২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আষাঢ়ে বর্ষায় ফিট থাকা চাই

‘বন্যেরা বনে, সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’। উক্তিটি আজ যথোপযুক্ত বলেই মনে হয়। কারণ বন আর মায়ের ভালবাসা স্থান দিবা-রাত্রির মতো যেমন ফারাক, তেমনি সময়ের পালাবদলও ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা বহন করে। নইলে ছেলেরা সময় এবং পরিবেশ মেনে কেনইবা তাদের ফ্যাশনে পরিবর্তন আনবে। কখনও গরম কখনও শীত আবার কখনও বর্ষা। এই সমীকরণে ছেলেরা নিজেরাই এখন নির্ধারণ করছে তাদের কোন সময়ে কোন পোশাকে ফ্যাশন শরীরে মানাবে।

এটা ছেলেদের নিজস্ব কারিশমা বলা যেতে পারে। সচরাচর দেখতে পাওয়া যায় বৃষ্টি কিংবা বর্ষায় তারা নিত্য-নতুন পোশাক পড়ছে। ব্যক্তিগত মননশীলতা, রুচিবোধ, সচেতনতাই আজ তাদের এই জায়গায় এনেছে। পোশাকের শালীনতা বলতে একটা কথা আছে- সেটা হলো, পোশাকেই ফ্যাশন বাড়ায় তবে তা হতে হয় মনভোলানো ও আকর্ষণীয় ফ্যাশন। আক্ষরিক অর্থে বৈচিত্র্যপূর্ণ সব পোশাকই ছেলেদের ইমেজ বাড়িয়ে দেয়।

এর পেছনে ছেলেদের বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টি আর আধুনিক হওয়াকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। অধিকাংশ ছেলেরা তাদের দেখতে কেমন দেখায় তা নিয়ে ভাবে না। তারা মনে করে সৌন্দর্য হলো পোশাকে। তাই প্রতিযোগিতা করতে হবে মানুষে মানুষে নয় বরং প্রকৃতির সঙ্গে। তবেই নিজেকে সব ধরনের পরিবেশে মানিয়ে নেয়া যাবে।

আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টি তো পড়বেই তাই বলে কি ফ্যাশন হারিয়ে যাবে। এই সময়ে বাড়তি কিছু উপকরণ সঙ্গে রাখলেই সব হিসেব চুকে যাবে। ছেলেদের কাজ থাকুক বা না থাকুক তাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট কোন না কোন গন্তব্যে বের হতেই হবে। কেউ যান বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ যান অস্থায়ী কোন চাকরিতে, কেউ যান আড্ডা দিতে। এক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট সচেতন বৈকি। আকাশে মেঘের ঘনঘটা যে কোন সময় বৃষ্টি নামতে পারে তাই বলে ঘরে বসে থাকলে তো চলবে না। আর ঘর থেকে বের হতে হলে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে হয়।

অধিকাংশ ছেলেই এই সময়ে ঘর থেকে বের হয় একেবারে সাধারণ পোশাকে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এদের সঙ্গে থাকে ছোট, বড় এবং মাঝারি আকারের ব্যাগ। ব্যাগের মধ্যে প্রয়োজনীয় পোশাকটি নিতে ভুল করেন না। তাদের চিন্তায় থাকে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর পোশাকটি পরিবর্তন করবেন তবুও বৃষ্টির কাছে হার মানবেন না। হেলায় ফেলায় নয় বেশ আঁটসাঁট বেঁধেই বৃষ্টির উপকরণ শরীরে জড়িয়ে তারা বেরিয়ে পড়ে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে এক সময় পৌঁছে যায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। এর পরই চোখে পড়ে ফ্যাশনের ভেতর ফ্যাশন।

