১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত

  • বসে আছে ৪শ’ লাইটার জাহাজ

হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙ্গরে কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে প্রায় একসপ্তাহ ধরে। অলস সময় কাটছে বন্দরকেন্দ্রিক প্রায় ৪শ’ লাইটার জাহাজের। বন্ধ হয়ে আছে ঘাটগুলোতে পণ্য লোডিং আনলোডিং কাজ। বৈরী আবহাওয়া কেটে গিয়ে উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থবিরতা দূর হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে, বহির্নোঙ্গরে স্থবিরতায় বাড়ছে মাদার ভেসেলের সারি। বড় জাহাজগুলোকে গুণতে হচ্ছে মাসুল। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে আরও কয়েকদিন। এ অনিশ্চয়তায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানি-রফতানিকারক ও শিপিং সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারও কোন জাহাজের বুকিং হয়নি। এর আগে গত শুক্রবার শেষ বার্থিং মিটিং করে জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় বন্দর বহির্নোঙ্গরে বড় জাহাজে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রচন্ড বাতাস, বৃষ্টি এবং সাগর উত্তাল থাকায় বড় জাহাজের কাছাকাছি ছোট জাহাজ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া খাদ্যদ্রব্যের মতো খোলা পণ্য বৃষ্টির মধ্যে লাইটারিং সম্ভব নয়।

ডব্লিউটিসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ বৃহস্পতিবার জানান, বহির্নোঙ্গরে কাজ চলছে শুধু একটি বড় জাহাজে। এ জাহাজটিতে পাথর রয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ অলস সময় কাটছে লাইটার জাহাজগুলোর। বন্দরকেন্দ্রিক প্রায় চারশ জাহাজ অপেক্ষার প্রহর গুণছে, কখন আবহাওয়া অনুকূল হয়। বহির্নোঙ্গরে কাজ বন্ধ থাকায় মাদার ভেসেলের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। প্রকৃতির ওপর যেহেতু কারও হাত নেই সেহেতু পরিস্থিতির উন্নতি পর্যন্ত অপেক্ষা না করে উপায়ও নেই।

এদিকে, বহির্নোঙ্গরে পণ্য লাইটারিং বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ জলপথে পণ্য পরিবহনেও। কারণ সেখান থেকে পণ্য গ্রহণ করে জাহাজগুলো পরিবহন করে থাকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গুদামে। মাদার ভেসেলগুলোতে রয়েছে গম, চিনিসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্যও। সময় মতো পরিবাহিত না হলে বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। লাইটারিং বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটছে লোডিং আনলোডিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদেরও। তারাও প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে কর্মহীন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, বহির্নোঙ্গরে লাইটারিং বন্ধ থাকলেও জেটিতে কন্টেনার ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে। বন্দর থেকে প্রতিদিন কন্টেনার ডেলিভারিও হচ্ছে।