১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেমির লড়াইয়ে এ কোন্ অস্ট্রেলিয়া?

সেমির লড়াইয়ে এ কোন্ অস্ট্রেলিয়া?

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চৌদ্দ রানেই নেই ৩ উইকেট। তাও আবার এ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিড ওয়ার্নার, পিটার হ্যান্ডসকম্বের মতো ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যান। বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা কি হতে যাচ্ছে তার ইঙ্গিত যেন তখনই মিলে যায়। করুণ দশার মধ্যেই পড়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তা বোঝাই যায়। এরপরও শেষ পর্যন্ত ২২৩ রান করে অসিরা। তা স্টিভেন স্মিথের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

বড় ম্যাচের ক্রিকেটার স্মিথ। সেই স্মিথই শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে টানলেন। দল যে ৪৯ ওভারে ২২৩ রান করে অলআউট হয় এর মধ্যে স্মিথের ব্যাট থেকেই মিলে ৮৫ রান। ৩ উইকেট করে নেয়া পেসার ক্রিস ওকস ও স্পিনার আদিল রশীদ ও ২ উইকেট নেয়া জোফরা আর্চারের তোপ সামলে যেখানে বাকিরা কিছুই করতে পারেননি সেখানে প্রাচীরের মতো উইকেটে দাঁড়িয়ে থেকে ১১৯ বলে ৬ চারে ৮৫ রান করেছেন স্মিথ। অস্ট্রেলিয়া যতদূর যেতে পেরেছে স্মিথের এই অসাধারণ ব্যাটিংয়েই সম্ভব হয়েছে। স্মিথের সঙ্গে এ্যালেক্স ক্যারিও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ১৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর অসিরা ১৫০ রানও করতে পারবে না এমনই ভাবা হচ্ছিল। এই রান টপকে যে দুই শ’ বিশ রানের ওপরে করা গেল তা তৃতীয় উইকেটে স্মিথ ও ক্যারির ১০৩ রানের জুটিতেই ভিত গড়া হলো। শুরুতে ইংল্যান্ড পেসারদের গতির সামনে পড়ে তছনছ হয় অসি ব্যাটিং লাইনআপ। এরপর স্মিথ-ক্যারি মিলে যখন অস্ট্রেলিয়ার স্কোরটাকে মজবুত করছেন তখন স্পিন জাদুর দেখা মিলে। এবার রশীদ বল হাতে নিয়ে ক্যারিকে (৭০ বলে ৪৬ রান) আউট করে দেন। তাতে দলের ১১৭ রানে ক্যারি সাজঘরে ফেরেন। তবে অস্ট্রেলিয়া যেন একটা স্থানে পৌঁছে যায়। যে ধস নেমেছিল শুরুতে তা থেকে মুক্তি মিলে।

ক্যারি যখন আউট হন তখনও প্রায় ২৩ ওভারের মতো বাকি থাকে। বোলারদের দুর্গ হয়ে ওঠা উইকেটে একটু বুঝে খেলা গেলে রান ২৫০ হওয়া সম্ভব। স্মিথতো ছিলেনই। মার্কাস স্টইনিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, প্যাট কামিন্সের মতো ব্যাটসম্যানরাও ছিলেন। তাতে ২৫০ রান খুবই সম্ভব। কিন্তু ইংল্যান্ড পেসাররা একদিকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। আরেকদিকে রশীদ স্পিন ঘূর্ণিতে একের পর এক ব্যাটসম্যান কাত করতে থাকেন। ১৬৬ রানের মধ্যে আরও তিনটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। স্টইনিস ও কামিন্সকে দাঁড়াতেই দিলেন না রশীদ। ম্যাক্সওয়ের (২২) চেষ্টা করেন। কিন্তু আরচারের গতির কাছে হার মানেন। স্মিথ তখনও উইকেট আঁকড়ে থাকেন। একের পর এক ব্যাটসম্যান আউট হন। স্মিথ দেখতে থাকেন। কিন্তু বিচলিত হন না। উল্টো আরও যেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ইংল্যান্ডের অস্বস্তি হয়ে দাঁড়ান।

মিচেল স্টার্ককে দিয়ে ভরসা করা হয়। কিন্তু তা বোলিংয়ে। দলের সেরা পেসার এখন স্টার্ক। কিন্তু এমন বিপর্যয়ে তিনি ব্যাট হাতেও হাল ধরলেন। স্মিথের সঙ্গে কি সুন্দর ব্যাটিং করে গেলেন। যেন পেশাদার ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠেন। অষ্টম উইকেটে গিয়ে স্মিথ ও স্টার্ক মিলে ৫১ রানের জুটিও গড়েন। এই জুটিতে দলও ২০০ রানের ওপরে চলে যায়। যখন দল ২১৭ রানে যায় তখন স্মিথ আর টিকে থাকতে পারেননি। রানআউট হয়ে যান। স্মিথ আউট হওয়াতে সে কি উচ্ছ্বাস ইংলিশ ক্রিকেটারদের। যেন ম্যাচই জিতে গেছেন।

এই রকম উচ্ছ্বাস হওয়ারই কথা। ৪ রানে ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর স্মিথ ব্যাট হাতে নামেন। সেই থেকে যে ইংল্যান্ড পেসারদের ভোগাতে থাকেন তা চলতেই থাকে। অবশেষে ভোগান্তি কমে। স্মিথ আউটের পর আর খুব বেশি এগিয়েও যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ৬ রানের মধ্যে আরও দুইটি উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। যে অল্প রান করে অসিরা, বোলাররা বিশেষ কোন নৈপুণ্য না দেখাতে পারলে যে ১৯৯২ সালের পর আবার ফাইনালে উঠে যাবে ইংল্যান্ড তা বোঝাই যায়। কিন্তু সত্যিই কী তা হলো? স্মিথ একাই লড়ে যান। ওয়ার্নার, ফিঞ্চকে নিয়ে ভয় ছিল। তারা দুইজনই হতাশ করেন। সেখানে স্মিথ আশা জাগান। স্মিথের ব্যাটেই এতদূর যেতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথই শুধু টানলেন অস্ট্রেলিয়াকে।

এই মাত্রা পাওয়া