১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শঙ্খের ভাঙ্গনে বিলীন বাঁশখালীর শতাধিক বসবতাড়ি

শঙ্খের ভাঙ্গনে বিলীন বাঁশখালীর শতাধিক বসবতাড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী ॥ টানা বর্ষণে শঙ্খ নদীর পানির স্রোর্তে শতাধিক পাকা দালান, বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে শতাধিক বসতবাড়ি। আশ্রয়হীন পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকেই অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে শঙ্খ নদীর বাঁধের উপর, রাস্তার ধারে, আত্বীয়-স্বজনের বাড়িতে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে আরো সহস্রাধিক পরিবার। যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীনহতে পারে ভাঙ্গনের মুখে থাকা বাড়িঘর। এ এলাকার কয়েকশ পরিবার শঙ্খ নদীর ভাঙন এর কবলে পড়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ।

আজ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খ নদীর স্রোতের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী সাধনপুর,খানখানাবাদ ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। গত বছর ইম্বরবাবুর হাট থেকে পশ্চিম দিকে ৪শ কিলোমিটার ব্লক বসালেও তা গিয়ে পুনরায় আবারো ভাঙন দেখা দেখ। দীর্ঘ বছর ধরে নদীভাঙনের সৃষ্টি হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে পরিকল্পিত কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করছে।

জেলেপাড়া সংলগ্ন এক সময়ের নামকরা বাজার ঈশ্বরবাবুর হাট । যেখানে একসময় কয়েকশ দোকানপাট থাকলে ও বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি দোকান রয়েছে মাত্র। জেলেপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জলকদর খালটি একসময় ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার অন্যতম যাতায়াত মাধ্যম। খালের পশ্চিম পার্শ্বে খানখানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া রায়ছটা, পূর্বপার্শ্বে সাধনপুর ইউনিয়নের জেলেপাড়া, কৈবত্য পাড়া, রাতাখোর্দ্দ সহ অন্যান্য পাড়া গুলো অবস্থিত। বর্তমানে প্রতিদিন জেলেপাড়া, কৈর্বত্য পাড়ার বাড়িঘর গুলো শঙ্খের ভাঙ্গনের শিকার হয়ে একে একে বিলীন হতে বসেছে ।ইতিপূর্বে রার্তার কূল সার্বজনীন রক্ষা কালী মন্দির টি প্রায় ৪ বার এই সাঙ্গুর থাবায় ভেঙ্গে যায়। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পানির তীব্র আক্রমনে অধিক ঘর বাড়ি ভাঙ্গনের মুখে পড়ে । পাশাপাশি আরো অর্ধশতাধিক বাড়ি বিলীন হবার পথে। জেলে সমপ্রদায়ের লোকজন জানে না কোথায় গেলে তাদের বাড়ি ঘর রক্ষা করার মত উপায় খুঁজে পাবে । তাই নিরুপায় হয়ে সাগর পানে চেয়ে চেয়ে দিন পার করছে তারা । একসময় জেলেপাড়া, কৈবত্য পাড়াসহ রাতাখোর্দ্দ এলাকা ঘিরে ছিল ৪শতাধিক পরিবারের এক পাড়া । ১৯৯১ এর ঘুর্ণিঝড় এর পর থেকে ভাঙ্গন শুরু হলে সে ভাঙ্গনের তোড়ে নি:স্ব হয়ে কয়েকশ পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয় ।

শঙ্খের ভাঙ্গন রোধে দুপাশে কাজ চলমান থাকলে অদৃশ্য কারনে জেলে পাড়া ও কৈর্বত্য পাড়া এলাকায় কোন ধরনের কাজ হয়না।ফলে প্রতিদিন ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে এ এলাকার জনগনের বাড়িঘর ।

রায়ছটা গ্রাম এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. জাহেদুল হক জাহেদ বলেন, চোখের সামনে প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বাড়ি ঘর । এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে কিছু একটা করা প্রয়োজন। না হয় হারিয়ে যাবে এ জেলে ও কৈর্বত্য পাড়াটি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোড় উপ-প্রকৌশলী ধীমান চৌধুরী বলেন, শঙ্খ নদীর ভাঙ্গন রোধে সাধনপুর রাতাখোর্দ্দ জেলে পাড়ায় খুব শীঘ্রই নদী নতুন কাজ আমরা হাতে নিয়েছি এবং পুকুরিয়া তেচ্ছিপাড়া এলাকায় ভাঙ্গন রোধে ইতি মধ্যে আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে মন্ত্রণালয়ে ডেমেইজ রিপোর্ট পাঠিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হবে।