২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইল এ্যাপসের মাধ্যমে বিটিভি সারাবিশ্বে দেখা যাবে

  • সংসদে তথ্যমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল-২০১৯ পাস হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ সময় বিরোধী দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী জানান, কয়েক মাসের মধ্যে মোবাইল এ্যাপসের মাধ্যমে সারাবিশ্বে বিটিভি দেখা যাবে। বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে বিটিভি অনুষ্ঠান ও সংবাদ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জন্য দক্ষ, যোগ্য কলাকুশলী ও নির্মাতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রী, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং গবেষণামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় বিধান করতে ওই বিলটি পাসের প্রস্তাব করা হয়। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক, পীর ফজলুর রহমান ও বেগম রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন ও বেগম রুমিন ফারহানা এবং গণফোরামের মোকাব্বির খান। তাদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিল নিয়ে আলোচনাকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখনও বেশিরভাগ মানুষ বিটিভি দেখে। তবে আশ্চর্যের বিষয় গত কয়েক দশক ধরে বিটিভি ভারতে দেখা যাচ্ছিল না। আমরা ভারতের সঙ্গে ওয়ার্কিং এ্যাগ্রিমেন্ট করেছি, চুক্তি করেছি। সেই চুক্তির আলোকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিটিভি সমগ্র ভারতবর্ষে টেরিসটোরিয়াল চ্যানেল হিসেবে দেখা যাবে। অর্থাৎ ভারতের সরকারী টেলিভিশনগুলো যেভাবে তাদের সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে টেরিসটোরিয়াল চ্যানেল হিসেবে দেখা যায়, ঠিক একইভাবে বিটিভি ভারতবর্ষে দেখা যাবে। এছাড়া আগামী কিছুদিন পর মোবাইল এ্যাপসের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীতে বিটিভি দেখা যাবে।

বিটিভির খবর পাঠকদের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মন্ত্রী বলেন, একজন সদস্য বলেছেন, বিটিভিতে বয়স্ক নারী দিয়ে খবর পড়ানো হয়। তাহলে কি সুন্দর তরুণীদের দিয়ে শুধু খবর পড়ানো হবে? চেহারা কি মানুষের সমস্ত গুণাগুণের মূল বিষয়? যে খবর পড়ার জন্য চেহারাই সুন্দর হতে হবে? এটিই কি মুখ্য বিষয়? তিনি বলেন, চেহারা ও বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটুক সমীচীন। আমি একই কথাগুলো সংসদীয় প্রসিডিংস থেকে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি। বিটিভির মান উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ছয়টি বিভাগীয় শহরে নতুন টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চলচ্চিত্র বিকাশে ভারতসহ অন্য দেশের চলচ্চিত্র আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। চলচ্চিত্র উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গাজীপুরে ১০০ একর জায়গার ওপর বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি স্থাপন করা হবে। সেটি বিশ্বমানের ফিল্ম সিটিতে উন্নীত করব। পাস হওয়া বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ৬ এর ১ উপ-ধারা দফা (ড) এর পরিবর্তে নতুন (ড) দফা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নতুন দফায় ইনস্টিটিউটের গবর্নিং বডিতে একজন শিক্ষক ও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাসহ অন্যূন ৪ থেকে ৬ জন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বরণ্য ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান করা হয়। বিলে গবর্নিং বোর্ডের সদস্যদের মেয়াদ ৩ বছরের পরিবর্তে ২ বছর করা করা হয়। এছাড়া বিলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার বিধান করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