১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় নৃত্য-গীতে বর্ষা বন্দনা শিল্পকলায়

 বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় নৃত্য-গীতে  বর্ষা বন্দনা শিল্পকলায়
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তীব্র তাপপ্রবাহ পেরিয়ে এসেছে প্রশান্তির বর্ষা। প্রায়শই ঝরছে বারিধারা। বৃহস্পতিবারও তেমনটাই ঘটেছে। দিনভর পড়েছে টুপটাপ বৃষ্টি আর এমন দিনে অনুষ্ঠিত হলো বর্ষা বন্দনার আয়োজন। আষাঢ়ের সন্ধ্যায় গানের সুরে, নাচের মুদ্রায় কিংবা কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে ব্যক্ত হলো বর্ষার প্রতি ভালবাসা। নৃত্য-গীত ও আবৃত্তিতে সজ্জিত শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল বর্ষামঙ্গল। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে হয়েছে সে আয়োজন। যন্ত্রসঙ্গীত থেকে সম্মেলক সঙ্গীত- সবকিছুতেই ছিল মেঘ-বৃষ্টির প্রতি ভাললাগার অনুভব। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা কথনে অংশ নেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সন্তানদের ঋতুবৈচিত্র্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, আমাদের অসাধারণ ছয়টি ঋতু কিন্তু শহরে বাসে আমরা তা উপভোগ করতে পারি না। ছয়টি ঋতু নিয়ে আমাদের যেসব সাহিত্য ও শিল্প সৃষ্টি হয়েছে তা বিশ্বে বিরল।

সমবেত গানের সুরে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। অনেক কণ্ঠ মিলে যায় এক স্বরে। সবাই মিলে গেয়ে ওঠে রবিঠাকুরের গান- মন মোর মেঘের সঙ্গী/উড়ে চলে দিগ্দিগন্তের পানে/নিঃসীম শূন্যে শ্রাবণ বর্ষণ সঙ্গীতে ...। বর্ষার সঙ্গে নিসর্গের সংযোগ খুঁজে নিতে একাডেমির শিল্পীরা পরের গানে আশ্রয় করেন কাজী নজরুলকে। সম্মেলক কণ্ঠে গীত হয়- এসো হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া বেণু-কুঞ্জ ছায়ায়/এসো তাল-তমাল বনে এসো শ্যামল ফুটাইয়া ...। এছাড়া সমবেত কণ্ঠে গাওয়া অন্য গানগুলো শিরোনাম ছিল ‘অমৃত মেঘের বারি’, ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে’ ও ‘গহন ঘন ছাইলো’। গানের মাঝে ছিল মুদ্রার সঙ্গে অভিব্যক্তির সম্মিলনে নয়নজুড়ানো নৃত্য পরিবেশনা। বৃন্দ নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেয় একাডেমির শিল্পীরা। ‘পরদেশী মেঘ’, ‘শাওন গগন ঘোর ঘনঘটা’ ও ‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে হৃদয়ে দিয়েছ দোলা’ গানের তালে পরিবেশন হয় তিনটি সমবেত নাচ। মায়াভরা কণ্ঠে মোহনা দাস শুনিয়েছেন- মেঘ বলেছে যাবো যাবো, রাত বলেছে যাই/সাগর বলে কূল মিলেছে, আমি তো আর নাই ...। একক কণ্ঠের পরিবেশনায় হিমাদ্রী রায় গেয়ে শোনান ‘সখী বাঁধলো বাঁধলো ঝুল নিয়া’ শীর্ষক সঙ্গীত। সোহানুর রহমানের কণ্ঠে গীত হয় ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না মন’। ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ শিরোনামের গান শোনান সুচিত্রা সূত্রধর। আবিদা রহমান সেতু গেয়ে শোনান ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’। হীরক সর্দারের কণ্ঠে গীত হয় ‘সমুদ্রের কিনারে বসে’। রোখসানা আক্তার রূপসা শুনিয়েছেন ‘আষাঢ় মাইসা ভাসা পানি’। রাফিক তালুকদার পরিবেশন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। এছাড়াও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন নবনীতা। ইয়াসমীন মুশতারী শুনিয়েছেন নজরুলসঙ্গীত। আধুনিক গান গেয়েছেন রফিকুল আলম। লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন আবু বকর সিদ্দীন। বর্ষানির্ভর কবিতা আবৃত্তি করেন কৃষ্টি হেফাজ।