১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতীয় ভক্ত সমর্থকদের প্রতি উইলিয়ামসনের আহ্বান

 ভারতীয় ভক্ত সমর্থকদের প্রতি উইলিয়ামসনের আহ্বান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বিশ্বকাপে এবার নিয়ে অষ্টমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মাত্র দুইবার ফাইনাল পর্যন্ত আসতে পেরেছে। আর সেই ফাইনালে ওঠা টানা দ্বিতীয়বারের মতো। গত বিশ্বকাপে ফাইনালে ট্রান্স-তাসমান চিরশত্রু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে কিউইদের। আরেকটি সুযোগ এসেছে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। হট ফেবারিট ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বিশ্বব্যাপী অগুনতি ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকের হৃদয় ভাঙ্গার পর তাদের প্রতি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন তাদের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ফাইনালে নিজেদের পক্ষে এ বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর সমর্থন চেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়বার শিরোপা লড়াইয়ে জিততে চান উইলিয়ামসন। সে জন্যই তিনি এই বিশাল সমর্থকদের পক্ষে চাইলেন তিনি।

দু’দিন ধরে সেমিফাইনালের লড়াই হয়েছে। বৃষ্টির কারণে প্রথমদিন নিউজিল্যান্ডের ৪৬.১ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিংয়ের পর রিজার্ভ ডে-তে বাকি অংশ আর ভারতীয় ইনিংসের খেলা হয়েছে। লো-স্কোরিং ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২৩৯ রান করেও ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ১৮ রানের জয় তুলে নিয়েছে কিউইরা। এখন তাই বৃষ্টিকেই বরং আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন কিউই অধিনায়ক উইলিয়ামসন, ‘আমরা ভেবেছি ২৪০-২৫০ রান করতে পারলে ভারতকে চাপে রাখতে পারব। আমাদের খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত তা করতে সক্ষম হয়েছে। বৃষ্টি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নতুন বলে আমাদের পেসাররা বাতাসে বল ঘোরাতে পারছিল ভালভাবে। আমাদের দরকার ছিল ভারতের বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনকে চাপে রাখা।’ তবে পুরো ম্যাচেই ম্যানচেস্টারের ওল্ডট্র্যাফোর্ডে ভারত পেয়েছে দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন। সে তুলনায় কিউইদের জন্য মাঠে সমর্থন বেশ সামান্যই ছিল। ভারতীয়দের কাছে ক্রিকেট কতখানি আবেগের খেলা তা এখান থেকে আরেকবার প্রমাণ হয়েছে। এ জন্যই ভারতীয় সমর্থকদের নামডাক বিশ্বজোড়া। বিরাট কোহলিদের হারিয়ে তাদের রাগিয়ে দিলেন কিনা এই প্রশ্নও শুনতে হয়েছে তাই উইলিয়ামসনকে। তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি তারা বেশি রেগে যায়নি। সত্যি কথা বলতে ক্রিকেট খেলার জন্য ভারতীয়দের আবেগ অতুলনীয়। ক্রিকেট খেলা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থক ভারতের। এই দেড় শ’ কোটি সমর্থককে এখন আমরাও নিজেদের ভাবতে পারি। আশা করছি ফাইনালে তারা আমাদের সমর্থন করবে।’

ভারতের সঙ্গে রবিন লীগের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। সেমিতেও ছিল বৃষ্টির বাগড়া। তাই দু’দিনে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে সেমিতে রিজার্ভ-ডে থাকার কারণে। কোহলিদের হারিয়ে উইলিয়ামসন আরও বলেন, ‘ভারত বিশ্বসেরা দল। ওদের দলে দারুণ সব ক্রিকেটার আছে। নির্দিষ্ট দিনে যে কেউই জিততে পারে। দল হিসেবে তাদের প্রতি আমাদের অনেক শ্রদ্ধা। আশাকরি তাদের সমর্থকরা পাশেই থাকবেন, বাস্তবতা বুঝবেন। সত্যি কথা বলতে ক্রিকেট মাঝে মাঝে কঠিন বাস্তবতা উপহার দেয়।’ ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০০৭ ও ২০১১ সালে সেমিফাইনালে উঠেও সেখানেই থেমে যেতে হয়েছিল কিউইদের। ২০১৫ বিশ্বকাপে সেই ফাঁড়া কেটে যায় তাদের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে তারা। তবে অসিদের কাছে পরাস্ত হয়ে শিরোপা অধরা থেকে গেছে। এবার শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে অনেকেই নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এগিয়ে রেখেছিলেন ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে। এর মধ্যে ভারতীয়দের বধ করেছে কিউইরা নিজেই। দ্বিতীয় সেমিতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে একটি দল বিদায় হবে। তাই এখন শিরোপা জেতার সুবর্ণ সুযোগ নিউজিল্যান্ডের সামনে। সেমির ফাঁড়া দীর্ঘ সময় পরে কাটলেও শিরোপা জেতার বাধাটা টানা দ্বিতীয়বার পেয়ে এবার কাজে লাগাতে চায় নিউজিল্যান্ড। আপাতত ফাইনালে উঠতে পেরেই প্রশস্তি উইলিয়ামসনের। তিনি বলেন, ‘এটা ভিন্ন এক অনুভূতি। এখানে যে পিচে আমরা লড়াই করছি তা গত বিশ্বকাপের চেয়ে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। আমাদের দারুণ সব খেলোয়াড় আছে। কঠিন ম্যাচ ছিল এটা। কঠিন সেমিফাইনাল এবং বিজয়ী দলে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। এবার আরেকটি জয়ের জন্য আমাদের দলগতভাবে জ্বলে উঠতে হবে।’ রবিবার ঐতিহাসিক লর্ডসেই হয়তো কিউইদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। সে জন্য বেশ কিছু সময় পাচ্ছে তারা নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে প্রস্তুত হতে।