নাজমুল হাসান পড়ালেখা শেষ করেছেন। চাকরি পাওয়ার আশায় এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি করতে হয় তাকে। রোদ বৃষ্টি তাকে উপেক্ষা করতে হয় হরহামেশাই। তার মতে চলমান জীবনে বিশেষ করে ঢাকা শহরে কারও জীবন ঝড়-বৃষ্টিতে থেমে থাকে না। তাই সে নিজেই নিজেকে ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সব ধরনের অনুষঙ্গ সঙ্গে রাখার চেষ্টা করে। প্রয়োজনের তাগিদে সে যখন অন্যত্র যায় তখন প্লাস্টিক কাপড়ের [পানি রোধক] কোট পরে বের হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার পর সে পোশাকটি খুলে ফেলে। নতুন করে তাকে পোশাক পরতে হয় না। কারণ মন মতো পোশাকটি সে ঘর থেকেই কোটের ভেতরে পরে আসে। শুধুমাত্র ক্ষেত্র বিশেষে সে জুতো পরিবর্তন করে। ব্যস এতেই হয়ে যায় তার বৃষ্টি আর ফ্যাশনের দ্বৈরথ সামাল দেয়া। নাজমুলের মতো হয়ত অনেক ছেলেই এখন এমন টেকনিক অবলম্বন করে থাকে। এতে ছেলেরা আষাঢ়ে বর্ষায় ফিট থাকতে পারে সহজেই।

এখন সচেতন ছেলেরা ‘ট্রেনস কোটের’ প্রতি বেশি নজর দেয়। কারণ এর ডিজাইন আধুনিক হয়েছে। এই কোট এখন বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ছেলেরাও সতর্কতা অবলম্বণ করতে পারে। কারণ চাহিদা বেশি হওয়ার ফলে নকলের প্রবণতা লক্ষণীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। মূলত নকল কাপড়গুলো বেশি দিন ঠেকে না। আবার ভারি বৃষ্টিতে এর কাপড় শরীরের সঙ্গে লেগে যায়। ফলে শরীর ধীরে ধীরে ভিজতে থাকে। তাই সঠিক মানের ‘ট্রেনস কোট’ কিনতে হবে। পাশাপাশি ছেলেরা ইচ্ছে করলে ‘পার্কা’ ব্যবহার করতে পারে। ‘পার্কা’ দেখতে অনেকটা রেইন কোটের মতো। ‘পার্কা’ যেখানে সেখানে পাওয়া দুষ্কর। এটি অভিজাত মার্কেটে বেশি পাওয়া যায়।

ফুটওয়্যারগুলোর মধ্যে এখন খানিক পরিবর্তন এসেছে। মোটসাইকেল, সাইকেল কিংবা পায়ে হাঁটা পথের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা ডিজাইন। এতে ছেলেরা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট স্যাঁতসেঁতে রাস্তায় স্বস্তির সঙ্গে চলতে পারে। এই ধরনের ফুটওয়্যার বড় ছোট ধরনের প্লাস্টিকের হয়ে থাকে। যা প্যাগমেটিক [কার্যোপযোগিতার দিক থেকে] মানসম্মত। ছেলেদের তাই উচিত বৃষ্টির দিনে এই ফুটওয়্যার ব্যবহার করা। চামড়ার ফুটওয়্যার যেমন বৃষ্টির জন্য পজেটিভ নয় ঠিক তেমনি এই ধরনের ফুটওয়্যার একেবারেই বিপরীত। যা কোন অবস্থাতেই ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা নাই। বিকল্প কিছু কাপড়ও আষাঢ় মাসে কিনতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ছেলেরা ‘ওঅ্যাকস’ কাপড় [ সুতা শক্ত ও টেকসই করার জন্য ব্যবহৃত মোম] স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে পারেন। যা বৃষ্টি প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে। বৃষ্টির দিনে মাছ শিকার করতে যাওয়া ছেলেদের মধ্যে এই পোশাকটি পড়তে দেখা যায়।

ফ্যাশন ডেস্ক

পোশাক : ডিমান্ড

নির্বাচিত সংবাদ