ বাসাবাড়ি ও অফিস রয়েছে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে। তবে মশার অভ্যাস হলো উড়ে বেড়ানো এবং তা ডেঙ্গুবাহিত হলে রোগ ছড়িয়ে দেয়। সুতরাং মহানগরীর কোন এলাকা নিরাপদ, এমন বলা যাবে না।

প্রতিবছরই ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তবে এবার সংক্রমণটি একটু বেশি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও তা স্বীকার করেছেন। এর প্রধান কারণ মশক নিধনে দুই সিটি কর্পোরেশনের চূড়ান্ত অদক্ষতা ও অবহেলা। ঘরে ঘরে প্রবেশ করে মশা মারা মেয়রদ্বয়ের কাজ নয় অবশ্যই; তবে জলাবদ্ধতা অপরিচ্ছন্ন মহানগরীর নালা-নর্দমা-পয়োবর্জ্য-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশা-মাছির ওষুধ ছিটানো দুই সিটির অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বটে। এক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি ও শিথিলতা দেখা যায়। সর্বশেষ দুই মেয়রের ভাষ্যে জানা যায়, প্রচলিত ওষুধে নাকি মশা মরছে না। নতুন ওষুধ আনতে হবে বিদেশ থেকে, যাতে কয়েক মাস লাগতে পারে। এ নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বৈরথও দৃশ্যমান, যা কাম্য নয় কোনমতেই। ইত্যবসরে প্রতিদিনই রাজধানীর হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি ঘণ্টায় আক্রান্ত চারজন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। তাই বলে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শরীর ব্যথাসহ জ্বরে আক্রান্ত হলেই সতর্ক ও সাবধান হতে হবে, অবহেলা না করে। খেতে হবে প্রচুর পানি, খাবার স্যালাইন ও ব্যথানাশক। সর্বোপরি মশা নিরোধে মশারি তো আছেই। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আবশ্যক।

উল্লেখ্য, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও এনসেফালাইটিস প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায়। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ ও টিকা অদ্যাবধি না পাওয়া গেলেও সময়োপযোগী সুচিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা অনেকটাই সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশেও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো অত্যাবশ্যক। কেননা এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া প্রায়ই এখানে হামলা করে থাকে। বর্তমান বিশ্ব একটি অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি, রক্তারক্তি বিশ্বের কোথাও না কোথাও লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্পসহ অপুষ্টি ও অনাহারও কম নয়। এর পাশাপাশি বাড়তি উপদ্রব নিত্যনতুন রোগব্যাধি, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এইচআইভি এইডস, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, এ্যানথ্রাক্স, ইবোলা ভাইরাস, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি। পুরনো ওষুধবিষুধ, এ্যান্টিবায়োটিক ও প্রতিষেধক বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সে অবস্থায় নতুন রোগব্যাধির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার এখন সময়ের দাবি।