১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা দলের মনোনয়ন পাবেন না ॥ প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ দলের মধ্যে কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব এমপি নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন তারা আগামীতে দলের মনোনয়ন পাবেন না। নৌকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হয়ে এলাকায় নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আজ শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারী দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা নৌকা মার্কা নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু নিজ এলাকায় এখন নৌকার বিরোধিতা করছেন- এটা তো আমাদের দেখতেই হবে। এটা সহ্য করা হবে না। আগামীতে তারা দলের মনোনয়ন পাবেন না।

বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সংসদে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি তাগিদ দিয়ে বলেন, যার যার এলাকায় যান, দলীয় কর্মকা-ে মনোযোগী হন, নেতা-কর্মীসহ জনগণের পাশে থাকুন, তাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে কাজ করুন। তিনি প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় নিজস্ব দলের কার্যালয় স্থাপনের তাগিদ দিয়ে বলেন, যেসব জেলা বা উপজেলায় নিজস্ব দলীয় কার্যালয় নেই, দ্রুত সেখানে কার্যালয়টি নির্মাণ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দেয়ার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেন। বৈঠকে সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত করা হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলের মধ্যে কোন ধরনের কোন্দল-দ্বন্দ্বে জড়িত না হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কোনভাবেই কোন্দল বা দ্বন্দ্বে জড়িত হবেন না। এ সময় সাবেক এক মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরোধিতা করেছেন। বিরোধিতা করতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন কর্মীর প্রাণ গেছে। এসব কর্মকা- কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। যে যত বড় নেতাই হোন না কেন, দলের বিরোধিতা কিংবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকেই ছাড়া হবে না। অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তাই নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় সেদিকে নজর রাখবেন। উন্নয়নের কাজকে ত্বরান্বিত করুন। মনে রাখবেন, দেশের জনগণ আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছে। জনগণের সেই ভোটের মর্যাদা আমাদের রক্ষা করতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরাম্বিত করতে হবে।

নির্বাচনের এতদিন পরেও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ন্যাম ভবন ও সরকারী বাড়ি না ছাড়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। নতুন যারা মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে মন্ত্রী হয়ে সরকারী বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার পরও ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট দখল করে রেখেছেন। তাদের পিওন, ড্রাইভার, গানম্যানরা এসব ফ্ল্যাটে থাকছেন। ন্যাম ফ্ল্যাট পিওন-ড্রাইভারদের জন্য নয়। ন্যাম ভবনের প্রতি যদি মন্ত্রীদের এতই দরদ থাকে, তবে মন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে এখানে চলে আসুন। আর যারা সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা এখনও বাসা ছাড়েননি, দ্রুত তা ছেড়ে দিতে হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলের ফান্ডে বার্ষিক চাঁদা বাকি থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যেসব সংসদ সদস্যের দলের বার্ষিক চাঁদা বাকি রয়েছে তা দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের কয়েক সংসদ সদস্য তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান। জবাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র জানায়, বৈঠকে সাবেক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, এ কে এম শামীম ওসমান, মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।