১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নকল ভয়েসে মিলিয়ন ডলার লুট

  • সারতাজ আলীম

ভুয়া খবর বা ভুয়া ভিডিওর চল অহরহই। কিন্তু সম্প্রতি নতুন এক আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুয়া অডিওর সমন্বয়ে একেবারেই আসলের মতো এক ভিডিও যাকে বলা হচ্ছে ডিপফেক। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে আসলের প্রায় কাছাকাছি এক ধরনের ভিডিও নির্মাণ করা হচ্ছে যা আসলে ভুয়া বা ফেক। এই ধরনের ভিডিওর জন্য একজন ব্যক্তির হাজারখানেকের আসল ছবি সংগ্রহ করা হয়। নানা অঙ্গভঙ্গিতে থাকা এসব ছবি এরপর এ্যালগরিদম দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এরপর ওই ব্যক্তির মুখের অবয়ব থেকে শুরু করে প্রায় সব অভিব্যক্তি নকল করা হয়। যেমন বিশেষ কোন শব্দ উচ্চারণ করলে তার চোয়াল কতটুকু উঁচু-নিচু হয় বা চোখের মণি কতটুক ছোট বা বড় হয়। অভিব্যক্তি নির্মাণ শেষ হলে কাছাকাছি চেহারার একজন মডেলকে দিয়ে শূট করানো হয়। শূট করা হয় একজনের ভিডিও কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেটাকে আরেকজনের ভিডিওতে রূপান্তর করে। যেভাবে পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিনেমার ডেভি জোন্স চরিত্রটি নির্মাণের সময় একজনের ভিডিও করা হলেও কম্পিউটার সেটাকে আরেকজনে রূপান্তর করেছিল। পার্থক্য এই যে ওই চরিত্রটি কাল্পনিক এবং সেটার জন্য হাজার হাজার অভিব্যক্তি নির্মাণ করতে হয়েছিল, কিন্তু ডিপফেকের চরিত্রগুলো আসল। আমাদের চোখের দৃষ্টিসীমার নিচে থাকায় নকল অভিব্যক্তিগুলো খালি চোখে ধরা যায় না। একই কায়দায় কারও গলার কণ্ঠস্বরও নকল করছে প্রতারকরা। যেমনটি আমরা মিশন ইম্পসিবল সিনেমায় দেখে এসেছি। ওবামা, পুতিন, জাকারবার্গের এ রকম নকল ভিডিও বেরিয়েছে অনেক আগেই। তবে ডিপফেক প্রযুক্তি দিয়ে এবার অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কণ্ঠ নকল করে এই চুরি করেছে প্রতারকরা। ভিডিও, ফোন কল, কনফারেন্স থেকে দিনের পর দিন অডিও সংগ্রহ করে এই নকল ভয়েস তৈরি হয়েছে।