২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

সরকারকে বিপদে ফেলতে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ॥ কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ হিম্মত থাকলে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি করে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় জনগণ তাদের কোন আন্দোলনের ডাকেই সাড়া দেয় না। আন্দোলন করতে না পারাটা বিএনপির দুর্বলতা, আওয়ামী লীগের কিছু করার নেই। বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করতে ব্যর্থ হলে সরকার সে দায় নিতে পারে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মীসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফি, নুরুল আমিন রুহুল এমপি, আবুল বাশার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল, প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক মিরাজ হোসেন প্রমুখ।

আন্দোলন করে বিএনপি নেত্রীকে কারামুক্ত করা হবে বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয় বরাবরই আদালতের বিষয়। খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ জেলে বন্দী করেনি। আদালতের আদেশে দুর্নীতির মামলায় তিনি বন্দী হয়েছেন। এ কথা আমরা বার বার বলছি। এটা আইনগত বিষয়, আইনী লড়াই করে আপনারা (বিএনপি) তাকে বের করে আনতে পারেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার এখানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারে না। কারণ বিচার বিভাগ স্বাধীন। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থায় সরকার হস্তক্ষেপ করে না, আজ পর্যন্ত করেনি। আমি আবারও বলতে চাই এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির দ্বন্দ্বের কোন বিষয় নেই। বিএনপির যদি এতই সাহস আর সক্ষমতা থাকে তাহলে খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করেন না কেন? তারা শুধু মুখে আন্দোলনের হাকডাক দেয়। বাস্তবে কোন আন্দোলন আজ পর্যন্ত তারা করতে পারেনি। আমরা দেখি না, তাদের কতটা হিম্মত আছে, সক্ষমতা আছে- জেল থেকে খালেদা জিয়াকে আন্দোলন করে বের করুক।

সরকারকে বিপদে ফেলতে গুজবের ডালপালা বিস্তার করছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দৃশ্যপট যতই দুর্বল হোক তলে তলে ষড়যন্ত্র বাড়ছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে গুজবের ডালপালা বিস্তার করছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে, এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। গায়ে জ্বালা ধরছে। তাই তারা বলে লাখ মানুষের মাথা ও রক্তের প্রয়োজন। এই সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটিভ হতে হবে। সর্বোপরি সাইবার এ্যাটাক হচ্ছে, এরও পাল্টা জবাব দিতে হবে। অপশক্তির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে সাইবার এ্যাটাক করতে না পারায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। আজকের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা সব সময় এক থাকবে, এমন মনে করার কিছু নেই। নীরবতার মধ্যে হলি আর্টিজান ঘটবে না, এ কথা মনে করার কিছু নেই। সতর্ক থাকতে হবে। সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবেন। এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি বিভ্রান্ত হয়েছেন যে মানুষের কল্লা (মাথা) লাগবে? এত রক্ত দরকার? এ সকল অপপ্রচার, কি নির্মম নিষ্ঠুর এদের রাজনীতি। আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ এখন শুরু করেছে অপপ্রচার। অপপ্রচার ছাড়া এদের কোন পুঁজি নেই। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বর্তমান সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায় নেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগেরই দায়বদ্ধতা আছে। আওয়ামী লীগই এ দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। জনস্বার্থকে মাথায় রেখে আওয়ামী লীগের ও শেখ হাসিনার সমস্ত কর্মকা-। যারা জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে, জনস্বার্থে কিছু করেনি, যারা নেতিবাচক রাজনীতি করে, তারা নেতিবাচক রাজনীতির কারণে ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের পক্ষেই এ ধরনের বক্তব্য শোভা পায়।

দেশের কোথাও গণতন্ত্র নেই, বিএনপি মহাসচিবের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে গণতন্ত্রের কোন সঙ্কট নেই। গণতন্ত্রের যদি সঙ্কট থাকে সেটা আছে বিএনপিতে। নিজে (মির্জা ফখরুল) নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগ দেন না। আবার দলের আর একজনকে মনোনয়ন দেন এবং সে নির্বাচিত হন। এই যে স্ববিরোধিতা, এটা কোন গণতন্ত্র? মির্জা ফখরুল সাহেব কোন কৌশলের কারণে নির্বাচনে জিতেও সংসদে যোগ দিলেন না, অথচ সেই আসনে উপ-নির্বাচন করলেন। এ কোন নীতি? এ কোন আদর্শ? এ কোন গণতন্ত্র? এ প্রশ্নের জবাব দেশবাসী জানতে চায়।

সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজরা আওয়ামী লীগের সদস্য হবে না ॥ দলের সদস্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যাকে-তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ দিতে পারব না। নির্বাচনের সময় জোয়ারে অনেকেই আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে মিছিল করেছে। সবাইকে আমরা ধারণ করতে পারবে কি না, সেটা ভাবতে হবে। তবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। ‘দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল।’ আমরা কোয়ালিটি দেখব।

এ বিষয়ে মহানগর নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য নয়, ভাল মানুষ নয়, এসব মানুষ আওয়ামী লীগে কোন প্রয়োজন নেই। দলকে খারাপ লোক থেকে মুক্ত রাখতে হবে। দলে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চার করতে চায়। দূষিত রক্তের কোন প্রয়োজন নেই। এমন কেউ যাতে না আসতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মী সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের শৃঙ্খলার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। শৃঙ্খলা ছাড়া দলের গতিশীলতা বাড়বে না, দলের কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই দলের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে খুবই মনোযোগী, সাবধান ও সতর্ক হতে হবে। আর এর জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আপনারা কর্মী সভা করবেন।

নির্বাচিত সংবাদ