২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা চাই

  • ছাত্রলীগের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িক ও যৌন নির্যাতনমুক্ত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠায় ছাত্রলীগের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রলীগকে শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর এ আহ্বানের প্রেক্ষিতে ছাত্র নেতাদের বয়ানে উঠে এসেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংকটের চিত্র। ছাত্র যারা রাজনীতি করেন তাদের অনেক সময় কম নাম্বার দেয়া হয় বলেও অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউ মিলনয়তনে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি কেন্দ্রীয় ও সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক করেছেন। সাম্প্রতিক কালে এটাই প্রথম ঘটনা যেখানে শিক্ষামন্ত্রীর ছাত্র নেতাদের সঙ্গে এ ধরনের আলোচনা করলেন।

বৈঠকে নানা সঙ্কটের চিত্র উঠে আসার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যাসমূহ আগামী দশ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উল্লেখিত সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্টার এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রকল্প পরিচালকদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওই বৈঠকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে বৈঠকে আশ্বাসও দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দলাদলিতে ছাত্র নেতাদের না জড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইনসহ সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

বৈঠকে প্রত্যেক নেতার বক্তব্যেই উঠে আসে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা সংকটের কথা। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারাই তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবাসন সঙ্কট, পরিবহন সঙ্কটসহ এক ডজনেরও বেশি সঙ্কটের কথা তুলে ধরে তার উত্তরণে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। ছাত্র নেতাদের বয়ানে উঠে আসে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, ইন্টারনেট সমস্যা, কেন্টিনের সমস্যা, খাবার সমস্যা, লাইব্রেরির সমস্যাসহ নানা সঙ্কট।

পরীক্ষায় কোডিং সিস্টেম চালু করা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধীরগতি এবং ছাত্র নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতারা।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা খুবই জরুরী। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। মন্ত্রী নেতাদের বলেন, কোন রকমের সমস্যা হলে তা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।

তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ব্যর্থ হলে তা নিয়ে তাঁর আলোচনা করতে বলেন। মন্ত্রী আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতেও নিষেধ করেন ছাত্রলীগ নেতাদের। বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ছাত্র হিসেবে ছাত্রদের প্রধান কাজ হলো লেখাপড়া করা এবং ঐ লেখাপড়া কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন আছে, এই আইনের মধ্যে থেকে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ছাত্রলীগকে ছাত্রদের দাবি দাওয়া আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অনেক সময় তাদের স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার করে। ছাত্র রাজনীতি যারা করে তাদের অনেক সময় কম নাম্বার দেয়ার অভিযোগ রয়েছে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, যা খুবই দুঃখজনক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষামন্ত্রীর সহযোগিতা চান। এছাড়া তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা শিক্ষা সঙ্কটের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অবকাঠামো সীমাবদ্ধতার মধ্যেই একাধিক পুলিশ ফাঁড়ির কারণে জায়গা নষ্ট হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে সহায়তার বাইরেও সম্ভব হলে পরমাণু শক্তি কমিশনের জায়গাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেয়া কথাও বলেন তিনি। এছাড়া অবকাঠানো উন্নয়ন, মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এ এজিএস।

নির্বাচিত সংবাদ