২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি হলেই পাবে ট্রেক লাইসেন্স

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এক লাখ টাকা লাইসেন্স ফি এবং ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হলেই স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডার (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) লাইসেন্স নিয়ে শেয়ার ব্যবসা করা যাবে-এমন বিধান রেখে বিএসইসি (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) রুলস, ২০১৯ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে যা শীঘ্রই জনমত জরিপের জন্য প্রকাশ করা হবে। জনমত জরিপ শেষে খসড়া আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ বিষয়ে বিএসইসির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, নতুন ট্রেকহোল্ডার লাইসেন্সের জন্য দেশী-বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। তাই ট্রেকহোল্ডার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ট্রেকহোল্ডার লাইসেন্সের জন্য পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ৫ কোটি থাকতে হবে। এছাড়া ১ লাখ টাকা লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের নেট এ্যাসেট ভ্যালু অবশ্যই পরিশোধিত মূলধনের ৭৫% বাধ্যবাধকতা রেখে ট্রেকহোল্ডার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ট্রেকহোল্ডারের লাইসেন্সের জন্য চায় ৬ বিদেশী কোম্পানিসহ বেশকিছু দেশি প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজিএফ প্রাইভেট ব্যাংক, সিডিএফ লন্ডন, ব্ল্যাক রক এবং এবারডিন এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ডিএসই’র ট্রেকহোল্ডারের লাইসেন্স নেয়ার জন্য এলওআই পাঠিয়েছে। এছাড়া ডিএসই’তে এলওআই পাঠিয়েছে চায়নার সিআইটিআইসি সিএলএসএ সিকিউরিটিজ এবং ইউএসএ’র গোল্ডম্যান সাচস গ্রুপ।

জানা গেছে, বর্তমানে ডিএসই’র ট্রেকহোল্ডারের সংখ্যা ২৫০টি। নতুন করে ট্রেক ইসু্যুর ক্ষেত্রে ডি-মিউচুয়ালাইজেশন আইন,২০১৩ এর ১৬ (৫) ধারায় বলা হয়েছে, ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের তারিখ হতে ৫ বছর অতিক্রম করার পর ট্রেকহোল্ডারদের যোগ্যতা পরিপালন সাপেক্ষে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন আবেদনকারীর অনুকূলে ট্রেক ইস্যু করা যাবে। ইতোমধ্যে ডি-মিউচুয়ালাইজেশনের ৫ বছর শেষ হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন ট্রেক ইস্যুর ক্ষেত্রে আইনের কোন বাধা নেই। তবে নতুন ট্রেকহোল্ডারের লাইসেন্সের জন্য কমিশনের অনুমোদন লাগবে তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরই নতুন ট্রেকহোল্ডারের লাইসেন্স দেয়া হবে। অন্যদিকে নতুন ট্রেক ইস্যুর ক্ষেত্রে আলাদা কোন আইন বা নির্দেশনা এখনও প্রণয়ন করেনি বিএসইসি। তাই স্টক এক্সচেঞ্জের নতুন ট্রেকহোল্ডারদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। শীঘ্রই আইনটি জনমত জরিপের জন্য প্রকাশ করা হবে। আর আইন প্রণয়নের পরপরই নতুন ট্রেক ইস্যু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ডিএসই ট্রেকহোল্ডারের সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে পরিশোধিত মূলধন ন্যূনতম ১০ কোটি টাকা, ডিলারের জন্য আরও ১৫ কোটি টাকা এবং লাইসেন্স ফি ১ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছিল।