১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আওয়ামী লীগ সরকার

  মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে আওয়ামী লীগ সরকার
  • দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের কিছু মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসে। তারা নিশ্বাস নিতে পারে না। আজকে আমরা দেশটাকে একটা অবস্থানে নিয়ে এসেছি। এর মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করতে আরও জনমত সৃষ্টি করতে হবে। যেন আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষকে অবহেলা করে তাঁর সরকার দেশ চালায় না। মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ায়। আর মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে তাদের পাশে থেকে কাজ করে। এই নীতি নিয়ে সরকার কাজ করে বলেই আজ দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরও এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না। কোন মানুষই বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে না। অশিক্ষা ও দারিদ্র্য থাকবে না। প্রতিটি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশ সার্বিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠবে, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের জনগণ ও তাদের সমর্থন। যে কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে শক্তিশালী করে জনমত সৃষ্টি করা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদ ও ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী সংসদের অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

টানা দুই মেয়াদের ১০ বছরে তার সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল বলেই আজ আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে। এই এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ আজ বিশে^র বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালী জাতি বিশে^ সম্মান পেয়েছে, মর্যাদা পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এই চলার পথ অতটা সহজ ছিল না, অনেক বাঁধা ছিল। অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যা- এগুলো মোকাবেলা করেই দেশকে এই পর্যায়ে আনতে হয়েছে তাদের। এজন্য জনগণের সমর্থন ছিল, সহযোগিতা ছিল। তারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে বলেই আওয়ামী লীগ দেশকে এতটা উন্নত করতে পেরেছে।

দেশের বর্তমান উন্নয়ন- অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি এ লক্ষ্যে দলকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশ যে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে, উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে- সেটাকে ধরে রাখতে হবে। এজন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন। জনমত সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আর চিন্তা- চেতনাগুলোকে সমন্বিত করে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে, যেন প্রতি পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া যায়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আমরা অবহেলা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা মানুষের সুখ দুঃখের সঙ্গী হয়ে, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করা এই নীতি নিয়েই আমরা কাজ করি বলেই আজকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম।

তিনি বলেন, এখন বৃষ্টি হচ্ছে, বন্যা হচ্ছে, কোথাও নদী ভাঙ্গন হতে পারে বা পাহাড়ে ধস নামতে পারে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত সারাদেশে কোথায় কী ঘটছে খবর নিচ্ছি এবং সেখানে যার যা দায়িত্ব সেটা দেয়া আছে। তারা সঙ্গে সঙ্গে যার যা দায়িত্ব সেটা পালন করে যাচ্ছে। এখনে এতটকু কোন শৈথিল্য নেই। কারণ তাদের সব কাজ আমাকে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাসেজ দিয়ে জানাতে হয়।

দুর্যোগ মোকাবেলায় বিএনপি সরকারে একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৯১ এর ঘূর্ণিঝড়, তখনতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। তারা জানেই না এত বড় একটা ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে। পার্লামেন্টে যখন আমি বললাম, এতবড় ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, এত মানুষ মারা গেছে, তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পার্লামেন্টে বলে দিল ‘যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরে নাই।’ তখন আমি জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম যে, ‘কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে বলেন’-এছাড়া বলার মতো কিছু ছিল না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবেও জনগণের পাশে থাকে। অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারাটা কিন্তু ধীরে ধীরে অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে আমরা কিন্তু হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করেও লাফ দিইনি। আমরা খুব স্থিরভাবে দেশটাকে ধাপে ধাপে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা আরও সামনে যেতে চাই। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। সে পরিকল্পনা আমাদের আছে।

উন্নয়নের এই যাত্রাপথের নানা বাধা বিপত্তির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল না। প্রতি পদে পদে বাধা, অগ্নি সন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরেও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি ৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকে এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে; আজকে বাংলাদেশটাকে আমরা সরকার গঠন করে এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি; সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল দেশের জনগণ, তাদের সমর্থন। আর অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল। সেজন্যই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে।

তিনি বলেন, উন্নয়নে সফলতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। সরকার গঠনের আগে আওয়ামী লীগের কিছু পরিকল্পনা ছিল দেশকে নিয়ে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের নিজেদের একটা চিন্তা-ভাবনা, পরিকল্পনা ছিল। আমরা সরকারে আসলে কী করব? কোথায় যাব? সেগুলোর সবকিছু মোটামুটি একটা তৈরি করা ছিল বলেই আমরা সরকারে আসার পর আমাদের কাজগুলো করতে পেরেছি। যার কারণে দেশটা আজকে এতদূরে আনতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দিনে দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব? সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি। ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করা, জনমত সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। এজন্য দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা আমাদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্কের’ মতো। আপনাদের সকলকে সক্রিয় হতে হবে। আমাদের বিভিন্ন উপ-কমিটি করা আছে। আপনারা মিটিং, সেমিনার করছেন। সেটা অব্যাহত রাখেন।

দেশের অগ্রগতিকে যারা অস্বীকার করেন, ভিত্তিহীন সমালোচনা করেন তাদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশের কিছুলোক থাকে যাদের কোন কিছুই ভাল লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই, কিছু লোক সবসময় এটাকে ভিন্ন চোখের দেখা তাদের অভ্যাস। এরা আসলে কখনও গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় তাদের যেন দম ঘটে। এমন একটা ভাব তাদের। তাদের কাছে মনে হয় যেন অস্বাভাবিক কিছু হলে তাদের খুব দাম বাড়ে।

টানা দুই মেয়াদের ১০ বছরে তার সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দেশের জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল বলেই আজ আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে। এই এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালী জাতি বিশে^ সম্মান পেয়েছে, মর্যাদা পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এই চলার পথ অতটা সহজ ছিল না, অনেক বাধা ছিল। অগ্নি-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও মানুষ হত্যা- এগুলো মোকাবেলা করেই দেশকে এই পর্যায়ে আনতে হয়েছে তাদের। এজন্য জনগণের সমর্থন ছিল, সহযোগিতা ছিল। তারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে বলেই আওয়ামী লীগ দেশকে এতটা উন্নত করতে পেরেছে।

দেশের বর্তমান উন্নয়ন- অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি এ লক্ষ্যে দলকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এদেশ যে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে, উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে- সেটাকে ধরে রাখতে হবে। এজন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন। জনমত সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। আর চিন্তা-চেতনাগুলোকে সমন্বিত করে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে, যেন প্রতি পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়া যায়।

এবারের বাজেট বাস্তবায়নে দলের নেতাদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট দেয়া হয়েছে। এবার নিয়ে ১১তম বাজেট দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই যে ৫ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

দেশকে আরও উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যে লক্ষ্য নিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিটি নাগরিকই তার জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারবে। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে। সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারবে। তাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ হবে। বাংলাদেশ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। সেভাবেই আমরা দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।