১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার

  • ধর্ষককে পুলিশে সোপর্দ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী (১০) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীরা ধর্ষণের অভিযোগে সম্রাট নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে অভিযুক্ত সম্রাট। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার পর সম্রাটকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হাসান। কোর্ট পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

অপরদিকে ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে ১২ ঘণ্টার বেশি কমলাপুর রেলওয়ে থানায় রাখার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেয়া হয়। সেখানে আলামত সংগ্রহ করে হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতালের ওসিসির সূত্র জানায়। স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া যমুনা এক্সপ্রেস চলন্ত ট্রেনে ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় যাত্রীরা বিষয়টি টের পেয়ে ধর্ষণের শিকার ওই শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। একই সময় যাত্রীরা ধর্ষক সম্রাটকে আটক করে বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে মধ্য রাতে ভুক্তভোগী শিশুসহ অভিযুক্ত সম্রাটকে হেফাজতে নেয় ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশের টানাহেঁচড়া ও কর্তব্য অবহেলায় ১২ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আইভী আক্তার বাদী হয়ে রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই শিশুটিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুশো বনিক জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায়। মামলায় সম্রাট নামে এক যুবককে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রেলওয়ে ঢাকা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ওমর ফারুক জানান, ভুক্তভোগী ওই স্কুলপড়ুয়া শিশুটির নানি মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার বিকেলে ষষ্ঠ শ্রেণীর ওই ছাত্রী হাসপাতালের নিচে নামলে টোকাই সম্রাট ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে রিক্সা করে কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। এরপর তেজগাঁও ঘুরতে নেয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যমুনা এক্সেপ্রেস ট্রেনে ওঠে। তেজগাঁও স্টেশন পার হওয়ার পর ট্রেনের টয়লেটে আটকে ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সম্রাট। ওই সময় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে চলাফেরা অস্বাভাবিক মনে হলে সম্রাটকে সন্দেহ করে আটক করা হয়। এরপর ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশনে থামলে পুলিশ শিশুটিকে হেফাজতে নেয়। সম্রাটকে আটক করে। শিশুটিকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই তাকে কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। পরে ওই শিশুর কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পরিবারকে খবর দেয়া হলে মা থানায় উপস্থিত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা দায়ের করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে ওসিসিতে শিশুটিকে পাঠানো হয়েছে। সময় ক্ষেপণের অভিযোগের এক প্রশ্নের জবাবে এএসপি ওমর ফারুক জানান, শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কোন গাফিলতি ছিল না। বরং দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রেফতারকৃত স¤্রাটকে বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে বলেও জানান এএসপি ওমর ফারুক।