১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উত্থান বাংলাদেশের

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ চীনে পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করে আসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সফরে হওয়া এ সকল সমঝোতা বা চুক্তির বাইরেও দুদেশের বহুমাত্রিক লাভ দেখছেন অনেকে। এদের মধ্যে আছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক এমকে ভদ্রকুমার। ২৯ বছর দেশটির ফরেন সার্ভিসে কাজ করেছেন তিনি। বুধবার শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান পাঞ্চলাইন ডট কম’-এ একটি আর্টিকেল লিখেছেন। ‘দ্যা রাইজ এ্যান্ড রাইজ অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের লেখাটিতে বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। খবর নিউজ ইন.এশিয়া ও ওয়েবসাইটের।

ভদ্রকুমার লিখেছেন, শেখ হাসিনার চীন সফর আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানদণ্ড সামনে নিয়ে এসেছে আর তা হলো- আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান। গত বছর ভারতকে ছাপিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (৭.৩%) অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার পথে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। শেখ হাসিনার সফরে যে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে ভদ্রকুমার মনে করছেন তা হলো, এক- চীনের বেল্ট এ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরে (বিসিআইএম-ইআর) বাংলাদেশের পা বাড়ানো। দুই- ডিজিটাল ইকোনমিতে জোর দিতে বাংলাদেশের উৎসাহ। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যেটিকে বলেন, ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’ যা কিনা শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ ব্লুপ্রিন্ট। আর তিন নম্বর হলো- রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদে এবং সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে ফেরাতে চীনের অঙ্গীকার।

সাবেক এ ভারতীয় কূটনীতিকের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বচ্ছন্দ্য এবং সুস্থ গতিবিধির কারণে চীন সন্তুষ্ট এবং তারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ব্যাপারেও পুনরায় নিশ্চয়তা পেয়েছে। শেখ হাসিনার বাস্তবধর্মিতায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যও বোধ করছে- তিনি ভারতপন্থী হিসেবে বিবেচিত হলেও ভারত বলয় থেকে বাইরেই থাকছেন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করছেন, সঙ্গে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোকেও যুক্ত করছেন।