২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরবানি সামনে রেখে মসলা জাতীয় তিন পণ্যের দাম বেড়েছে

কোরবানি সামনে রেখে মসলা জাতীয় তিন পণ্যের দাম বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোরবানি সামনে রেখে মসলা জাতীয় তিন পণ্য পেঁয়াজ আদা ও রসুনের দাম বেড়ে গেছে। প্রায় দ্বিগুন দামে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি আদা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-২০০ টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি রসুন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। মসলা জাতীয় এসব পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কারসাজি রয়েছে কি না তা চলতি সপ্তাহ মনিটরিং করা হবে। নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। আষাঢ়ে বৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবজিখেত। এ কারণে সবজির দাম বেড়েছে। ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম কমছে না। কোরবানি সামনে রেখে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। প্রতিহালী ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, ফকিরাপুল বাজার ও মুগদা বড় বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, কোরবানি সামনে রেখে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের অস্বস্তি বাড়ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার অনেক ক্রেতা বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। তবে দাম প্রসঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরায় দাম বেড়ে গেছে। তারা শ্যামপুর বাজার থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ এনে প্রতিদিন বিক্রি করেন। তাই দাম বাড়ার জন্য তারা দায়ী নন। কাপ্তান বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মনির বলেন, গত সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজের দাম একটু একটু করে বেড়ে গেছে। সরবরাহ না বাড়লে কোরবানির সময় দাম আরও বাড়বে। ক্রেতাদের অভিযোগ, কোরবানি আসলেই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রতিবছরই এটা ঘটছে। এর পেছনে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেঁয়াজের প্রধান উৎস ভারতে এখন দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এ কারণে আমদানি পর্যায়েও পেঁয়াজের দাম বেশি। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের এ যুক্তি মানতে রাজি নয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম সামান্য বেড়েছে। আর ওই বাড়তি দামের পেঁয়াজ দেশে এখনই আসছে না। তাহলে এখনই দাম বাড়বে কেন? তিনি বলেন, পেঁয়াজসহ আদা ও রসুনের দাম বেড়ে গেছে। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শীঘ্রই পেঁয়াজের দাম কমে আসবে।

এদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বাজারে শাকসবজির দাম বেড়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের সবজিখেতে পানি উঠে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে সবজির দাম বেশি। গড়ে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি সবজি। তবে কাঁচামরিচের ঝাঁল বেড়ে গেছে। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ না বাড়লে সবজির দাম আরও বাড়বে। এছাড়া ভরা মৌসুমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ তেমন বাড়ছে না। এ কারণে ভোক্তাদের অতিদাম নিয়ে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। দাম বেশি হলেও স্বাদের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ১৮শ’ টাকা। এককেজি সাইজের প্রতিটি ইলিশ ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

তবে বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহ বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পাবদা ৫০০-৫৫০, তেলাপিয়া ১২০-১৮০ টাকা, চিংড়ি (বাগদা) ছোটটি ৬০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি (দেশি) মাঝারি সাইজের ৮০০-১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই, কাতলা ও মৃগেল জাতীয় কার্প মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।