২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত

তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর ॥ গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষন আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার বিপদ সীমার ২৩ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত করছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হচ্ছে । তিস্তায় পানি বাড়ায় রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তিস্তার তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কাউনিয়া উপজেলা টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তা পানি হঠাৎ করে বাড়ছে। এতে ইউপির বিশ্বনাথ, চরগনাই, হয়বৎখা ও বালাপাড়া ইউপির ঢুষমারা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন শুক্রবার সকালে নদীর তীরবর্তী ১০ গ্রামের হাজারও পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।কাউনিয়ার ইউএনও মোছা. উলফৎ আরা বেগম বলেন, বন্যায় পানিবন্দী মানুষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সার্বক্ষনিক খোঁজ রাখছি। বন্যার ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। জরুরী অবস্থায় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর চর এলাকাসহ নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে পুকুর, মৎস খামারে মাছ, বিভিন্ন আবাদী ফসল তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু পাখি ও ছোট শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারের প্রধান নারী-পুরুষরা। বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকৃত খাবার সমস্যা কারণে অনেকে শুকনো খাবার, আবার কেউ আত্বীয়দের দেওয়া খাবার খাচ্ছে। শুধু এসব সমস্যা নয়, ঘুমানোসহ প্রসাব-পায়খানার সমস্যায় পড়েছে পানিবন্দি মানুষগুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছে পানি। পানিবন্দি মানুষগুলো ভেলায় চলাচল করছে। লক্ষীটারী ইউনিয়নের পানিবন্দি এলাকা বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি দ্রুত এসব মানুষকে সহায়তার আস্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, কোলকোন্দ ইউনিয়নে পশ্চিম চিলাখাল চর, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, খলাইরচর, বিনানিবা চর, সাউদপাড়া বাঁধের ধার, উত্তর কোলকোন্দ বাঁধের ধার, কুড়িবিশ্বা বাঁধের ধারসহ নি¤œাঞ্চলের ১ হাজার ৫’শ পরিবার, মর্নেয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নি¤œ এলাকার ১ হাজার পরিবার, লক্ষীটারীর বাঘের হাট, টাউরাশের চর, ইশরকুলচর, কলাগাছি চর ও বাঁধের ৮’শ পরিবার, নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাঘডোহরা চর ৭ ও ৮ নং ওর্য়াড, বৈরাতি বাঁধের ধারের ৫’শ পরিবার, আলমবিদিতরের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া ও বাঁধের ধারের ৩’শ পরিবার, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর, বোল্লার পাড় ও গান্নার পাড় বাঁধের ধারের ৪’শ পরিবার এবং গজঘন্টা ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নি¤œাঞ্চলের ৫’শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি ৮’শ ৫০ জনের মাঝে চিড়া, মুড়ি, গুড়, দেশলাই, মোমবাত শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে।

পীরগাছা উপজেলার ছাওলা, তামম্বুলপুর ইউনিয়নের চলগুলোতে ১ হাজার মানুষ পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার বিকেলে ৩ টার দিকে কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৫ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে । যা বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । তিনি বলেন তিস্তার নি¤œ এলাকা গুলোতে পানি প্রবেশ করছে । বাঁেধ আ¤্রতি দের অনত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।