১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধোনি কেন সাতে?

 ধোনি কেন সাতে?
  • শচীন-সৌরভের প্রশ্ন

জিএম মোস্তফা ॥ নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় ভারতের। এরপর থেকেই সমালোচনার ঝড় বইছে চারদিকে। মহেন্দ্র সিং ধোনি কেন সাত নম্বরে নামবেন? দীনেশ কার্তিক-হার্দিক পান্ডিয়ারও পরে? এ নিয়েই ম্যাচের পর ক্ষোভ ঝাড়লেন শচীন টেন্ডুলকর, সৌরভ গাঙ্গুলী এবং ভিভিএস লক্ষ্মণ। এই তিন কিংবদন্তিই এক সুরে বলেছেন, ধোনিকে পরে নামানোটা ম্যানেজমেন্টের চরম ভুল সিদ্ধান্ত।

দেশটির সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকর বলেন, ‘এ রকম পরিস্থিতিতে যদি পাঁচ নম্বরে অর্থাৎ হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গাতেও ধোনিকে আনা যেত, হয়তো অন্য কিছু হতো। ব্যাটিং অর্ডার তো পরিস্থিতি অনুযায়ী বদল হয়। সেখানে ধোনি কেন আগে আসবে না?’ লক্ষ্মণ বলেন, ‘ধোনি আর কিছুক্ষণ থাকলেই ম্যাচটা অন্য জায়গায় নিয়ে যেত। ওর আরও ১৫-২০ বল বেশি পাওয়া উচিত ছিল। সেটার জন্য আরও আগে নামতে হতো। কার্তিকের আগে।’ এখানেই থামেননি লক্ষ্মণ। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘ধোনি নিজে কেন কোচ রবি শাস্ত্রীকে গিয়ে বলল না, আমি আগে নামতে চাই? যেমনটা ২০১১ বিশ্বকাপে করেছিল।’

সৌরভ গাঙ্গুলী অবশ্য শাস্ত্রীকে গিয়ে ধোনির নিজে থেকে বলাটাকে সমর্থন করছেন না। তার মতে, ‘২০১১ আর এখনকার পরিস্থিতি ভিন্নরকমের। ২০১১ বিশ্বকাপে তো ধোনি অধিনায়ক ছিল। সেই সময়টাতে ওর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়াটা অনেক সহজ ছিল। আমি ম্যানেজমন্টকে বলব। ওরা কেন ধোনিকে আগে নামানোর সিদ্ধান্ত নেবে না। এটাই তো ওদের কাজ। এই রকম চাপের ম্যাচে, যেখানে উইকেট পড়ে যাচ্ছে দ্রুতই, সেখানে টিমের সবচেয়ে পরিণত এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে কেন আগে নামানো হবে না? যার ব্যাটে দশ হাজারের বেশি রান আছে। তখন তো ম্যাচ ফিনিশ করার ব্যাপার ছিল না। তাহলে ধোনিকে ফিনিশার হিসেবে রেখে দেয়ার মানে কী? কার্তিকের আগে অবশ্যই ধোনিকে নামানো উচিত ছিল।’

এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই ফেবারিটের তকমাটা গায়ে মাখানো ছিল ভারতের। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দলও খেলে দুর্দান্ত। অসাধারণ পারফর্মেন্সের সৌজন্যেই এবার গ্রুপপর্বের বাধা অতিক্রম করে টিম ইন্ডিয়া। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দলের প্রথম সারির তিন ব্যাটসম্যান- রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল এবং বিরাট কোহলি। অথচ সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের নামের পাশে যোগ হয় মাত্র ১ রান করে। ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, ভারত ম্যাচটা এখানেই হেরে যায়।

আর এই ব্যর্থতাই সামনে নিয়ে এসেছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের চার নম্বরের অঙ্ক। এ প্রসঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে টিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটা নিয়ে পরীক্ষা চলেছে। কখনও আম্বাতি রায়ডু, কখনও কেদার যাদব, কখনও দীনেশ কার্তিক। এটা কেন হবে? গত দেড় বছর ধরে এটা নিয়ে অঙ্কই চলেছে শুধু। রোহিত-বিরাট-ধোনি এমনকি পান্ডিয়াকে নিয়েও সমস্যা ছিল না। কারণ পান্ডিয়া অলরাউন্ডার হিসেবে টিমে থাকতই। এর বাইরে মিডলঅর্ডারে আসল জায়গা ছিল চার নম্বর। সেটাই ঠিক হলো না।’

লক্ষ্মণ আবার ঋষভ পন্থের মানসিকতার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঋষভ অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী। ও আমাদের ভবিষ্যত। কিন্তু শট নেয়ার ব্যাপারে ও বড্ড বেশি তাড়াহুড়ো করে। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেট হয়ে যাওয়ার পর স্যান্টনারকে ওভাবে মারতে যাওয়াটা ওর উচিত হয়নি। ওকে শিখতে হবে, কখন কিভাবে শট মারতে হবে।’

এদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রানআউট হয়ে ফেরার পথে টিভিতে দেখা যায়, আউট হয়ে ধোনির মুখে হতাশা। মনে হচ্ছিল, হয়তো কাঁদছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক। এই দৃশ্য দেখেই টুইটারে ঝড়।

মনে করা হচ্ছে, এটাই ধোনির শেষ বিশ্বকাপ। এখনই তার ৩৮ বছর। চার বছর পরেও ধোনি ভারতীয় দলে থাকবেন বলে মনে করছেন না ক্রিকেটবোদ্ধাদের অনেকেই। যে কারণে শেষ বিশ্বকাপ জিততে না পারার ব্যর্থতাতেই কি ধোনির চোখে জল? ধোনির এই ‘কান্না’র ছবি দেখে পুরো সোশ্যাল মিডিয়াই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। কেউ লিখেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নরা কখনও কাঁদে না। তুমি আমাদের দুটো বিশ্বকাপ দিয়েছ।’ কারও লেখায়, ‘আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’ আবার কারও টুইট, ‘তোমার কান্না দেখে আমরাও কাঁদছি।’ অন্য টুইটে লেখা, ‘আমাদের আনন্দ করার প্রচুর মুহূর্ত উপহার দিয়েছ তুমি। তাই কেঁদো না।’